বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

0
  • User Ratings (0 Votes) 0
    Your Rating:
Summary

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের মুক্তির সকল সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারণ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রত্যেকটি আন্দোলন-সংগ্রামে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের অবদান জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তি এবং দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। দেশ ও দলের বর্তমান সংকটকালে তার মতো ন্যায়-নিষ্ঠাবান এবং দেশপ্রেমিক নেতার বড় প্রয়োজন। আসুন আজ তাঁর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে সকলে মহান আল্লাহর কাছে তার আত্মার মাগফেরাত চেয়ে তাঁর জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করি, আমিন।

Awesome
খন্দকার দেলোয়ার হোসেন
আজ ১৬ মার্চ, ২০১৭, বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক, একুশে পদক প্রাপ্ত, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী, বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১সালের ১৬ মার্চ, বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩ টায় ৭৮ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপির দুঃসময়ে চেতনার বাতিঘর, সাবেক মহাসচিব জনাব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন।

১/১১-তে দেশ ও দলের চরম রাজনৈতিক সংকটকালে জীবন বাজি রেখে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এর অবদান নেতাকর্মীরা কোনোদিন ভুলে যাবে না। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত রুখে দিতে, দৃঢ়চেতা আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের মানুষের মনে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠ থাকবেন।

খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এর কর্মময় জীবন:

১৯৩৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন । তার পিতার নাম মরহুম মৌলভী খোন্দকার আবদুল হামিদ, মাতার নাম মরহুমা আকতারা খাতুন, তারা ৪ ভাই ও ২ বোন, বর্তমানে ভাই বোনদের মধ্যে কেউ বেচে নেই।   স্কুল জীবনের প্রাথমিক দিনগুলি ঘিওরের জোকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাটিয়ে মানিকগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন।এরপর  ১৯৪৯ সালে দেবেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।  ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের ১৩৯ নং কক্ষে আবাসিক ছাত্র থাকাকালে মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।  ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন ও আন্দোলন সংগঠনের কাজে এবং আন্দোলনের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে ব্যাপক তৎপরতার জন্য একুশে পদকে ভূষিত হন। যে মিছিলে পুলিশের গুলিতে রফিক, ছালাম ও বরকত শাহাদাৎ বরণ করেন তিনিও ছিলেন ওই মিছিলে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে অনার্সসহ এম এ (অর্থনীতি) ও ১৯৫৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনে সিলেট সরকারি মুরারীচাঁদ কলেজে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, মানিকগঞ্জের খোন্দকার নুরুল হোসেন ল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী ছিলেন। জনাব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন পাঁচ বার মানিকগঞ্জ জেলা বারের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এ যোগদানের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন জনাব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন  এবং বৃহত্তর ঢাকা জেলা ন্যাপের সহ-সভাপতির নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে প্রথম বার  জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করলে তিনি জাগোদলে যোগদান করেন এবং প্রথম ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।পরে ১৯৭৮ সালে ২৮শে আগস্ট নতুন দল(বিএনপি)গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় দলটির বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন(বিএনপি)দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।অতঃপর ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিকালে রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এর যাত্রা শুরু করেন। নতুন দল বিএনপির আহবায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন।বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই দলটির রাজনীতিতে যুক্ত খন্দকার দেলোয়ার হোসেন সে বছরেই মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ৩রা সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে বিএনপি চেযারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলের মহাসচিবের দায়িত্ব দেন নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য, বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত ও নির্লোভ নেতা জনাব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই বিশ্বাসের পরিপূর্ণ মর্যাদা রেখেছেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ২০০৭ সালে জরুরী অবস্থা জারির পর যে কজন রাজনৈতিক সাহসী ভূমিকা নিয়েছিলেন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ছিলেন তাদের অন্যতম, বিএনপির সেই কঠিন সময়ে জীবন বাজি রেখে দলের বিরুদ্ধে করা সকল চক্রান্ত রুখে দিয়ে শুধু বিএনপিকেই রক্ষা করেন নি, গণতন্ত্রকে রক্ষায়ও বড় ভূমিকা রেখে ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পুনরায় মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জনাব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ঘিওর দৌলতপুর নির্বাচনী এলাকা হতে মোট পাঁচবার(১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদে, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদে এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে)বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের এমপি নির্বাচিত হন এছাড়াও পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম সংসদে সরকারদলীয় এবং সপ্তম সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন।  দীর্ঘদিন পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের সভাপতি ছিলেন তিনি । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর নিজ হাতে গড়া দেশের বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ নীতির সাথে কখনও আপোষ করেননি। বিএনপির একজন নির্লোভ পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। ১/১১’র সেই কঠিন সময়ে তিনি জীবন বাজি রেখেছেন কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।  ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের মুক্তির সকল সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারণ করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রত্যেকটি আন্দোলন-সংগ্রামে খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের অবদান জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তি এবং দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। দেশ ও দলের বর্তমান সংকটকালে তার মতো ন্যায়-নিষ্ঠাবান এবং দেশপ্রেমিক নেতার বড় প্রয়োজন। আসুন আজ তাঁর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে সকলে মহান আল্লাহর কাছে তার আত্মার মাগফেরাত চেয়ে তাঁর জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করি, আমিন।