“বাংলাদেশ রক্ষা কর” “Save Bangladesh”

0

বাংলাদেশ এর সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে,- প্রতিরোধ, সচেতনতা এবং প্রচারের লক্ষ্য,- শেয়ার এবং কপি পোষ্ট এর অনুরোধ রইলো। অনেক তো কাশ্মীর নিয়ে প্রতিবাদ চিন্তা চেতনা করেছেন। এবার নিজের দেশের দিকে একটু নজর দেয়া আবশ্যক হয়ে দাড়িয়েছে। ভারতীয় ষড়যন্ত্রে পার্বত্য চট্রগ্রাম কে ‘জুমল্যান্ড’ করার লক্ষ্যে দ্বিখন্ডিত বাংলাদেশ চুক্তি বাস্তবায়নের পথে। দেশের অস্তিত্ব রক্ষা ও পার্বত্য চট্রগ্রামে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত ৬ ই অক্টবর সংসদে উপস্থাপিত পাস হওয়া ”ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন ২০১৬” বাতিলের দাবিতে সেচ্চার হন প্রতিবাদ এবং সচেতনতায় এই কালো আইন প্রতিরোধ করুন।

“পার্বত্য চট্রগ্রাম, ‘জুম ল্যান্ড’ এবং দ্বি খন্ডিত বাংলাদেশ ষড়যন্ত্র”।’পার্বত্য চট্রগ্রাম’ বাংলাদেশের আয়তনের এক দশমাংশ ভূখন্ড। পার্বত্য চট্রগ্রামে (আনুমানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী) ১৩টি উপজাতি গোষ্ঠীর সম্নয়ে ছয় লক্ষ উপজাতি এবং ছয় লক্ষ বাঙালির বসবাস।

‘(বৈষম্য)পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি’ ১৯৯৭ ২রা ডিসেম্বর” সারমর্ম,-

¤জাতীয় সংসদের অগোচরে আওয়ামী লীগ সরকার ও জেএসএস (জন সংহতি সমিতি)এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

¤চুক্তিতে স্বক্ষর করেছেন তদানিন্তন সরকার পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদল্লাহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের পক্ষে অথ্যাৎ উপজাতিদের পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সান্ত লারমা।

¤(বৈষম্য)পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি’ সম্পূর্ণ বৈষম্য ও জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ও সংবিধান পরিপন্থী ছিলো।

¤(বৈষম্য) পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি’র ফলে পার্বত্য চট্রগ্রামে দেশের ১৬কোটি মানুষের নাগরিক অধিকার সম্পূর্ণ ভাবে খর্ব হয়েছে।
পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি সম্পাদনের ফলে দেশের এক দশমাংশ জায়গা পার্বত্য চট্রগ্রামে উপজাতীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে। যার ফলে পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসরত বাঙালীদেরকে আজীবন উপজাতীয় শাসনের শঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়েছে।
বৈষম্য পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্রগ্রাম ‘উপজাতি’ নাগরিকত্ব ব্যতীত পার্বত্য চট্রগাম বাঙালীরা কোন জমি ক্রয় ও বন্দোবস্ত করার বিষয়টি নিষেধাজ্ঞায় রাখা হয়েছিল।

¤এ চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্রগ্রামের চারিদিকে বাঙালীদের জন্য নিষেধাজ্ঞার এক প্রাচীর সৃষ্টি হয়েছিল। পার্বত্য চট্রগ্রামকে উপজাতীয় এলাকা হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছিল, যেখানে উল্লেখ্য ছিল যে, উপজাতির সনদ লাভে ব্যর্থ হলে বর্তমানে পার্বত্য চট্রগ্রামে বসবাসরত ছয়-সাত লক্ষ বাঙালী পার্বত্য চট্রগ্রাম থেকে উৎখাত হতে বাধ্য হবে।

¤পার্বত্য চট্রগ্রাম (বৈষম) চুক্তি মোতাবেক),-
পার্বত্য চট্রগ্রামের সকল সরকারী আধা-সরকারী ও স্বাযত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৯০% শতাংশ উপজাতির লোক নিয়োগ লাভ করার কথা উল্লেখিত থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানে ১০০% শতাংশ উপজাতি নিয়োগের দাবী ‘জেএসএস’ প্রতিনিয়তই করে চলেছে।

¤(বৈষম্য) পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তির সম্পাদনের পর থেকেই বাঙালিদেরকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবী করতে থাকে ‘জেএসএস’।

¤(বৈষম্য) পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি’র পর ভারত থেকে ৬৪ (চৌষট্টি) হাজারের উর্ধে উপজাতীয় শরনার্থী পার্বত্য চট্রগ্রামে প্রবেশ করতে দেখা যায়, যাদের অধিকাংশই পূর্বে শরনর্ণথির তালিকাভূক্ত ছিলনা। তাছাড়া চুক্তির পর প্রায় এক লক্ষ্যের অধিক ভারতীয় উপজাতির লোক ক্রমান্বয়ে পার্বত্য চট্রগ্রামে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করে অবৈধভাবে বসবাস শুরু করে।

‘পার্বত্য চট্রগ্রাম এর পক্ষে বৈষম্য চুক্তি সাক্ষরকারী ‘সন্ত
লার্মা” পরিচয়ে ‘সারর্মম,-

সন্তু লার্মা একজন ভারতীয় মদদপুষ্ট চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ব্যাক্তিত্ব। ১৯৯৭ তৎকালীন সময়ে সন্ত লার্মা পার্বত্য চট্রগ্রামের নিবার্চিক কোন জনপ্রতিনিধি ছিলেন না এরপরেও কিভাবে ৯৭এর (বৈষম্য) পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি সান্ত লার্মার সাক্ষরে সম্পাদিত হয়েছিল তা একটি বিতর্কিত বিষয় ছিল।
পার্বত্য চট্রগ্রামে একচ্ছএ উপজাতীয় শাসন ও বাংগালী বিহীন জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ত্রিশ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে ‘জেএসএস’ এর হোতা ‘সন্তু লার্মা’র বিরুদ্ধে। যুগ যুগ ধরে শান্তিকামী পাহড়ী ও বাঙালীরা পার্বত্য চট্রগ্রামে একই সাথে সহ অবস্থানে বসবাস করে আসছিল সুখে শান্তিতেই, শুধুমাত্র সন্তু লার্মার নিজস্ব সম্প্রদায় চাকমা উপজাতির কিছু লোক এবং ‘জেএসএস’ এর কিছুটা সমর্থন সন্তু লার্মার পক্ষে থাকলেও বাকি ত্রিপুরা, মার্মা, মুরং, কিয়াং, তংচংঙ্গ্যা, খুমী, লুসাই, বোম, ম্রো, বনযোগী ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১৪/১৫ টি উপ-জাতির ৯০% শতাংশ লোকই সন্তু লারমার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করেছে এবং তার বিপক্ষে সকলের অবস্থান।

এবারে লক্ষ্যনীয়,’

‘পার্বত্য চট্রগ্রাম ‘ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন’ ২০১৬” সারমর্ম,-

¤ ‘ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন’ সংসদে গত ৬ ই অক্টোবর পাশ হয়েছে, এবং এটা বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীরা যেমন ভূমিহারা হয়ে রোহিঙ্গাদের মতো উদ্বাস্তু হয়ে যাবে তেমনি সেখানকার সেনাবাহিনী-বিজিবি সকল নিরাপত্তাবাহিনী সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্যহবে, পাশাপাশি দেশের মানচিত্র হয়ে যাবে দুই টুকরা! এই বিতর্কিত আইন পার্বত্য চট্রগ্রামে বাঙ্গালী এবং উপজাতীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ইতোমধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের সম্ভাবনা লক্ষ্যনীয় বিষয়ে পরিনত হয়েছে।

¤ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইন ২০১৬ এর মাধ্যমে,-
কমিশনের সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্ত- কর্মচারী পদে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার প্রদান ক্রমে স্থায়ী অধিবাসীদেরকে নিয়োগ করার বিধান করা হয়েছে।

বলা বাহুল্য,-
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ -একটি কালো আইন ॥ যা ৫২% বাঙ্গালীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। এ আইন উপজাতি সন্ত্রাসীদের জুম্মল্যান্ড রাষ্ট্র গঠনের পথকে ত্বরান্বিত করবে। সংবিধান এবং রাষ্ট্রের অখ-তা বিরোধী এ আইন অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করতে হবে।

লেখকঃ জগৎ শেঠ