বাড়ছে চালের দাম যে চাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিলো তা এখন ৭০-৮০ টাকা

0

জিসাফো ডেস্কঃ নাজির শাইল ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব চাল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিলো, যা এখন ৭০-৮০ টাকা। একই সময়ে কিছুটা ভালো মানের মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়। কিন্তু সেই চাল এখন ৫২ টাকা।
গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা স্বর্ণা ও পারিজা চাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা দরে। এ ছাড়া ভালো মানের মিনিকেট কেজিতে ৯ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৪ টাকা দরে, মিনিকেট (সাধারণ) ৬০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৫৮ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৭০ টাকা, পাইজাম চাল ৫৫ টাকা, বাসমতি ৭২ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য আড়তদাররা দায়ী করছেন মিলমালিকদের। আর আড়তদারদের দায়ী করছেন খুচরা বিক্রেতারা। তাদের দাবি, হাওরে বন্যার কারণে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে চালের দাম এতটা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা না।
মালিবাগ বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, আমরা বেশি দামে কিনি, বেশি দামে বিক্রি করি। কম দামে কিনলে কম দামে বিক্রি করতে পারি। কেজিতে দুই টাকা লাভ করলেই যথেষ্ট। তবে বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে চালের এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে অশনি সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন ক্রেতারা।
তালতলা মার্কেটের এক ক্রেতা বলেন, তিন মাসের ব্যবধানে ৪০ টাকার চাল ৭০ টাকায় উঠে গেল, সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। এভাবে কি একটা দেশ চলতে পারে? তিনি বলেন, সরকারের লোকেরা একেক সময় একেক রকম কথা বলছেন। মুখে বলছেন, দেশে চালের কোনো সঙ্কট নেই। আবার বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চাল আমদানির জন্য। বলছেন, পর্যাপ্ত মজুদ আছে।অথচ গত কিছু দিন আগেও সরকারি গুদাম ৫০ দিনের চাল মজুত ছিল।সরকারি লোকজনই সিন্ডকেট করে চলে বাজার চরা করেছে বলে অনেকে বলছে।
মুদি দোকানে গতকাল প্রতি কেজি ছোলা ৮৫ টাকা, দেশী মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা, মাষকলাই ১৩৫ টাকা, দেশী মসুর ডাল ১২৫ টাকা এবং ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। দেশী পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, দেশী রসুন ১১০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন বিক্রি হয় ১৩০ টাকা দরে। ব্র্যান্ডভেদে ভোজ্যতেলের পাঁচ লিটারের বোতল ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৫৩০ থেকে ৫৪০ টাকা, প্রতি লিটারে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হয়। ডিমের দাম বেড়েছে ডজনে ৫ টাকা। ৮০ টাকার ডিম এখন ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২০০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের কারণে বিক্রি কম হলেও প্রতি কেজি গরুর গোশত ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা এবং খাসির গোশত ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে প্রতিটি ইলিশ ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারে প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। প্রকার ভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়।