বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বাড়িতে গভীর রাতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা-ভাঙচুর

0

বরগুনা: বরগুনার বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হুমায়ূন কবিরের বাড়িতে শনিবার রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে হুমায়ূন অভিযোগ করেছেন।

তবে তারা হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হুমায়ূন কবির অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যরা নিয়ে শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে নিজ বাড়িতে গতকাল শনিবার রাত ১২টার দিকে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছিলেন তিনি। এ সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধর ধর বলে তাঁর বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে অতর্কিতে হামলা শুরু করে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর হামলাকারীদের সঙ্গে আরও কয়েকজন লোক যোগ দেয়। এ সময় হুমায়ূন ও তাঁর পরিবারের লোকজন দৌড়ে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ হামলায় বাড়ির দুটি ঘর, পাশের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট ও মাফলার দিয়ে মুখ ঢাকা ছিল। হামলাকারীরা ভাঙচুরের সময় বাড়ির আলমারি ভেঙে কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্রও নিয়ে গেছেন বলেও দাবি করেন হুমায়ূন কবির। তবে সোনার পরিমাণ বা কী কী স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তিনি জানান নি।

খবর পেয়ে বেতাগী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারী চলে যায়।

ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর বাড়িতে হামলার অভিযোগে অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম গোলাম কবির।

তিনি আজ রোববার সকালে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রথমে আমার একটি নির্বাচনী কার্যালয় ও একজন হিন্দু ব্যবসায়ীর একটি দোকান ভাঙচুর করেছে। এর জের ধরে আমাদের কিছু কর্মী বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে আমার কর্মীদের নিবৃত্ত করেছি। এর বেশি কিছু হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু দুষ্ট ছেলে বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাশের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দরজা ভাঙচুর করেছে। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। শহরে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ শুরু করেছে।