বাংলাদেশ আগ্রাসনের শিকার

0

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির সর্বশেষ আবহ রচিত হয় স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে ঘিরে। তাঁর শাহাদাৎ-এর পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির ধারার যবনিকাপাত হয়। জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে জাতির মাঝে শুরু হয় বিভাজন, অন্ধকার সুরঙ্গে পথ হারায় জাতীয় পর্যায়ের ঐকমত্য, জাতীয় স্বার্থ পদদলিত হতে থাকে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে। জাতীয় পর্যায়ে এই বিভক্তি প্রকট আকার ধারণ করে শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের আমলে আর বর্তমান আমলে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। প্রশ্ন হলো এমনটি কেন? উত্তর একটু ভাবনার। আর তা হলো- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতা সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সরকার তাকে এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে রেখেছিলেন বিশেষ তত্ত¡াবধানে।

images (1)

ভারতীয় নাগরিকদের সাথে তাদের সামাজিক দেখা-সাক্ষাতের ওপর কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করে থাকেন, সর্বক্ষণ তাদের ভারতের স্বার্থের দিকগুলো বোঝানো হয়েছে এবং বাংলাদেশের যেসব রাজনীতিককে ভারত তার স্বার্থের অনুকূল বিবেচনা করে না তাদের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবের দুই কন্যার মন বিষিয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ছয় বছর ধরে। কিন্তু আর কী করতেন শেখ হাসিনা? এমনও কি হতে পারে যে, নাৎসিদের ক্ষমতাপ্রাপ্তি ও ক্ষমতা স্থায়ী করার কলা-কৌশল সম্বন্ধেই পড়ছিলেন অথবা সে বিষয়ে কারো পরামর্শ শুনেছিলেন তিনি। তার বিভিন্ন সময়ে দেয়া উক্তিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি প্রকৃতই গোয়েবলসের প্রচার দর্শন বিশ্বাস করতেন। তার কর্মকান্ডের দিকে দৃষ্টিপাত করলে ভারতীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয়।

376

তার ১৯৯৬-২০০১- এর শাসনামলে দেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, দেশের অভ্যন্তরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামাজিক শক্তিগুলোকে একের বিপরীতে অপরকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হয়, বিঘিœত হয় সামাজিক নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়ে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা। এর ফলে ২০০১-এর নির্বাচনে তিনি তীব্র নিন্দিত, সমালোচিত হন কিন্তু প্রচারের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিলেন তারেক রহমান। ভোট বিপ্লবের নেপথ্য কারিগর হিসেবে উঠে আসে তার নাম। দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করলেও তারেক রহমান সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থেকে দল গঠনে মনযোগী হন। তৃণমূল প্রতিনিধি সভার মাধ্যমে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তো বটে জাতীয়তাবাদীধারার সকল দেশপ্রেমিক আবালবৃদ্ধবনিতাকে জাতীয়তাবাদী পতাকার নিচে সমবেত করতে সক্ষম হন। খন্ডচ্ছিন্ন সামাজিক শক্তিগুলোকে একত্রীভূতকরণে প্রয়াসী হয়ে অনেকক্ষেত্রে সফলও হন। জাতীয় পর্যায়ে ঐকমত্যের প্রতীক হয়ে ওঠেন তারেক রহমান। শুরু হয় আবার ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি। আর এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির মূর্তপ্রতীক তারেক রহমান বনে যান তারুণ্যের প্রতীকে। অন্যদিকে শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পরে আওয়ামী লীগে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির ভিত অদ্য পর্যন্ত রচিত হয়নি। ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পাদপ্রদীপে আসতে পারেননি শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা কিংবা তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়। তাই তাদের প্রতিহিংসার বশবর্তী তারুণ্য নির্ভর এই নেতা। শুরু হয় তাকে ধ্বংসের যতসব হীন ষড়যন্ত্র। ভীন দেশীয় আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের এদেশীয় তল্পিবাহকরা মরিয়া হয়ে ওঠে জাতীয়তাবাদী শক্তির ভবিষ্যৎ কান্ডারী তারেক রহমানকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। কারণ তারা জানে তারেক রহমানকে অক্ষত রেখে তাদের উচ্চাভিলাষ সফল করা সম্ভব নয়। তারা এও অনুধাবন করে, তারেক রহমান বাংলাদেশের তারুণ্যের প্রতীক। তিনি তার বাবার মতোই ষড়যন্ত্রের অতীতমুখী রাজনীতি উচ্ছেদ করে ভবিষ্যৎমুখী, উন্নয়নের রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে এনেছেন। তাই এই প্রতীক অপসারণ করা না গেলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকেও শূন্য করা সম্ভব হবে না। আর ষড়যন্ত্রের এই পথ ধরেই আসে ওয়ান-ইলেভেন যার শিকার বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মুক্তিসূর্য তারেক রহমান।

Pakistan Bangladesh War

দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার সন্ধিস্থলেই বাংলাদেশ। ভারত মহাসাগরের উপকণ্ঠে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের উপকূল। ভারতের কাছে তাই এ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের অধিকারী বাংলাদেশ শুধু আধিপত্যের জন্যই আকর্ষণীয় নয়, এ এলাকা থেকে আধিপত্য বিস্তার প্রক্রিয়া পরিচালনার উল্লস্ফন ক্ষেত্র হিসেবেও অধিক উপযোগী। ভারত দেখল, তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায় থেকে যে তারুণ্য নির্ভর রাজনীতি শুরু করেছে তাতে অচিরেই সে বাংলাদেশের রাজনীতির পরাশক্তিতে পরিণত হয়ে দেশ রক্ষার দেবদূতে পরিণত হবে। তার রাজনৈতিক প্রাবল্যের প্রভাবে ভারত একসময় ভেঙেচুরে খন্ড খন্ড হয়ে যাবে। তাই তাকে অঙ্কুরোদগমেই বিনাশের আয়োজন চলে। এই আয়োজনের ফল এক-এগারোর দানবীয় সরকার। আর এই দানবের হিং¯্রতার শিকার তারেক রহমান।

gggggggggggggg Mir_Jafar_(left)_and_Mir_Miran_(right)বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর করার এই প্রবক্তারা ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের মতো শিখন্ডী হিসেবে দাঁড় করায় মীর জাফরের মতো মঈন উকে। পরে মঈন উর দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয় শেখ হাসিনার হাতে। যেভাবে মীর জাফরের কাছ থেকে ক্ষমতা চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে। এরা তাদের উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখতে পায় তারেক রহমানকে। এরা সম্মিলিতভাবে তারেক রহমানের ওপর একে একে চাপিয়ে দেয় জঘন্য অপবাদ সমৃদ্ধ মিথ্যা মামলার বহর। তাকে গ্রেফতার করে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। ভেঙে ফেলা হয় মেরুদন্ডের হার। দেয়া হয় একে একে ১৩ টি মামলা। অর্থ পাচার মামলাও তার একটি। ২৬ অক্টোবর ২০০৯-এ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় দুদক এই মামলা দায়ের করে। ০৬ জুলাই ২০১১-এ মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোতাহার হোসেন মামলার অভিযোগের সাথে তারেক রহমানের নূন্যতম কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে তাকে বেকসুর খালাস দেন। পরবর্তীতে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দুদকের আপিলের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয় গঠিত বেঞ্চ নি¤œ আদালতের রায় বাতিল করে গত ২১ জুলাই ২০১৬-এ তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদন্ড দেন ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করে থাকেন, সরকার ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই তাদের নিয়ন্ত্রিত আদালতের মাধ্যমে এই রায় প্রদান করায়ে তারেক রহমানকে রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন করার অশুভ অভিলাষেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়েছে। সত্যিকার অর্থে তারেক রহমানের অপরাধ তার দেশপ্রেম, অব্যর্থ সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে তৃণমূল জনসাধারণ সংগঠিত করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় শির উঁচু করে দাঁড়ানো।

জন্মক্ষণেই বাংলাদেশকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী চিহ্নিত করেছিলেন ‘এক কৌশলগত অসঙ্গতি’ রূপে। এ অসঙ্গতি দ্বিমাত্রিক: রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্মকে তখন ভারতীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই দেখেছেন সন্দেহের চোখে। নেহেরু-গান্ধীর একজাতিতত্তে¡র ভারতবর্ষ বিভক্ত হয় জিন্নাহর দ্বি-জাতিতত্তে¡র ভিত্তিতে। শেখ মুজিবের বাঙালি জাতীয়তাবাদ তাকে ত্রিভঙ্গ মুরীর করে তোলে এবং সূচনা হয় ভারতের বিভিন্ন অংশে, বিশষ করে উত্তর-পূর্বাংশে বিদ্যমান বিভন্ন জাতিসত্তার ভিত্তিতে, বহুজাতিক ভারতকে খন্ডচ্ছিন্ন করার অশুভ প্রক্রিয়া। ১৯৭১-এর ডিসেম্বরে ভারতীয় নেতৃত্বের দ্বিমুখিতা, দ্বিধা ও সংশয় সম্পর্কে প্রফেসর এনায়েতুর রহিম ও জয়সী এল রহিম ‘প্রবন্ধে লিখেন: ‘চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী পাকিস্তানের একটি পাখা ছেঁটে দেবার সমূহ সম্ভাবনা ভারতের কিছুসংখ্যক নেতার নিকট আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেও তারা সচেতন ছিলেন যে, পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দেয়া ভারত ইউনিয়নের খন্ডচ্ছিন্ন হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে এবং সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও নিকটবর্তী এলাকার রাজনীতিতে বামপন্থীদের প্রভাবকে করবে আকাশচুম্বি এবং তাও বাংলাদেশীদের অতি প্রগতিশীল আন্দোলনের সহায়তায়।তাইতো ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন রাজনৈতিক দিক থেকে না হলেও অর্থনীতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ভারতের সাথে সংযুক্ত হোক। এই প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। অন্য কথায়, তাদের সন্দেহ অমূলক ছিল না। বাংলাদেশের পথেই ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাত বোনে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবিতে যে সংগ্রাম চলছে এবং গত প্রায় সিকি শতাব্দীব্যাপী পশ্চিম বঙ্গ ও আসামে বাম রাজনীতির যে প্রভাব তা তারই প্রমাণ।নিরাপত্তার দিক থেকেও বাংলাদেশ ভারতীয় নেতৃবৃন্দের চোখে এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তর ভারতীয় ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগের একমাত্র পথ হলো তেঁতুলিয়া সীমান্তের উত্তরে ২০ মাইলব্যাপী শিলিগুড়ি করিডোর। তা হলো বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টিকারী এক ভূমি সেতু, অনেকটা মুরগীর গলার(ঈযরপশবহ হবপশ)মতো। চীন-ভারত সীমান্তে কোন যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি হলে অথবা এ সরুভূমি সেতুটি কোনক্রমে ব্যহত হয়ে পড়লে ভারতের সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ভারতের নিরাপত্তা বিশারদদের অন্যতম কে সুব্রাহমানিয়া তার  দীর্ঘ প্রবন্ধের এক জায়গায় তিনি লিখেছেন ‘বাংলাদেশের উপস্থিতি ভারতের কৌশলগত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি বড় ধরনে দুর্বল অবস্থান সৃষ্টি করেছে। যদি আসাম বা তৎসংলগ্ন উপজাতির রাজ্যে বা প্রতিবেশী বার্মায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তাহলে এ অঞ্চলে ভারতের নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় বাংলাদেশ বড় আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

 P1_tareq
বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ সমরবিদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএম বোহরা ১৯৯৬-এ এক প্রবন্ধে লিখেছেন,‘বাংলাদেশ নিজে ভারতের জন্য কোনো ভীতির কারণ নয়।কিন্তু ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশ চীনের সাথে যেভাবে নিরাপত্তার বন্ধনে আবদ্ধ এবং বর্তমানে পাকিস্তানের সাথে যে সামরিক সহযোগিতা গড়ে উঠেছে তা মনে রেখে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের এ ধারণা জন্মেছে যে, চীন অথবা পাকিস্তানের সাথে যে কোন বিরোধের সময় বর্তমান শক্তির বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক বড় অংশকে আটকে রাখতে পারে।’এ প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকরা তাদের আঞ্চলিক অখন্ডতা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণে নির্ধারণ করেছে ‘আধিপত্য-অধীনতার কাঠামোয় এক মহাপরিকল্পনা’ যাতে নেপাল, ভূটান ও বাংলাদেশ এক সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তিত হতে পার। এ অবস্থা নেপাল মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে, অনেকটা নেপালের অভ্যন্তরে সৃষ্ট শক্তিশালী ভারতীয় লবির চাপে। ভূটানে বিদ্যমান রয়েছে ভারতের এক রেজিমেন্ট সৈন্য। বাংলাদেশে অতি সাবধানে সৃষ্টি করা হয়েছে ভারতপন্থীদের শক্তিশালী চক্র। ভারতের কোন নেতা কোন কথা বলার আগেই এরা মুখ খোলেন ভারতের পক্ষে। সৃষ্টি হয়েছে ভারতপন্থী রাজনৈতিক দল। যারা ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী, তাদেরকে পাকিস্তানপন্থী, আইএসআই’র চর ও মৌলবাদী রূপে চিহ্নিত করার ব্যবস্থাও সৃষ্টি হয়েছে। র(জঅড) -এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে রয়েছে দেশব্যাপী যাতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব সৃষ্টি হতে না পারে। কেননা এই ধরনের নেতৃত্ব ভারতের অখন্ডতা রক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ। আর এই অশুভ শক্তির চক্ষুশূলে পরিণত হয় তারেক রহমান।

801A2157

ভারতের দৃষ্টিতে, তারেক রহমান তার মহান বাবার মতোই একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে আর্বিভূত হয়ে যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির আবহ তৈরি করেছেন তা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রসহ সকল দিক দিয়ে উন্নতির এক চরম শিখরে পৌঁছে দিবে। তাই যে করেই হোক এই উদীয়মান শক্তিকে আর বিকশিত হতে দেয়া যাবে না। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও তার সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দেখলো, তারেক রহমানের এই অভিনব উত্থানের ফলে তাদের রাজনীতি মাঠে মারা যেতে বাধ্য। ফলে এই দ্ইু অশুভ শক্তির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হয় এক ও অভিন্ন। যেকরেই হোক তারেককে ঠেকাও। আর এদেরই প্রতিহিংসা চরিতার্থ করণের নিষ্ঠুর খেলার লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয় তারেক রহমান।

লেখক:

এম. সাইফুর রহমান

কলামিস্ট ও সাহিত্যিক