বাজারে আসছে অতিরিক্ত ২৪০০০ কোটি টাকা, বাড়বে দ্রব্যমূল্য-দুর্নীতি

0

ঢাকা: নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হওয়ায় বাজারে আসছে অতিরিক্ত ২৪ হাজার কোটি টাকা। দুর্নীতি কমানোর জন্যই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এতে দুর্নীতি কমার কোনো প্রশ্নই আসেন না বরং এর সঙ্গে বাড়বে দ্রব্যমূল্য ও বাড়িভাড়াও। যার ভুক্তভোগী হবে ৯৫ ভাগ সাধারণ মানুষ। যদিও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তবে সেটা পরিকল্পনা করে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. তারেক শামসুর রেহমান  বলেন, ‘নতুন বেতন স্কেল দেয়ার ফলে এবছর বাজারে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা চলে আসবে। ফলে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে, জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। আর আমদানিকারকরা তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। সেই সঙ্গে বেড়ে যাবে বাড়ি ভাড়াও।’

মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক এই সদস্য আশঙ্কা করছেন, ‘বাড়ি ভাড়া দ্বিগুণ হবে। কারণ বাড়ির মালিকরা বলবেন- দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, আপনাদের বেতন বেড়েছে তাই ভাড়া বাড়াতে হবে। আর বাড়ি ভাড়া এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে আপনাআপনি পন্থায় দুর্নীতও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হবে। বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা বেশি অসুবিধার মধ্যে পড়বে। বিশেষ করে গার্মেন্টকর্মীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখিন হবে।’

এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার  বলেন, ‘নতুন বেতন কাঠামো দেয়ার ফলে ঘুষ কমবে না। সেবার মানও বাড়বে না। কারণ টাকার চাহিদা বাড়বে। আর এই চাহিদার কোনো শেষ নেই।’

তিনি বলেন, ‘১০০ ভাগ বাড়িভাড়া বাড়বে। কারণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গণপরিবহনের ভাড়াসহ সর্বশেষ বেতন বৃদ্ধিকে পুঁজিকরে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করা হবে। অর্থাৎ বাড়ির মালিক তা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হবেন।’

এদিকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ হওয়ায় ঘুষ-দুর্নীতি কমে যাবে। তবে যারা দুর্নীতিতে অভ্যন্ত হয়ে গেছেন তাদের কথা আলাদা। সেটা কোনোদিনই বন্ধ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সকারি চাকরিজীবীদের এই বেতন বৃদ্ধি বেসরকারি খাতে এর কিছুটা প্রভাব পড়বে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ায় দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভবনা নেই। আর যদি বাড়েও তাতে সরকারের কিছু করার নেই।’

নতুন বেতন স্কেলে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্য এবং বাড়িভাড়া কমবে না বাড়বে এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান  বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বাড়বে তবে খুব একটা নয়। দুর্নীতি কিছুটা কমতে পারে কিন্তু এটা নানা কারণে হয়। আর বাড়িভাড়া বাড়ার সম্ভবনাও কম।’

একমত পোষণ করেছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খানও। তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ায় বাড়িভাড়া বাড়বে না। কারণ অনেক ফ্ল্যাট খালি পড়ে আছে। ভাড়া হচ্ছে না। তবে দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা আছে।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র বেতন দিয়ে দুর্নীতি কমানো যাবে না। সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পাড়লে দুর্নীতি আগের মতোই থাকবে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেয়া হয়। এতে গ্রেড অনুযায়ী সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। এখানে মোট ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। বেতন স্কেলের বাইরে রাখা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মূখ্যসচিব, তিন বাহিনীর প্রধানেরবেতন। যাদের মূল বেতন ৮৬ হাজার টাকা করে।

বর্তমানে যে বেতন চালু রয়েছে নতুন স্কেল অনুযায়ী তা দ্বিগুণ। এই নতুন স্কেলে বেতন পরিশোধ করতে চলতি বছরে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। আর আগামী বছর প্রয়োজন হবে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।