বাংলাদেশ মিডিয়ালীগ এর বর্বরতা ও বিএনপির আন্দোলন

0
 সত্য কথাটি সব সময় তিক্ত হয়, কিন্তু সত্য চিরকালই সত্য হয়, সত্য কখনোই মিথ্যা হয়না, হতে পারেনা, আমি জানিনা এই প্ৃথিবী কি সত্যি? আপনাদের কি মনে হয়? বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সত্য কথা বলাও মহাপাপ, তাই নয় কি? সংবিধানের ৫৭ ধারা কি জংলী আইন নয়? এই সত্য কথাটি বলার সৎ সাহসে বলার, বাংলাদেশে প্রকাশ্যে বলার লোক কয়জন আছেন? আছেন কি কেউ? সাংবাদিক আজ নিজেরাই তথ্যসন্ত্রাসী ; এরা আজ সাংঘাতিক, এরাই সমাজের দূরারোগ্য ক্যান্সার সরুপ, না হলে সাগর রুনির বিচার কেন হিমাগারে? বিশ্বজিৎ এর বিচার কই? নারায়নগঞ্জে ১১ হত্যা??? গত ৯ বছরে ৩১৬৩ রাজনৈতিক ব্যক্তি হত্যা করে কোন হিটলার? বেওয়ারিশ লাশ ৬৪৭৮ জনের আসল ঠিকানা কই?? গত ৯ বছরে গুমের শিকার ৩৮৭ জনের খোঁজ কোথায়??? এইসব নিয়ে সংবাদপত্রের মাতামাতি নেই কেন? শুধু ৭১ নিয়েই পড়ে আছেন। ৭১ এর আগে পরে কি আর কোন হত্যা হয়নি? ৭১ এর পরে গত ৪৫ বছরে যারা খুন,গুম, ধর্ষন, ক্রসফায়ার খুন হলো তারা কি মানুষ নন? তারা কী কীটপতঙ্গ? সেজন্য তাদের বিচারের জন্য শাহবাগীলীগ এর যৌনজাগরন হয়না, কেন? আর স্বাধীনতার সোল এজেন্ট, স্বাধীনতা নিয়ে চেতনাব্যবসায়ীরা ও মুক্তিযোদ্ধালীগ এই বিষয়ে মুখে কলুপ এটেছে, কেন? যেন সবাই এক্ষেত্রে আজীবন বোবা…!
 তাহলে সেই ১৯৭২-৭৫, ৭৫- ২০১৫ এ পর্যন্ত সকল হত্যা, খুন, অত্যাচারী কথা সব তথ্য মিডিয়ায় ব্লাক আউট কেন? কার স্বার্থে ব্লাক আউট? ইতিহাস এই কুকুর আর বেশ্যা মার্কা সাংবাদিকদের জ্যান্ত কবর দেবে ! আমি নিশ্চিত, সত্যিকারের সৎ সাহসী সাংবাদিক কি একজনও বাংলাদেশ এ জীবিত আছেন? আমার তো মনে হয়না, আজ বাংলাদেশে গনতন্ত্রের ৃত্যুর জন্য এরাও সমানভাবে দায়ী, এই তথাকথিত সাংবাদিক কুকুরের চেয়েও জঘন্য, ওদের দেখলেই আমার বমি আসে… শুধু একাত্তরে খুন নিয়ে মিডিয়ার আকাশ বাতাস ভারী, মনে হয় মিডিয়া হাউসের টয়লেটের টিস্যুও রাজাকার আর ফাঁসি বলে চিৎকার করে সারাদিন। মিডিয়া হাউসের টয়লেটের মল মুত্র ও রাজাকার শব্দের পঁচা গন্ধে পচেগলে একাকার ! বাংলাদেশে এরাই বাগদাদী আর হিটলারের গোয়েবেলস, কিন্তু কেন? গত ৯ বছরে ৭৮৯৩ জন নারীকে ধর্ষন করা হয়েছে, কারা করেছে? চেতনালীগ নিশ্চয় ! এগুলো নিয়ে মিডিয়ায় হৈ চৈ নেই কেন? কেন নেই কোন শাহবাগীলীগ এর যৌনজাগরন? চেতনার লিংগ উত্থানেই মজা…..!! মিডিয়া পারলে যেন চেতনালীগের উত্থিত লিংগে আরামদায়ক মলম লাগাতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করে ! সাব্বাশ মিডিয়ালীগ…. জয় বাংলা।
12434722_1106257486059852_1634208986_n       12421352_1106257792726488_374678130_n
এখন বলে দিলেই হয় যে আওয়ামীলীগ ছাড়া কেউ কেউ মিডিয়ায় কথা বলতেই পারবেনা।ব্যস, নব্য বাকশাল কায়েম, আসুন বগল বাজাই, আসুন উল্লাস, নৃত্য করি,আহা বেশ বেশ বেশ ! আচ্ছা, জাহাঙ্গীরনগর এর সেই ধর্ষকলীগের সভাপতি মানিক কই?? সে তো ধর্ষন এ সেঞ্চুরি করেছিল , লেডি কিলার কাম লেডি হিটলারের সহায়তায় সেই সোনার মানিক আমাদের বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, কই মিডিয়ায় এই নিয়ে কয়দিন মাতামাতি হয়েছে? আসলেই মিডিয়া আমাদের সেই মানিকের সোনাকেই চুমু খেয়েছেন, মিডিয়া হয়তো ভেবেছে তাদেরও এই রকম সোনাই দরকার ! যে সোনা চেতনালীগ নামে ১০০ নারীকে একাই পালাক্রমে ধর্ষন করতে পারে? আমার ইচ্ছে হয় জানতে চেতনালীগ আর ধর্ষনলীগের এর ভায়াগ্রা কি রেন্ডিয়ায় তৈরী হয়? হে বেশ্যা মিডিয়া মনে রেখ, এই জাতি তোমাদের সব ভন্ডামীর বিচার করবেই করবে ! এই অবিচার এর বিচার হবেই হবে !
এই তথাকথিত মিডিয়ার মাথায় আছে শুধু ৭১ সালের নারী ধর্ষন, কেন? বাকী ধর্ষন কি ধর্ষন নয় ? ২০১৩ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর এ মার্চ ফর ডেমোক্রেসি আন্দোলনে খোদ সুপ্রিমকোর্ট প্রাংগনে যে নারী অবমাননা, লাঞ্চনা হলো তা এই বাংলাদেশ শোধ দিবে কিভাবে? তার বিচার কই? কোথায় 12435612_1106262879392646_122989188_nপ্রধানবিচারপতি? কোথায় আটর্নী জেনারেল মাহবুব? উনি কি শুধু ৭১ এ তথাকথিত যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক আটর্নী জেনারেল? কোথায় তুরিন আফরোজ? কোথায় জিয়াদ আল মালুম? কোথায় রানা দাসগুপ্ত? কোথায় গোলাম আরিফ টিপু? আজ দেখলাম গত ১১ মাসে ধর্ষন হয়েছে ৭৪৬ জন, কারা এই ধর্ষক? ক্ষমতাসীনরা নিশ্চয়, কিন্তু মিডিয়ায় সেটা নিয়ে ফলোআপ কই? নাকি লীগ ধর্ষন করলে সেটা পবিত্র স্বাধীনতার চেতনার পক্ষের পবিত্র সংগম বলে বিবেচিত হবে? নারীবাদীরা কই? তাদের তো আর এই বিষয় নিয়ে আর কোন বক্তব্য দিতে দেখাই যায়না, কোথায় খুশী কবির? কোথায় মিতা হক? কোথায় জাফ্রিক ইকবাল? কোথায় চুন্নী সাহা? কোথায় শামসুল হক? কোথায় কবির চৌধুরী? কোথায় ইনু নামের কুকুর? কোথায় হাসান ইমাম? কোথায় মইনুদ্দিন বাদল ? কোথায় রাশেদ মেনন? কোথায় নবনিতা সাহা? কোথায় শ্যামল দত্ত? কোথায় প্রথম আলোর মতিউর রহমান? কোথায় মাহফুজ আনাম? কোথায় ব্যারিস্টার তানিয়া আমির? কোথায় মহাভন্ড মোহাম্মদ এ. আরাফাত? কোথায় এটিএম শামসুজ্জামান? কোথায় গাফফার পাগল? কোথায় নঈম নিজাম? কোথায় পীর নামের ভন্ড সাংবাদিক? কোথায় মঞ্জুরুল ইসলাম চুলবুল? কোথায় মোজাম্মেল বাবু? কোথায় টসলিমা নাসরিন নামের রেন্ডিয়ার বেশ্যা? কোথায় নাসিরউদ্দিন ইউসুফ? কোথায় শমী কায়সার? কোথায় সুবর্না মোস্তফা? কোথায় তারে নারে হালিম? শুনলাম তারে নারে হালিমের নাকি যৌনাংগে ঘাঁ হয়েছে সেই ঘাঁয়ের নাম ফেসবুক, তাই তথ্যবাবা নামক গৃহপালিত ডাক্তার বলেছেন ফেসবুক বিষয়ক ঘাঁ নিরাময়ের জন্য কয়েকদিন সেই ফেসবুক বন্ধ রাখতে হবে ! যে কথা সেই কাজ….!! ২১ দিন বন্ধ ছিল ফেসবুক… আর এই ফাকে জুনায়েদটা তারেনারের বুকেই শুয়ে
ছিল ! নিচে আর নামতে পারেনি ! এখন ২১ দিন পর গতকাল তারেনারে হালিমের যৌনাংগে ঘাঁ সেরেছে তাই এখন ফেসবুক খুলে দেয়া হয়েছে ! তারেনারে হালিমের সব পথ এখন পিচ্ছিল ! মানুষের নিস্পাপ রক্তে আর বেওয়ারিশ লাশে দেশের পথ, ঘাঁট, জমিন, খাল -বিল, নদী নালা, সাগর সব লাল রক্তিম কিন্তু তবুও মিডিয়ালীগের সেই দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই, তারা অন্ধ, বধির, একটাই জিনিস বোঝে যে ৭১ এর চেতনা, এ ছাড়া বাংলাদেশ এ আর কিছুই নেই ! মিডিয়াতে ২৪ ঘন্টা টুংগিপাড়ার গাঁজাখোর ঈশ্বর আর তার কন্যার বিদঘুটে স্তুতি, যেন টুংগিপাড়াই সমস্ত বাংলাদেশ আর গাঁজাখোর ঈশ্বরই আমাদের খাওয়ায় পড়ায়…!!! আর কন্যাই আমাদের মধ্যম আয়ের দেশ বানিয়ে দিল…. এ কী উন্মাদনা ! আহারে ! টাকু পঁচাগমখোর আর আরেক টাকু নাসিম যখনি বললো :: # ২০২১ সালেই বাংলাদেশ হবে মালয়েশিয়া, সিংগাপুর….. একথা শুনে আমার তো খুশীতে মলত্যাগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তিনদিন, কি দারুন মিডিয়ালীগের খবর ! এও কী ভাবা যায় ! কিন্তু তখনি খোদার কি ইশারা যে, মালিয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এর বনে জংগলে, সাগর পাড়ে আর ইন্দোনেশিয়াতে ২২৩৪ জন বাংলাদেশী মানুষের সলিল সমাধি আর গনকবর এর সন্ধান ! আচ্ছা, এরা কি বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে বলে মহাখুশীতে আর বেজায় আহ্লাদে উল্লাসিত হয়ে সাগর বক্ষে হানিমুন করতে গিয়েছিল? তারা কি বগলবাজাতে আর উদ্দানৃত্য করতে অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়েছিল?  নাকি তারা থাইল্যান্ড এর গহীন বনে লেডি হিটলার পরিচালিত মাছুয়া হানিফ প্রযোজিত, ইনু মিডিয়ালীগ স্পন্সরকৃত ***তথ্যবাবাই ২০৪১ এর ওভারমায়ার বন্য টারজান *** ছবির শ্যুটিং দেখতে গিয়েছিল? আবার কিছুদিন পরে শুনলাম ভুমধ্যসাগরেও ৩১৩ জন বাংলাদেশীর সলিল সমাধি , আচ্ছা মধ্যম আয়ের দেশের জনগনের আবার ভূ মধ্যসাগরে অবৈধভাবে পাড়ি দেয়া কেন? মিডিয়ালীগ চুপ কেন?? জবাব চাই ! তারা কি চেতনালীগ এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে বলে এই মহা আনন্দে গ্রীসে স্কক্রেটিসের বাড়ীতে উদ্দাম নৃত্য করতে গিয়েছিল? এই মানুষগুলোর করুন, নির্মম মৃত্যু, জুলুম আর এই অস্বাভাবিকতা, দুর্যোগ, মানবতার অবক্ষয় কি তথাকথিত মিডিয়াকে একটুও নাড়া দেয়না?
বাংলাদেশ এ মিডিয়ালীগের আয়োজনে ও প্ররোচনায় মিডিয়ার সারাক্ষন একই স্লোগান ***কম গনতন্ত্র বেশি উন্নয়ন ***** ভিশন ২০২১ বা ২০৪১ *** বা মধ্যম আয়ের দেশ বাংলাদেশ *** বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ ৭৫০০০০০০০০ বিলিয়ন ডলার ***** আহা কি মজা ! কিংবা ** সাগর জয় করলেন আমাদের সাগর লেডি হিটলার, কিংবা সাউথ সাউথ পুরস্কার দুনিয়াতে আর কেউ পায়নি, পেয়েছেন টুংগিপাড়ার কন্যা, কিংবা চ্যাম্পিয়নস অব আর্থ কেউ পায়নি আর, পেয়েছে শুধু লেডি চ্যাম্পিয়নস হিটলার…. বা পূর্বাচলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ভবন হচ্ছে, কিংবা মেট্রোরেল কালকেই চালু হবে, বিদেশীরা ১০০০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, বংগবন্ধু স্যাটেলাইট গতকাল থেকে টুংগিপাড়ায় গাঁজাখোর এর কবরের মধ্যে চালু হয়েছে, রুপপূর এ পারমানবিক বোমা বানিয়ে ফেলেছে লেডি হিটলার , সেই পরমানু বোমার নাম **দাদাবাবুর সোনায় মজা ***, কিংবা পদ্মা সেতু দিয়ে আগামীকালই চেতনালীগ এর যানবাহন চলবে উদ্ধোধন করবেন আমাদের ফাটাকেষ্ট কাদের আর লেডি হিটলার…. আহা বেশ বেশ বেশ !
আসুন সন্মানিত পাঠক বন্ধুরা, এত উন্নতির জোয়ারে আসুন প্যাণ্ট, লুংগি খুলে মায়ার লুংগি ড্যান্স দেই যেখানে জামাই সাঈদের স্নাইপারে মরে বিরোধীদল আর বেনজির আর জিয়া মহাপরিকল্পনাতে ব্যস্ত প্রতিদিন কয়টা জল্লাদকে র‍্যাবে নিয়োগ দিবে আর কিভাবে সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন কয়টা লাশ গুম বা নিশ্চিহ্ন করা যাবে, টাকু কামরুল ৪৪৫ কোটি টাকার কীট পতঙ্গ যুক্ত পঁচা গমকে আবুল মার্কা জনগনকে খাওয়ালেও ওদিকে দুদকের নড়চড় নেই, উনারা তো এখন দায়মুক্তি কমিশন। উনারা ব্যস্ত বেগম জিয়াকে অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলাতে দূর্নীতি হয়েছে কি হয়নি সেটা নিয়ে, মিডিয়ায় ও তাই ! বিশ্বজিৎরা মরলেও মিডিয়া টু টা শব্দ করতে চায়না কিন্তু রাজীব কিংবা অভিজিৎ মরিলেও জামায়াত বিএনপি নিষিদ্ধ করতেই হবে স্লোগান , মিডিয়ায় তোলপাড় ! আহারে ! বাংলাদেশে পেট্রোল বোমার জনক ইনুকে না ধরে , পেট্রোল বোমার নিয়ন্ত্রক লেডি হিটলারের কথা না বলে পাইকারি হারে মিডিয়ার চাউর *** খালেদাই আগুন সন্ত্রাসী ***; হে মিডিয়ালীগ, বলি পেট্রোলবোমায় জডিত ৭২% লোকই তো চেতনালীগ করে তো তাদের নামে একটি মামলা নেই কেন? আর এই তথ্য মিডিয়ায় নেই কেন? বিরোধী দলের প্রতি ইবলিশ, ফেরাউন, নমুরুদ ও তো এত নির্দয় হতে পারেনা, তোমরা কি মানুষ নামের নর্দমার কীট? 12404128_1106263639392570_1126663766_n    
হে মিডিয়ালীগের চামচারা, বলি নরসিংদীর লাইনে চলাচলকারী বিআরটিসির বাসে পেট্রোলবোমা কিভাবে আজিমপুরে গিয়ে লাগে??12435574_1106263649392569_459530867_n বিআরটিসি বাসের ককি পাখির মত ডানা আছে যে সে উড়ে গিয়েছে আজিমপুরে? এই বিষয় নিয়ে মিডিয়ায় কোন হৈচৈ নেই কেন?? গভীর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে খুব দ্রুতগামী যে বাসটাতে পেট্রোল বোমা মারা হল তার গতি ছিল ১২০ কি মি., এবং গাড়িটির আগে পিছনে পাহাড়া দেয়া পুলিশ ছিল, আমার প্রশ্ন হলো বিরোধীদলের কাছে এমন নি অস্ত্র আছে যা দিয়ে এত নি:ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যেও এত দ্রতগামী বাসে একদম নিখুঁতভাবে পেট্রোল বোমা মারা যায়? এটা কি আদৌ সম্ভব? মিডিয়ায় এ ঘটনাসম্পুর্ণ উল্টা দেখান হয়েছে, কিন্তু কেন ? কার স্বার্থে এই লুকোচুরি? কার স্বার্থে এই হলুদ সাংবাদিকতা? এই মিডিয়া কি এভাবে স্বৈরাচারকে, ফ্যাসিবাদীকে সাহায্য করে প্রকারান্তরে গনতন্ত্রকে আর গনতান্ত্রিক আন্দোলনকে হত্যা করছে না ? কেন? রেশমা নাটক জেনেও চুপ কেন মিডিয়া? তাজরিনের ৭০০ জনের অধিক আদম সন্তান জ্যান্ত কাবাব হলেও মিডিয়ায় নেই আআজ কোন আলোড়ন, কেন? রানা প্লাজার ১৫০০ জনের অধিক খুন হলেও তার খলনায়ক মুরাদ জং কই? মিডিয়া তার ব্যাপারে চুপ কেন? সীমান্তে হত্যা, রামপাল বা টিপাইমুখ বাধঁ নিয়ে মিডিয়া কিছুই বলেনা কেন?? মিডিয়া কি ইন্ডিয়ার কেনা গোলাম? মিডিয়া কেন শুধু ৭১ নিয়েই আছে? ফাঁসির আসামী ৯১৭ জন থাকলেও কেন জামাত বিএনপির ফাঁসি নিয়েই টানাটানি? ফাঁসি কবে হবে? ফাঁসির জল্লাদ শাহজাহান মুত্রত্যাগ করলো কিনা? ফাঁসির রশি কোন দেশ থেকে আনা হল, ফাঁসির মঞ তৈরী কিনা? জল্লাদ রাজুর অনুভূতি কি? ফাঁসি কখন হবে? মিডিয়ায় ললাইভ ববক্তব্য? কেন? বলি বসনিয়াতে ১০ মিলিয়ন হত্যাকারী স্বৈরাচারের ফাঁসির দিনেও তো সেখানকার মিডিয়া এরুপ করেনি। ! তাহলে বাংলাদেশের মিডিয়ার এই আদিখ্যেতা কেন? কি সেই লুকানো শয়তানী ইচ্ছা? দেশকে স্বাধীনতার পক্ষে বিপক্ষে ভাগ করে তরুন সমাজকে বিভক্ত করে পালাক্রমে ভারতের অংগরাজ্যে পরিনত করা ? তা না হলে স্বাধীনতার ৪৫ বছরে কিসের এই বিভাজন? যুদ্ধ করে দুনিয়াতে বহু দেশই স্বাধীন হয়েছে কিন্তু সেসব দেশে কি এইরুপ বিভাজিত সমাজব্যবস্থা আছে? জাতিগঠনে, জাতির ঐক্যের জন্য মিডিয়ার কি কোন নৈতিক দায়িত্ব নেই ? শাহবাগীলীগ ১১ জন নিয়ে মিছিল করলেও বার বার মিডিয়াতে ৪ মিনিট ধরে ভিডিও ক্লিপ সন্ত্রাস, কিন্তু কেন? অথচ একই দিন বিএনপি ১০০০ জন নিয়ে মানবন্ধন করলেও মিডিয়ায় নেই, প্রেসক্লাবে বিএনপির সেমিনারের কথা ৫ সেকেন্ডেই শেষ, কেন?? মিডিয়ার এই পক্ষপাতী মনোভাব কি আরেক গৃহযুদ্ধকে আহবান করছে না? এটা কি গনতন্ত্রের সহায়ক?
আপনারা জানেন বাংলাদেশের একবিংশ শতাব্দীর সাংবাদিকতা জগতের শ্রেষ্ঠতম সিপাহসালারর মাহমুদুর রহমান কেন জেলে? তিনি স্বাধীনচেতা মানুষ। তাঁর নিজস্ব চিন্তা আছে, আমাদের মমনে রাখতেই হবে যে, খেয়ে না খেয়ে ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণার নাম 12435582_1106264472725820_317193555_nআধুনিকতা বা প্রগতিশীলতা বা কমিউনিজম নয়….. কমিউনিজম আর নাস্তিকতাবাদ এক নয় ::::: মনে রাখতে হবে আস্তিক/নাস্তিক ভাগ শুরু হয়েছিল স্নায়ু যুদ্ধের সময় থেকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চিনের বিরুদ্ধে বেসামরিক যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল হিসাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা প্রচার করেছিল কমিউনিজম নাস্তিকের ধর্ম। তার বিরুদ্ধে জেহাদ ঈমানী কর্তব্য। তারা আমাদের ধর্মপ্রাণ মানুষ আলেম ওলামাদের বিভ্রান্ত করতে পেরেছিল, কারণ কমিউনিস্টদের একাংশ নিজেদের নাস্তিক বলে জাহির করত এর ফল তাদের জন্য ভাল হয় নাই ইতিহাস তার প্রমাণ। এতে ধারণা তৈরী হয়েছে নাস্তিকতাই প্রগতিশীলতা। কিন্তু কমিউনিজমের যাঁরা গুরু মার্কস বা লেনিন তারা কখনই ধর্মের বিপরীতে নাস্তিকতাবাদ প্রচার করেন নি। কিন্তু ধর্মের নামে জালিমের ওপর শোষণ নিপীড়নের বিরোধিতা করেছেন। গণমানুষের দরদী যে কোন মোমিন মুসলমান যে কাজটি সবসময়ই করে থাকেন। একই সঙ্গে বারবার বলেছেন, ইতিহাসে ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে যখন ধর্ম জালিম শাসক ও তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করেছে। বাংলাদেশে আজ আমরা সেই পরিস্থিতির মধ্য প্রবেশ করেছি কিনা তার বিচার আমি আপনাদের ওপর ছেড়ে দেব। ফলে ‘বামপন্থী’ হলেই ওদের প্রগতিশীল ভাববেন না। যাদেরকে মওলানা ভাসানীর মতো আমরা মজলুম, নিপীড়িত শোষিত মানুষের পাশে দেখি না, দেখি শেখ হাসিনার বাদশাহী টিকিয়ে রাখবার গর্হিত কাজে, তাদের ‘প্রগতিশীল’ বলে মানবার কোন যুক্তি নাই। তারা সারাদেশের গরিব, শোষিত নিপীড়িত তরুণদের ‘তরুণ’ বলে স্বীকার করে না। স্বীকার করে না কলকারখানায় যারা এদেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখবার জন্য দিনের পর দিন তাদের রক্ত ক্ষয় করে যায়, যারা পুড়ে মরে, কারখানা ভেঙে চাপা পড়ে, জ্যান্ত কবর হয় । মিডিয়ার পরোক্ষভাবে কিংবা প্রত্যক্ষভাবেই তাদেরকেই হাইলাইট করা হয় যারা কম্যুনিজমকে নাস্তিকতাবাদ আর নাস্তিক্যতা বাদকে আবার যারা আধুনিক প্রগতিশীল বলে মুখে ফেনা তুলে, টকশোতে বলে প্রতিষ্ঠা করতে চান….. এটাও মিডিয়ালীগের ভণ্ডামি ! যার ফলে আজকের কোমলমতি শিশু কিশোর বা ঊঠতি বয়সের যুবক তরুন তরুনীরা বাকশালীর মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য পাচ্ছে, তাদের মনোজগতটাকে, ততাদের সুকুমার বৃত্তিটাকে একদম ঠান্ডা মাথায় ধবংস করা হচ্ছে, এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে দেশের মেধাবী প্রজন্মকে ধবংস্প্রায় করে ভারতের সেবাদাস বানানো !
বাংলাদেশের যে সকল ‘তরুণ’ দেশে দেশে শ্রমিক হয়ে বুকের জল পানি করে এদেশে অর্থ পাঠায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখে তারা ‘প্রজন্ম’ নয়। প্রজন্ম হোল তারাই যারা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দেয়। দিন রাত আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের পাহারায় ও পুলিশি নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে বিচার মানি না শুধু ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ বলে উৎসব করে। ভেবে দেখুন আমরা গণমাধ্যমের বদৌলতে কী পরিমান মিথ্যা ও অবাস্তব জগতে বাস করছি। প্রপাগাণ্ডা ও মিথ্যচারেরও একটা সীমা থাকে। রাজনীতির বোঝাবুঝি থাক, কেউ কমিউনিস্ট হোক বা না হোক, ‘তারুণ্য’ আর ‘প্রজন্ম’ নামক শাহবাগী ধারণার মধ্যেই যে এদেশের গরীব অত্যাচারিত, নির্যাতীত শ্রমিক ও খেটে খাওয়া জনগণকে অস্বীকার করার তত্ত্ব নিহিত রয়েছে সেটা বোঝার জন্য কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। সেইসব কোটি কোটি বাংলাদেশের সত্যিকারের তরুণ যাদের ঘামে ও রক্তে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে তারা নয়, শহরের তরুণদেরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি অংশ– একমাত্র তারাই নাকি তরুণ। আবার শাহবাগীরাই দেশের একমাত্র ‘ব্লগার’ নয়, আরও বহু চিন্তা ও মতের ব্লগার আছে। কিন্তু গণমাধ্যম আজ তাদেরকেই ‘প্রজন্ম’ বলে হাজির করছে যদের অনেকে ধর্মের বিরুদ্ধে ও মহানবী হজরত মোহাম্মদের পর্নো-জীবনী লিখবার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তখন তারা চেয়েছিল ‘আমার দেশ’ বন্ধ হয়ে যাক। আজ আমার দেশ বন্ধই হয়ে গেলো, কেন বন্ধ হল? এই পত্রিকাটি তারা জ্বালিয়ে দিতে চায়, পড়ে কূটবুদ্ধি করে ফ্যাসিবাদী কায়দাকানুন করে পত্রিকা অফিস জ্বালিয়ে দেয়, এসময় অন্য মিডিয়া বা সাংবাদিক বা সংবাদপত্র কেন প্রতিবাদ করলোনা ? আজ সাংবাদিকররা নগ্ন দলীয়করনের ক্যান্সার আক্রান্ত । সাংবাদিকদের মধ্যে কোন ঐক্য নেই, তাই ভবিষ্যতেও যদি এরুপ অন্য এক নতুন সরকার এসে যদি প্রথম আলো বন্ধ করে দিতে চায় তখন তো আজকের আক্রান্ত *আমার দেশ * প্রথম আলোর পক্ষে দাঁড়াবে না। এটাই বাস্তবতা। তারা চায় মাহমুদুর রহমানকে বন্দী করে আজীবন রাখতে। মাহমুদ আমার বন্ধুর মত । আমি তাঁকে ও তার পরিবারকে ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখেছি।আমি শ্রদ্ধা করি তাকে আজীবন। তিনি ভয়টয় পান না। আমার শ্রদ্ধেয়া আপা তাঁর সহধর্মিনী পারভিনেরও ভয়ডর নেই। কিন্তু এই লড়াইতে আমি আবেদন করি যার যার বিশ্বাস ও রীতি অনুযায়ী মাহমুদুর রহমান ও তাঁর মা ও পরিবারের প্রতি দোয়া, আশীর্বাদ ও সংহতি জানাতে। আজ বাংলাদেশ খুব কঠিন লড়াইয়ের সম্মুখিন। গণমাধ্যমের মিথ্যাচারের কারনে আমরা যেন সংগ্রামে বিভিন্ন পক্ষের শ্রেণি চরিত্র বুঝতে ভুল না করি।
আমাদের দেশে বাঙালি আছে, চাকমা, আছে, মান্দিরা আছেন আরও অনেক জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতি আছে। তাদের মধ্যে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা ও পরস্পরের মধ্যে আদানপ্রদানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলা সহজেই সম্ভব। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং পরস্পরের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবন যাপনে সামাজিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সেটা খুবই সম্ভব। কিন্তু যদি ‘বাঙালি’রা বলে তাদের সংস্কৃতিই রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে একমাত্র জাতীয় পরিচয়, রাষ্ট্রের ভিত্তি হিশাবে সকলকে এই ‘বাঙালিত্ব’ স্বীকার করতে হবে, তখনই সেটা অন্য ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তাকে রাজনৈতিক ভাবে চ্যালেঞ্জ করে।12421488_1106276522724615_1528883561_n
অথচ বাঙালি আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের আত্মপরিচয় এ ব্যাপারের কোন সন্দেহ নাই, এবং সেই পরিচয় স্বীকার বা ত্যাগ করবারও কোন প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু আপনি ‘বাঙালি’ বলে যদি দাবি করেন যে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ই আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ, একে সাংবিধানিক ভাবে রাষ্ট্রনীতির অন্তর্ভূক্ত করতে হবে, তাহলে আপনি চাকমাসহ পাহাড়ি ও সমতলের অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তাকে রাজনৈতিক ভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন। পাহাড়িরা তা মানবে না, মানে নি, মানবার কথাও নয়। তাদের আর্জি, আকুতি কিছুই আপনি শুনলেন না। বাঙালি জাতীয়তাবাদকেই রাজনৈতিক, রাষ্ট্রনৈতিক ও সাংবিধানিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন। তখন কি হবে? প্রথমে তারা প্রতিবাদ করবে। মানবেন্দ্রনাথ লারমা প্রতিবাদ করলেন, আপনি শুনলেন না। তখন তারা আন্দোলনে নামলেন, আপনি তারপরেও শুনলেন না। এরপর তারা তাদের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য অস্ত্র ধারণ করলেন। আপনি যেমন পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সত্তা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ভারত থেকে সহায়তা পেয়েছিলেন তারাও ভারত থেকে সহযোগিতা পেলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের রণধ্বনী বাংলাদেশকে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল। যার ক্ষত আমরা এখনও শুকিয়ে উঠতে পারিনি। নতুন করে ১৫দশ সংশোধনীতে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে এখন আবার নতুন বিষফোঁড়া হিশাবে গাড়া হয়েছে। সামাজিক, ভাষিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ‘রাজনীতিকরণ’বলতে কী বোঝায় তা আশা করি পরিষ্কার। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জায়গা থেকে না বুঝলেও অভিজ্ঞতা থেকেই আপনারা জানেন ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদির রাজনীতিকরণের অর্থ কি। এমনকি সেকুলার বনাম ইসলাম এভাবে রাষ্ট্রের ভিত্তির তর্ক তুলেও এই আকাম আপনি করতে পারেন। যদি বলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশের সকলের একমাত্র রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়, বাঙালি ছাড়া আমরা আর কোন জাতিসত্তাকে রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকার করি না, তাহলে অন্যদের আপনি দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করলেন। তারা তখন প্রতিবাদ জানাবে, শক্তি থাকলে অস্ত্র হাতে আপনার মতোই নিজেদের আত্ম-মর্যাদা ও আত্ম-পরিচয় রক্ষার জন্য আপনার বিরুদ্ধে লড়বে। আপনার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়বে। পারলে রাষ্ট্রকে দুই ভাগ করে ফেলবে। তাই বলছিলাম বাংলাদেশের প্রথম গৃহযুদ্ধের কথা ভাবুন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ কি বাংলাদেশের প্রথম গৃহযুদ্ধে্র উস্কানিদাতা হিসাবে হাজির হয় নি? বিজাজিনের বিষবাস্প ছড়িয়ে দিয়ে কুখ্যাত মিডিয়ালীগ তো এই কাজই করে যাচ্ছে, তাই নয় কি? মিডিয়ালীগের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে কি রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হয় নি? কিন্তু এরাই আবার ধর্মকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে না সেই দাবি তোলে, ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তাহলে এরা কী মোনাফিক নয়?
মনে রাখবেন গৃহযুদ্ধ আওয়ামী লীগ লাগাতে জানে। আওয়ামী লীগ মনে করে তারাই দেশের একমাত্র মালিক, ফলে সকল ক্ষমতারও মালিক। এখন তারা দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরু করেছে। নতুন যে পরিস্থিতি তারা তৈরি করেছে তাতে সমাজকে তারা দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। একদিকে আছে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা আর অন্যদিকে আছে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ। যারা অবশ্যই ভাষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বাঙালি, কিন্তু একই সঙ্গে ধর্মও তাদের সংস্কৃতির অংশ। ধর্ম তাদের আত্ম-পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু যদি আপনি নিরন্তর আর বারবার দাবি করেন ভাষা ও সংস্কৃতিই আপনার মূল পরিচয়, ধর্ম নয়, তখন নতুন এক বিরোধ আপনি তৈরী করেন। সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্র অতিক্রম করে ভাষা ও সংস্কৃতিকে যদি রাজনৈতিকতা ও রাষ্ট্রের স্তরে উন্নীত করে আপনি দাবি করেন, এই স্তরে – অর্থাৎ আপনার রাজনৈতিক পরিচয়ে শুধু ‘বাঙালিত্বই’ স্বীকার করা হবে, ইসলামকে স্বীকার করবেন না। তখন আপনি যেমন ভাষা ও সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক ঝাণ্ডা বানিয়ে সামনে দাঁড়ান, তখন আপনি চান বা না চান, প্রতিপক্ষ হিশাবে ইসলামও তার ধর্মের ঝাণ্ডা নিয়ে সামনে দাঁড়ায়। দাঁড়াতে বাধ্য। দাঁড়াবার শর্ত তৈরি হয়ে যায়। বাঙালিকে আপনি বিভক্ত করেন। একদিকে থাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা আর অন্যদিকে ইসলাম ও ধর্মের মর্যাদা রক্ষার জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষ। আপনি তখন তাদের ধর্মান্ধ, গোঁড়া, পশ্চাতপদ এবং খুব অপছন্দ হলে ‘রাজাকার’ গালি দিয়ে থাকেন। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য বিশ্বের সহযোগিতায় তাকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নেমে পড়েন। আজ শেখ হাসিনার সরকার সেই দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরু করেছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষকে ‘বাঙালি’ ও ‘মুসলমান’ – এই দুই ভাগে ভাগ করে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছে। মানুষের ধর্মানুভূতিকে আহত করা হয়েছে।
 
হে জঘন্যমিডিয়ালীগ আর তার কুশীলবগন, যদি আপনি নিরন্তর আর বারবার দাবি করেন ভাষা ও সংস্কৃতিই আপনার মূল পরিচয়, ধর্ম নয়, তখন নতুন এক বিরোধ আপনি তৈরী করেন। সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্র অতিক্রম করে ভাষা ও সংস্কৃতিকে যদি রাজনৈতিকতা ও রাষ্ট্রের স্তরে উন্নীত করে আপনি দাবি করেন, এই স্তরে – অর্থাৎআপনার রাজনৈতিক পরিচয়ে শুধু ‘বাঙালিত্বই’ স্বীকার করা হবে, ইসলামকে স্বীকার করবেন না। তখন আপনি যেমন ভাষা ও সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক ঝাণ্ডা বানিয়ে সামনে দাঁড়ান, তখন আপনি চান বা না চান, প্রতিপক্ষ হিশাবে ইসলামও তার ধর্মের ঝাণ্ডা নিয়ে রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে সামনে দাঁড়ায়। দাঁড়াতে বাধ্য। দাঁড়াবার শর্ত তৈরি হয়ে যায়। যারা ইসলামে বিশ্বাসী তারা নিঃসন্দেহে নাস্তিকতার বিরোধী – এটা তাঁর ঈমান-আকিদার অংশ। কিন্তু কেউ যদি নাস্তিক থাকতে চায় – সেটা তার নিজের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের দায় দায়িত্ব তার নিজের। নাস্তিকদের সঙ্গে মোমিন মুসলমানের সামাজিক কোন ঝগড়া নাই। ফলে কাউকে যখন তখন মুরতাদ বলা বা তার বিশ্বাসের জন্য শারিরীক ভাবে ক্ষতি করা মোমিনের কাজ হতে পারে না। সমাজে নাস্তিক আছে, থাকবে। সামাজিক কোন ঝগড়া নাই। আপনার ছেলেও নাস্তিক হতে পারে। আপনি তাকে বুঝান, ঘরের মধ্যে বুঝান, নাস্তিকতাও একটা আদর্শ হতেই পারে। অসুবিধা নাই। কিন্তু আপনি যখন নবী রসুলদের বিরুদ্ধে এমনসব কুৎসিত ও কদর্য ভাষায় লেখেন, লেখালিখি করেন, তখন কি হবে? একে দিনের পর দিন যখন প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তখন বোঝা যায় পরিকল্পিত ভাবে আপনি বাংলাদেশকে হিংসার পথে নিয়ে যেতে চান। ব্লগে নবীকরিম সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লেমের বিরুদ্ধে যে কদর্য ভাষায় লেখালিখি হয়েছে তা কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব। কিন্তু বাকশালীর মিডিয়ায় এই নিয়ে কোন হৈচৈ হয়েছে কি? কেন হয়নি ? এটা কিন্তু নতুন না। সবসময়ই সেকুলারিজমের নামে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে বাংলাদেশে এইসবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে এইসব চিন্তার স্বাধীনতা। এখন শাহবাগের কিছু ব্লগারের কীর্তিকাহিনী প্রকাশ হয়েছে বলে নয়। শেখ হাসিনা তো এই ধরনের ব্লগারদেরই প্রশ্রয় দিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কেউ দুই একটি মন্দ কথা লিখেছে বলে তাদের তাদের জেলে ঢুকিয়েছেন তিনি। কিন্তু কুৎসিত ভাষায় লেখা এই ব্লগগুলো এর আগে রাষ্ট্রের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ গণ্য করা হয় নি। এটাকে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে উসকানি দেবার জন্যই প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে রয়েছে পাবলিক অর্ডার নষ্ট করতে পারে এমন কাজ করা যাবে না। আমাদের বিচার বিভাগের নজরে আনার পর তারা সুনির্দিষ্ট ভাবে এইসব ব্লগ ও ব্লগারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।শেখ হাসিনার সরকার কোন ব্যবস্থা নেয় নি। রাষ্ট্র কোন কিছুই করে নি। উলটা দেখছি এই ধরণের ব্লগারদের নিয়েই শাহবাগের ‘প্রজন্ম’ গঠিত হয়েছে। যারা এই দেশের মানুষের ধর্মানুভূতিকে সচেতন ভাবে আহত করেছে তারা আজ শেখ হাসিনার মদতপুষ্ট হয়ে বরং মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে উল্টা উসকানি মূলক বক্তব্য দিচ্ছে। পত্রিকা পোড়াচ্ছে। ফলে আমাদের খেয়াল করতে হবে এ ধরনের উসকানির জন্য শেখ হাসিনা সরকার এবং বর্তমান রাষ্ট্র ষোল আনা দায়ী। আজ উস্কানিদাতারা মাহমুদুর রহমানকে উস্কানি দাতা বলছে এবং সরকার তাকে গ্রেফতার করবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ব্লগের কুৎসিত লেখাগুলো আগে ইনকিলাবে ছাপা হয়েছে সেগুলো মাহমুদুর রহমান তুলে ধরেছেন, যারা নিজেদের এইধরণের ব্লগার এবং এক্টিভিস্ট বলে দাবি করেন বাংলাদেশে তারাই ‘তরুণ’, তারাই নাকি ‘প্রজন্ম’। শাহবাগ তাদেরই গণজাগরণ হচ্ছে। তারপরও ব্লগার রাজিবের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করতে হবে আমাদের। কিন্তু যিনি তার ছেলেকে হারিয়েছেন সেই ছেলের মায়ের যেমন ব্যথা, তার বাবার যেমন ব্যথা, মনে রাখতে হবে ঠিক একইভাবে একটা ছেলে যদি ইসলামি রাজনীতি করে, আপনি তাকে পছন্দ না করতে পারেন, সমর্থন করতে না পারেন, কিন্তু সে যখন মারা যায়, তাকে যখন গুলি করে মারা হয়, তার বাপের ব্যথা মায়ের বেদনাও আপনাকে শুনতে হবে। কিন্তু বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা সেটা শুনতে পায় না। শেখ হাসিনা শুনতে পাননা। আপনি শুনতে পারেন না, আপনি তার মায়ের ব্যথা শুনতে কিন্তু রাজি নন। কারন সে নাকি ইসলামি রাজনীতি করে। সে বাঙালি জাতীয়তাবাদী নয়। ইতিমধ্যে যাদের রাজপথে কিংবা ক্রসফায়ারে বা গুমে, খুনে প্রাণ হারিয়েছে আমরা সুশিল বা পেশাজীবী মহল , এমনকি তাদের নিয়েও আমরা কথা বলি না, কিন্তু কেন? । তাদের নিয়ে মিডিয়াতে আমরা কথা বলি না, আর মিডিয়াললীগ ও একদম চুপ কেন? মানবাধিকার কর্মীরাও কথা বলেন না কেন? তারা কি মানুষ নন? তাদের রক্ত কি মূল্যহীন?
হে মিডিয়ালীগ, আপনি দাবি করছেন আপনি তরুণ প্রজন্ম, আমি আজ সকালে এক তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কথা বলি, যে তরুণ প্রজন্ম শাহবাগে যান। আমি তাদের প্রশ্ন করিঃ আপনারা ‘তরুণ’ কিন্তু যে তরুণকে পুলিশ রাজপথে পাখির মত গুলি করে হত্যা করল সে কি তরুণ নয়? সে তাহলে কোন প্রজন্ম? তাহলে কি তারা জন্তু জানোয়ার? আপনি যদি ইসলামের কথা বলেন তাহলে আপনি ‘তরুন’ হবেন না, নিজেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী না ভাবলে আপনি তরুণ প্রজন্মের লোক নন? এটা কি করে হতে পারে? তাহলে এই যে বিভক্তিটা টানা হচ্ছে তার ভিত্তিটা কি? যে গণমাধ্যমগুলো প্রজন্ম প্রজন্ম করছে — লক্ষ লক্ষ মানুষ, কোটি কোটি মানুষ, শত কোটি কণ্ঠস্বরের কথা বলছে তারা কাদের কথা বলছে? এরাই কি মিডিয়ালীগ নয় যারা শাহবাগীলীগ কেই বাংলাদেশ বলে ধোকা দিয়েছিল আর আজো দিয়ে যাচ্ছে ? সারা বাংলাদেশের কত শতাংশ তরুন যুবক লোক শাহবাগে এসেছিল? তাহলে এরাই কি সারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ত করতে পারে? তারা কারা? যে গণমাধ্যম এগুলো বলছে তারাও দেশকে আজ দুইভাগে ভাগ করে ফেলেছে। প্রত্যেকটি গণমাধ্যম উসকানির জন্য দায়ী। এই ধরণের প্রত্যেকটি গণমাধ্যমকে প্রমাণ করতে হবে, আগামী দিনে যে বিশৃংখলা হবে তার শর্ত তারা তৈরি করেছে দিনের পর দিন, তারা সাংবাদিকতার নামে পলিটিক্যাল এক্টিভিস্টের ভূমিকা পালন করেছে, তাদের একদিন নিশ্চয়ই জবাবদিহি করতে হবে। সাংবাদিকতার ভূমিকা এরা কেউ পালন করে নি। এরা সবাই চোর, বিশ্ববেহায়া বেঈমান  ! এটা খুব পরিষ্কার থাকতে হবে, উসকানির ক্ষেত্রে যে গণমাধ্যমগুলো আর বাকশালের প্রেতাত্মা ১০০ ভাগ দায়ী, আজকে তারাই উলটা মাহমুদুর রহমানকে উসকানিতে অভিযুক্ত করছে। করে যাচ্ছে, আপনাদের যদি মাহমুদুর রহমানের কোন সংবাদের ব্যাপারে আপত্তি থাকে, থেকে থাকত, তার কোন লেখার ব্যাপার আপত্তি থাকে, সেটা নিয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা করা যায়, আলোচনা করা উচিত। আমিও বাংলাদেশে বা বিদেশে যে কোন স্থানে ওপেন চ্যালেঞ্জ এ আলোচনা করতে রাজি আছি। কিন্তু যারা উসকানি দিচ্ছে, আগেও দিয়েছে প্রতিনিয়ত তাদের উসকানির ব্যাপারে কিছু মিডিয়ালীগ কিছুই বলছেন না, কিন্তু যেভাবেই হোক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে ঢোকাবার জন্য আপনারা ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি বিনাবিচারে আজ দীর্ঘদিন কারাগারে, কেন? হায় মিডিয়ালীগ এত কুৎসিত আপনারা?
বন্ধুরা, আসুন জেনে নেই কিভাবে সংবাদ শব্দটি আসলো:::::::::::::::::
ইংরেজি news এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো সংবাদ। জার্মান শব্দ ‘new-yo’ ও ল্যাটিন ‘neweo’ থেকে এর উৎপত্তি। দু’টিরই অর্থ ‘নতুন কিছু’। সংবাদ কী? কুকুর মানুষকে কামড়ালে সংবাদ হয় না, কিন্তু মানুষ কুকুরকে কামড়ালে তা সংবাদ হয়। সাধারণত যা একেবারেই দৈনন্দিন ও স্বাভাবিক ঘটনা, তা সংবাদ হয় না, কেননা এতে সংবাদ হওয়ার কোন বৈশিষ্ট্য নেই। কিন্তু যা ঘটার নয়, যা অস্বাভাবিক এমন কিছু বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকে। তাই এগুলো সংবাদ হয়। আর যারা এসকল সংবাদ নিয়ে কাজ করেন তারা সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো সাংবাদিক হওয়া। অথচ সাংবাদিকতা পৃথিবীর কঠিনতম কাজগুলোর একটি। ‘সাংবাদিক’ বা ‘সাংবাদিকতা’ শব্দটা শুনলেই অনেকে আতকে উঠেন আবার অনেকে হাসি-তামাশা বা ফালতু কাজ বলে উড়িয়ে দেন। কারণ হলো, কোন কোন নামধারী সাংবাদিক কখনো বা সত্যকে মিথ্যা আবার মিথাকে সত্য বানিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে মিডিয়ালীগের কাজই হলুদ সাংবাদিকতা করা, এরা সততা, সাধুতা, সত্যবাদীতা ও বস্তুনিষ্ঠতার বদলে অসত্য ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে ‘হলুদ’ সাংবাদিকতায় নিজেকে নিমজ্জিত করে ফেলেন। আর স্বৈরাচার এর চামচামি করতেই ভালবাসেন। এই সাংবাদিকরাই গনতন্ত্র হত্যাকারী, তবে একথা স্বীকার করতে হয় যে, সংবাদমাধ্যম বা মিডিয়া দেশের দর্পন স্বরূপ। একটি সব্য সমাজ নির্মানে সাংবাদিকতার ভূমিকা অসীম। সত্য-সুন্দর ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা হিসেবে পরিগনিত। এটি একটি পবিত্র পেশা। যেখানে রয়েছে আমানতদারিতা ও সততার অপূর্ব নিদর্শন। সাংবাদিকতা হল সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদন ও জনসাধারণের নিকট তা তুলে ধরার প্রক্রিয়াই হলো সাংবাদিকতা। সংবাদপত্র হলো সমাজের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আর সাংবাদিকরা হলেন সেই প্রতিচ্ছবির রূপকার বা নেয়ামক। যিনি সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদন ও প্রকাশের দায়িত্বে নিয়োজিত তিনিই সাংবাদিক। এ পেশার জন্য দরকার সৃজনশীল, চিন্তাশীল ও ধৈর্যশীল মানুষের। ধৈর্যশীল ব্যক্তি ছাড়া সাংবাদিকতায় ক্যরিয়ার গড়া প্রায়ই অসম্ভব। মূলত, একটি সভ্য সমাজ ও জাতি বিনির্মানের কারিগর হলো সাংবাদিক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একথা স্বীকার করতেই হবে, এ পেশায় আজও সিংহভাগ জনশক্তিই অনাড়ি। তারা অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী ও প্রশিক্ষণহীন। সাংবাদিকতায় পড়ালেখা করে এ পেশায় এসেছেন এমন লোকের সংখ্যা নিতান্ত নগন্য। পড়ালেখা করাতো দূরে থাক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এমন লোকই বা কোথায়। অথচ একটি সম্ভাবনাময় ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা আজ দেশে-বিদেশে অনেক উঁচু মাপের পেশা। পৃথিবীতে যতগুলো পেশা আছে সাংবাদিকতা তার মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। সাংবাদিকতায় অধ্যায়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ পেশায় প্রবেশ করলেই যোগ্য সাংবাদিক পাওয়া সম্ভব।
 
হলুদ সাংবাদিকতা ::::::::( Yellow Journalism) The term was coined by Erwin Wardman, the editor of the New York Press. Wardman was the first to publish the term but there is evidence that expressions such as “yellow journalism” and “school of yellow kid journalism” were already used by newsmen of that time. Wardman never defined the term exactly. Possibly it was a mutation from earlier slander where Wardman twisted “new journalism” into “nude journalism”. Wardman had also used the expression “yellow kid journalism” referring to the then-popular comic strip which was published by both Pulitzer and Hearst during a circulation war. In 1898 the paper simply elaborated: “We called them Yellow because they are Yellow.” (হলুদ সাংবাদিকতার জন্ম হয়েছিল সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম দুই ব্যক্তিত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জোসেফ পুলিৎজার আর উইলিয়াম রুডলফ হার্স্টের মধ্যে পেশাগত প্রতিযোগিতার ফল হিসেবে। এই দুই সম্পাদক তাদের নিজ নিজ পত্রিকার ব্যবসায়িক স্বার্থে একে অপরের অপেক্ষাকৃত যোগ্য সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কর্মচারীদের অধিক বেতনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ব্যক্তিগত কেলেংকারির চাঞ্চল্যকর খবর ছেপে তারা পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। পুলিৎজারের নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ও হার্স্টের নিউ ইয়র্ক জার্নালের মধ্যে পরস্পর প্রতিযোগিতা এমন এক অরুচিকর পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে পত্রিকার বাহ্যিক চাকচিক্য আর পাঠকদের উত্তেজনা দানই তাদের নিকট মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।) বর্তমানে বাকশালের মিডিয়া কি সেই কাজটাই করে যাচ্ছেনা? জাতির বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন রইল সেটা। New York press Said::: # The term was coined in the mid-1890s to characterize the sensational journalism that used some yellow ink in the circulation war between Joseph Pulitzer’s New York Worldand William Randolph Hearst’s New York Journal. The battle peaked from 1895 to about 1898, and historical usage often refers specifically to this period. Both papers were accused by critics of sensationalizing the news in order to drive up circulation, although the newspapers did serious reporting as well. An English magazine in 1898 noted, “All American journalism is not ‘yellow’, though all strictly ‘up-to-date’ yellow journalism is American!” # ফ্র্যাঙ্ক লুথার মট ( Frank Luther Mott ( জন্ম : April 4, 1886 inRose Hill, Iowa – মৃত্যু: October 23, 1964 inColumbia, Missouri) was an American historian and journalist, who won the 1939Pulitzer Prize for History for his book, A History of American Magazines.) এই মহৎ ব্যক্তি হলুদ সাংবাদিকতার পাঁচটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন: ১. সাধারণ ঘটনাকে কয়েকটি কলাম জুড়ে বড় আকারের ভয়ানক একটি শিরোনাম করা। ২. ছবি আর কাল্পনিক নক্সার অপরিমিত ব্যবহার। ৩. ভুয়া সাক্ষাৎকার, ভুল ধারণার জন্ম দিতে পারে এমন শিরোনাম, ৪. ভুয়া বিজ্ঞানমূলক রচনা আর তথাকথিত বিশেষজ্ঞ কর্তৃক ভুল শিক্ষামূলক রচনার ব্যবহার। ৫. সম্পূৰ্ণ রঙিন রবিবাসরীয় সাময়িকী প্রকাশ, যার সাথে সাধারণত কমিক্স সংযুক্ত করা হয়। ৬. স্রোতের বিপরীতে সাঁতরানো পরাজিত নায়কদের প্ৰতি নাটকীয় সহানুভূতি। বাংলাদেশ মিডিয়ালীগ কি সেই কাজটাই করছে না?12434319_1106265612725706_1237570166_n
বিএনপি কি করে হলুদ মিডিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে? আমি সব সময়েই আন্দোলনের কৌশল নিয়ে কথা বলি যে প্রত্যেকেই তার অর্জিত সাংগঠনিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগান, আপনি ভালো করেই জানেন যে, আপনার এলাকার লোকজন কিভাবে হলুদ মিডিয়ার নৈরাজ্য থেকে বাঁচতে পারে, আমি এটা অকুণ্ঠচিত্তে সমর্থন করি, আপনিই জানেন কিভাবে আপনার এলাকায় প্রচারনা চাকাবেন, তারপরও কিছু কথা থাকে আর তা হল যুগে যুগে কালে কালে আন্দোলন এর ধরন পরিবর্তন হয় আর হতে থাকে এটাই দুনিয়ার নিয়ম। আমি মনে প্রাণে চাই বিএনপি অতি শীঘ্রই আন্দোলন এ পরিপূর্ণ সফলতা পাক, তাই আগামীতে বিএনপি আন্দোলন ভবিষ্যতে কি কি উপায়ে যুক্তিননির্ভর ১০০% গনমুখী, গনমানুষ এর আকাং্খিত আন্দোলন করলে নিশ্চিত সফলতা পাবে তা নিয়ে ২ ধাপে কথা বলব  :
আন্দোলনের প্রথম ধাপ:
গনসমাবেশ, বিভাগীয় শহরে মহাসমাবেশ, বাড়ী বাড়ী, এলাকায় ব্যাপক গনসমাবেশ, পাড়ায় মহল্লায় গ্রাম, গঞ্জে, হাটে ঘাটে প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের কাছে অডিও, ভিডিও, ডকুমেন্টারি সহ আওয়ামীলীগ এর বিরুদ্ধে তথ্যপপ্রমানসহ ব্যাপক গনসমাবেশ। তাছাড়া গুরুতপূর্ণ জায়গায় নিউজপেপার ( সংবাদপত্রের) স্টান্ড, ইন্টারনেট ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী পাঠাগার তৈরী করা যেতে পারে, যাতে করে এলাকার মানুষ অনলাইনে সত্য খবর জানতে পারে, যতটা সম্ভব অনলাইন নিউজপেপার, বিএনপির তত্তাবধানে অনলাইনে তথ্যভিত্তিক জ্ঞানময় সংবাদপত্র চালু করা দরকার, এটা সময়ের দাবী, আর এই সংবাদপত্রকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে গড়ে তোলার জন্য ২ টি কাজ করতে হবে :::::: ১. ১০০% সত্য খবর প্রচার করা। ২. ব্যাপক প্রচার করা, সম্ভব হলে প্রথম তিনমাস ফ্রি সংবাদপত্র দেয়া। তাই ব্যাপক প্রচারণার জন্য দরকার হলে ২ মাস দেশব্যাপী যার যার এলাকায় এক্ষনি কর্মসুচী এর প্লান করুন। আর বিশ্বস্ত সিনিয়র নেতাদের তদারকিরর দায়িত্ব দিন, ঐসব কেন্দ্রীয়য় নেতারা জেলায় জেলায় থানায় থানায় ডিজীটাল প্রজেকশন এর মাধ্যমে জনগণকে দেখাবে আওয়ামীলীগ ৯ বছরে কি কি অপকর্ম করেছে।।।। ভাই বোন বন্ধুরা, এই কাজটা সবচেয়ে জরুরি। এই কাজে দেশে বিদেশে আওয়ামীলীগ আরো বহুলগুনে চাপে পড়বে। এটা আবহমান বাংলার মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে, বাংলার মানুষ সহজেই অতীতকে ভুলে যায়, তাই তাদেরকে আওয়ামীলীগ এর কেলেংকারি বার বার জানাতে হবে।
বিএনপির আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ  :
ব্যাপক গনসমাবেশ এ মানুষের কাছে আওয়ামীপন্থী এর গত ৯ বছর কূকীর্তিগুলো পূরোপুরি বলার পর জনগুরুত্বপূর্ন ইস্যুতে যেমন: যানজট, লোডশেডিং, নারায়নগঞ্জে ১১ হত্যা, বিশ্বজিৎ হত্যা, ফারাক্কা ইস্যু, টিপাইমুখ বাধ ইস্যু, পদ্মাসেতু দূর্নীতি, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, হলমার্ক, ডেসটিনী, মন্ত্রী, এমপিদের দূর্নীতি নিয়ে ঢাকায় মানব- বন্ধন, র‍্যালী, প্রতীকী অনশন, দু একটা জনগুরুত্বপূর্ন বিষয়ে হরতাল দিন, জাষ্ট শুরু করুন। এর সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধকালে বিএনপির অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধ এর সঠিক ইতিহাস তরুন সমাজকে জানাতে প্রতিটি জেলায় জেলায় মুক্তিযোদ্ধা তরুন সন্মেলনের আয়োজন করুন যেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ললেখা কবিতা, গল্প, ছড়া, প্রবন্ধ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠান এ তরুনদের খুব আকর্ষনীয় পুরস্কার দেয়া যেতে পারে , মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল, আর জাসাস কিছু খন্ড নাটক তৈরী করুক যাতে আওয়ামীলীগ এর স্বাধীনতা নিয়ে ব্যবসা মানুষ সহজেই বুঝাতে এবং বুঝতে পারে, জাসাস সন্মিলিতভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করুক, সকল স্কুলকলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করুক। এতে করে তরুন প্রজন্ম আরেকবার ইতিহাসের সঠিক অধ্যায় জানবে, আওয়ামীলীগ যে স্বাধীনতা নিয়া ব্যবসা করে তা আরেক বার প্রমানিত হবে। আর জেলায় জেলায় এই অনুষ্ঠান পুরা ডিসেম্বর মাস জুড়েই চলুক, আমাদের মনে রাখতে হবে যেককোন পরিস্থিতিতে আমাদের ভেংগে পড়লে চলবেনা, মনস্তাত্তিক যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হবে।
আর সত্যের জয় হবেই হবে ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের সকলকেই গনতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হবার নিমিত্তে সবাইকে কবুল করুন ! আল্লাহই একমাত্র উত্তম প্রতিদানকারী, মহান দয়াময় আমীন !””

 

লেখকঃ  ড. মো: সাইফুল ইসলাম ( আই, টি বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী, ক্যালিফোর্নিয়া, USA)

সম্পাদনায়ঃ মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য প্রবাসী।

(বিঃদ্রঃ এই লেখাটি সম্পূর্ণ লেখকের ব্যাক্তিগত অভিমত।এই লেখার দায়ভার সম্পূর্ণ লেখকের এবং ওয়েব সাইট এই লেখার কোন দায় বহন করিবে নয়া।)