বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র এর আগ্রাসন

0

বাংলাদেশ সরকারের ভেতরে-বাহিরে ৩০ হাজার র’-এর এজেন্ট তৎপর মন্ত্রী, এমপি, আমলা, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবি, লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রকাশক, অফিসার, কর্মচারী পর্যায়ের লোকজনই শুধু নয়; ছাত্র, শ্রমিক, কেরানী, পিওন, রিক্সাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, কুলি, টেক্সিড্রাইভার, ট্রাভেল এজেন্ট, ইন্ডেটিং ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, নাবিক, বৈমানিক, আইনজীবিসহ বিভিন্ন স্তরে তাদের এজেন্ট সক্রিয় রয়েছে।বাংলাদেশে কমপক্ষে ১ লক্ষ ‘র” কর্মী ও ইনফর্মার সক্রিয় আছে বলে জানা যায় এর মধ্যে ভারতীয় ৪,০০০ এর মত (স্পেকুলেশন) আর বাকিরা ইনফর্মার ,ধর্মীয় ও মতাদর্শগতভাবে ‘র” এর প্রতি চরম সহানুভুতিশীল যাদের যেকোন কাজে লাগানো সম্ভব।

মেজর জিয়াউল হকের একটি ই-মেইল তার একজন ঘনিষ্ঠ মানুষ ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় পোস্ট করেছিলেন, সে সুবাধেই সেনাবাহিনীর বিভেদ সম্বন্ধে কিছুটা ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। যদিও এটার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব ছিল না।সেই ই-মেইলটিতে মেজর জিয়াউল হক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’-এর অনুপ্রবেশের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাকে অপহরণ করার পর গোপন জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডিজিএফআই-এর পাশাপাশি র’-এর গোয়েন্দারাও সেখানে উপস্থিত ছিলো এবং তারাও তাকে দোভাষীর সাহায্যে জেরা করেছিলো। মেজর জিয়ার ভাষ্য মতে, ‘র’এর এজেন্টরা যখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পাশে বসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে জেরা করতে পারে তখন নিশ্চিত বোঝা যায় ডিজিএফআই এখন চালাচ্ছে ভারতীয় সরকার।

মেজর জিয়ার ভাষ্যমতে, র’ বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কেন্দ্রীয় এবং ৬৪টি জেলাভিত্তিক ফিল্ড অফিসের মেধাবী অফিসারদের ব্যবহার করে এক-এগারোর মতো আরেকটি অবস্থা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। র’এর সাথে হাত মিলিয়েছে কিছু উচ্চাভিলাষী জেনারেল। এরা বর্তমান শাসক দলকে মদদ দেয়ার ভান করছে। কিন্তু যখন এদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে তখন খোদ সরকারি দলের অনেক বড় নেতাদের নির্মূল করা হবে। এ ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটির জন্য তা এক ভয়াবহ বিপদ সংকেত।

বেশ কয়েকবছর আগে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র’ নিয়ে আমাদের দেশে একটি বই বেরিয়েছিলো। বইটির মাধ্যমে না জানা অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সেসময় জানা গিয়েছিল।বইটির নাম ‘বাংলাদেশে র’। এর লেখকের নাম সাবেক সেনাসদস্য ও সাবেক ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক লে. (অব) আবু রুশদ।এই বইটিতে লেখক এমন অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন, যার মাধ্যমে নতুন করে জাতি চিন্তার খোরাক (পঙ্গু দুশ্চিন্তার খোরাক) পায়। ওনার দেয়া সেই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো আজ আবার জাতির মাঝে আলোচিত হয়ে ঘুরে-ফিরে আসছে। তাই সেই চাঞ্চল্যকর বইটির কিছু তথ্য লেখকের ভাষায় হুবহু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হলো।

তিনি লিখেছেন,যেহেতু আমি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা সংগঠন ‘ডিজিএফআই’ তথা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, সেহেতু এ দেশের বুকে র’-এর অপতৎপরতা সম্পর্কে আমার অল্প-বিস্তর ধারণা রয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীন এ দেশে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে বৈরী গুপ্তচর সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে এ দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে অবশ্যই অবহিত ও সচেতন থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সহায়তা করেছে বলে তাদের পরবর্তী সকল কার্যক্রমকে বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূল বলে মনে করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। বরং একটি আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদেরকেই ভাবতে হবে। আর তাই স্থায়ীভাবে কাউকে আমাদের শত্রু বা মিত্র বলে জ্ঞান করার কোনো অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না। আজ যে আমাদের পরম মিত্র, পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কাল সে ঘোরতর শত্রু বলে পরিগণিত হতে পারে। আধুনিক বিশ্বে এ ধরনের নজির বিরল নয়।

তিনি তার বইটিতে বাংলাদেশে র’এর অপকীর্তি সম্বন্ধে যেসব কথা উল্লেখ করেছেন, যা আমাদের দেশের মানুষকে ব্যপকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। তিনি র-এর সেসব অপকীর্তি তালিকা আকারে সে বইতে উল্লেখ করেছেন:

১) পার্বত্য চট্টগ্রামে (সন্ত্রাসী) শান্তিবাহিনী গঠন: পার্বত্য চট্টগ্রামে (সন্ত্রাসী) শান্তিবাহিনী গঠন করে যাবতীয় উপায়ে ভারতীয় সেনারা প্রশিক্ষণ ও সমরাস্ত্র সরবরাহ করেছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী শান্তিবাহিনী ২৫ বছর যুদ্ধ করেছে। বহু অন্যায় দাবিতে তারা বিদ্রোহ করেছে এবং বাঙালিদের হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হয়ে তাদের সকল দাবি মেনে নিয়ে বাঙালিদের নিজ দেশে পরবাসী বানিয়ে দিয়েছে।

২) প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা: লেখক অনেক তথ্য-প্রমাণ দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ভারত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী শক্তিকে হটিয়ে একটি বন্ধুভাবাপন্ন শক্তিকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জিয়া হত্যার মাত্র ১২ দিন পূর্বে শেখ হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসে। জিয়া হত্যার খবর পেয়ে শেখ হাসিনা ব্রাক্ষণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা বাধ সাধায় তিনি সে যাত্রায় পার হতে পারেননি।

৩) স্বাধীন বঙ্গভূমি আন্দোলন: ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পরের দিনই ‘স্বাধীন বঙ্গভূমি’ নামে পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়েছিলো। এক সময়কার আওয়ামীলীগ নেতা ডঃ কালীদাস বৈদ্য ‘বঙ্গসেনা’ নামে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে তুলেছিলো। খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, কুয়িা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা নিয়ে এই হিন্দুর্রা গঠনের চক্রান্ত চালানো হয়েছিলো। এটার পেছনেও র’ এর হাত ছিল।

৪) বাংলাদেশ সরকারের ভেতরে-বাহিরে ৩০ হাজার র’-এর এজেন্ট তৎপর শিরোনামে তিনি লিখেছেন, মন্ত্রী, এমপি, আমলা, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবি, লেখক, কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, প্রকাশক, অফিসার, কর্মচারী পর্যায়ের লোকজনই শুধু নয়; ছাত্র, শ্রমিক, কেরানী, পিওন, রিক্সাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, কুলি, টেক্সিড্রাইভার, ট্রাভেল এজেন্ট, ইন্ডেটিং ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, নাবিক, বৈমানিক, আইনজীবিসহ বিভিন্ন স্তরে তাদের এজেন্ট সক্রিয় রয়েছে।

৫) ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি: এ কমিটির পেছনেও র’-এর হাত রয়েছে বলে লেখক তার বইতে উল্লেখ করেছেন।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সৃষ্ট আন্দোলনে জামাত আওয়ামী লীগের শরীকে পরিণত হওয়ার সাথে সাথে এ ঘাদানিক কমিটির সকল দাবি হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। অথচ তারা একসময় গণ-আদালত গঠন করে গো’আযমের ফাঁসী দাবি করলেও আওয়ামী লীগ-জাপা-জামাত জোট গঠনের পর একটি বারের জন্যও সে ফাঁসির রায় কার্যকর করার একটি টু শব্দও তারা করেনি। একদিকে ঘাদানিক গঠন ও এর উদ্দেশ্য যে ঘাতকদের বিচার নয় ভিন্ন কিছু ছিলো সে ব্যাপারে ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়। ১৯৯১ সালে বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে গঠন হলেও ১৯৯২ সালের পর হতে ১৯৯৯ সালের ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত এই ঘাদানিক-এর কোনো সাড়া-শব্দ ছিলো না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঘটনা বিশ্লেষণ করে কি বোঝা যায় না, কী উদ্দেশ্যে, কাদের স্বার্থে এ কমিটির সৃষ্টি?উপরে উল্লেখিত মেজর জিয়াউল হক এবং লে. (অব) আবু রুশদ-এর ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে বোঝা যায়, প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশে ভারত তার গোয়েন্দা সংস্থা র’-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সেক্টরে কল-কাঠি নাড়ছে। ভারত তার পছন্দের এবং সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দ্বারা বাংলাদেশে এক মহাবিপর্যয় ঘটাতে চাচ্ছে। ৪০ বছর হয়েছে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিংসা-বিদ্বেস চরম আকারে ধারণ করেছে। যার পরিণাম এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ।দেশের মানুষের অজান্তে দেশে যেকোনো সময় এমন বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যখন আর কিছুই করার থাকবে না। তাই নিজেদের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি।

কে দেশপ্রেমিক আর কে দেশদ্রোহী, এই বাছ-বিচার ত্যাগ করে নতুন উদ্যমে দেশকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়ায় এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বাহিনী গঠন ও পরিচালনায় “র” জড়িত আছে বলে ধারনা করা হয়।

বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল,এন জিও,সরকারী প্রতিস্টান,বানিজ্য অ্যাসোসিয়েশন থেকে শুরু করে প্রতিটি সরকারী বেসরকারি গুরুত্বপুর্ন প্রতিস্টানের মধ্যে রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস উইং এর কর্মীরা সক্রিয় আছেন। বাংলাদেশে তাদের প্রধানতম রিক্রুটিং মাধ্যম হচ্ছে “ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টার”। ঢাকা শহরের অন্তত দুইটি মসজিদ এর ইমাম অথবা সহকারি হিসাবে “র” কর্মকর্তা কাজ করছেন। চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, গোপালগঞ্জ ও সিলেটের একাধিক মাদ্রাসার শিক্ষক কভারে “র” অফিসার কর্মরত আছেন।বাংলাদেশের প্রতিটা গ্যারিসন শহরের প্রবেশ মুখে এবং আশেপাশে একাধিক “র” সার্ভেইলেন্স পোস্ট এ “র” অফিসাররা কর্মরত আছেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখামুখি হওয়া জামাতের একজন নেতা(এখনো চার্জ গঠন করা হয় নি) “র” এর পুরানো সক্রিয় কর্মী।