বাংলাদেশে নির্বাচন, গণতন্ত্র নয় ভারতীয় স্বার্থ রক্ষাই নিশা দেশাইর দৌড় ঝাঁপ

0

জিসাফো ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এখন ঢাকায় । রোববার সকালে তাঁকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগেও একাধিকবার এসেছেন। কিন্তু গতবার ও এবারের সফর অনেকটাই ব্যক্তিক্রম । এর আগে বাংলাদেশে নির্বাচন, গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলতেন। এখন আর সেটা বলেন না। এখন মুল এজেন্ডা ‘জঙ্গি ইস্যু’ ।

সফরে নিশা দেশাই সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াইয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রস্তাব দিয়েছেন । কূটনৈতিক সম্প্রদায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে তাঁর।

এ নিয়ে গত তিন বছরে মোট চার বার বাংলাদেশ সফর করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই নারী কূটনীতি। কোনো বড় ঘটনা ঘটলেই তাকে বাংলাদেশে পাঠায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। গতবারে তাঁর সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের মিটিংটা ছিলো কিছুটা গোপনীয় । এবারের তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে প্রকাশ্যেই আলাদা করে সাক্ষাৎ করছেন। একাধিকবার । হাইকমিশনারকে আপডেট দিচ্ছেন, বাংলাদেশী কর্তাদের সাথে কি কথা হচ্ছে। মনে হচ্ছে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ভারতীয় স্বার্থ সুরক্ষার জন্যই এসেছেন।

একটি স্বাধীন দেশে এভাবে আরেকটা দেশের হাইকমিশনারের সাথে একাধিকবার একান্তে সাক্ষাৎ কতটা শোভনীয়, সেটার তোয়াক্কা করেন না ওরা ।

মজার বিষয় হল, ২০১৪ সালের আগে যখন নিশা দেশাই বাংলাদেশে আসেন তখন তিনি ৫ জানুয়ারির সম্ভাব্য একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কর্তৃপক্ষের অধীনে নির্বাচন হওয়ার কথাও বলেছিলেন। এর আগের সফরে তিনি ‘অঘোষিত বিরোধী নেত্রী’ খালেদার সাথে বৈঠক করতেন। গতবার এবং এবারের সফরে সেই এজেন্ডাও হাওয়া ।

কিন্তু আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির চরম একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর তিনবার ঢাকা সফরে এসেছে নিশা দেশাই। প্রতিটি বারই নতুন গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এবং বাস্তবেও তার সরকার আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দায়িত্বে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতীয় বিষাদিও নিশা দেশাইকে দেখভাল করতে হয়। আবার তিনি নিজে এক ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিন্দু ব্যক্তি। ফলে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ বাংলাদেশ এবং হিন্দু শাসিত ভারতের মধ্যেকার কোনো স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে নিশা দেশাইর মধ্যে ‘স্বার্থের সংঘাত’ দেখা দেয়া স্বাভাবিক, এবং এর মাধ্যমে আখেরে লাভ হবে ভারতেরই!

ভারতের একচেটিয়া নজিরবিহীন আওয়ামী সরকারের সাথে বিতর্কিত নির্বাচনের পরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন ঢাকা সফরের মাধ্যমে নিশার মাধ্যমে ভারতের স্বার্থ সংরক্ষণের প্রসঙ্গটি সামনে আসছে। আসলে এই ভারতীয় কূটনীতিক কার স্বার্থ রক্ষায় বারবার ঢাকায় আসেন?