বিএনপির জাতীয় ঐক্য আগস্টে

0

কেএম সবুজঃবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অতীতে বেশ কয়েকবার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সে আহ্বান প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরলেও এবার সে প্রক্রিয়ার বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী আগস্ট নাগাদ জাতীয় ঐক্যের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য এ নতুন রাজনৈতিক জোটের নেতারা ইতোমধ্যে বিএনপির কাছে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তুলে ধরেছেন বেশকিছু দাবি-দাওয়া।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতারা জাতীয় ঐক্যের প্রতি জোর দেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবি আদায়ের আন্দোলন এবং নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সূত্র জানায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে গণফোরাম, বিকল্প ধারা, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি, সিপিবি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ জোটে যেসব দল রয়েছে তাদেরও এ জাতীয় ঐক্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

সম্প্রতি গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় ঐক্য নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ আগামীতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কেউ বা পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, আইন মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কেউ বা বিভিন্ন অধিদফতরের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধার শর্ত দিচ্ছেন জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়ায়। এছাড়া অন্তত ৫০টি আসন তারা দাবি করেছেন।

গত ১৯ মে ঢাকা লেডিস ক্লাবে রাজনীতিবিদদের সম্মানে বিএনপি ইফতারের আয়োজন করে। সেখানে আ স ম আব্দুর রব, কাদের সিদ্দিকী, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না অংশ নিলেও বি চৌধুরী ছাড়া কেউ মঞ্চে ওঠেননি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাদের সিদ্দিকী ও মান্নাকে মঞ্চে আসার অনুরোধ করলেও তারা অনুরোধ রাখেননি।

বি চৌধুরী বিএনপির ইফতার মহাফিলে গিয়ে তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি চানননি। বরং তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন হতাশার কথা ব্যক্ত করে নতুন শক্তির উদ্ভবের কথা বলেন। তার সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন উপস্থিত সাবেক ছাত্রদলের নেতা বর্তমান এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম।

অপর একটি সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে তিনটি বিষয়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একটি পক্ষ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠন করতে চান না। তারা চান, তাদের নেতৃত্বে আগামীতে সরকার গঠন হোক।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রেখে আপাতত সামনে এগোতে আপত্তি নেই দ্বিতীয় পক্ষের। তৃতীয় পক্ষটি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বাইরে যেতে ইচ্ছুক নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জাগো নিউজকে বলেন, জাতীয় ঐক্য গঠন নিয়ে কাজ চলছে। দলের মধ্যে এসব নিয়ে কথা হচ্ছে। আগামী আগস্টেই এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখা যাবে।

‘আলোচনা চলছে। এ মুহূর্তে বিএনপি সবাইকেই গুরুত্ব দিচ্ছে’- যোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘সবার স্বার্থেই জাতীয় ঐক্য দরকার। শক্ত দলগুলোর সঙ্গে জোট না করলে ভোটের মাঠে ছোট দলগুলোর বড় নেতাদের কদর হবে না। ওইসব দলকে বিএনপিরও দরকার আছে। পারস্পরিক স্বার্থেই একে-অন্যের পাশে থাকা দরকার। বিএনপির সঙ্গে থাকলে আগামীতে তাদের জন্যও ইতিবাচক ফল আসতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘চেয়ারপারসন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। তার সে ডাক-ই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি সব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী ঐক্য চেয়েছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা এ মুহূর্তে জরুরি।

‘তবে নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়টি নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই হয়তো স্পষ্ট হবে’- যোগ করেন তিনি।

জাতীয় ঐক্য নিয়ে জেএসডির আ স ম আব্দুর রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বিএনপির হয়তো আগ্রহ আছে, আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে মতামত দেয়ার সময় এখনও আসেনি। সবকিছুই ভবিষ্যতে বলে দেবে।’

কবে নাগাদ বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আত্মপ্রকাশ ঘটবে- জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য হবে। চলতে চলতেই এর গতি-প্রকৃতি বলে দেবে।’