বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে খারাপ সময় চলছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0
 জিসাফো ডেস্কঃবিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে খারাপ সময় চলছে। যারা দেশ শাসন করছে, একটা মুখোশ পরে তারা প্রকৃতপক্ষে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। শুধু একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বললে ভুল হবে, এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা। এখানে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই, জবাবদিহিতা নেই।

তিনি বলেন, একটা সংসদ আছে যেখানে জনগণের সমস্যা সমাধানের কোনো আলোচনা করা হয় না। সংসদে বিরোধী দল আছে, যাকে সবাই বলে গৃহপালিত বিরোধী দল। তারা জলসা পার্টির দর্শক হয়ে শুধু হাততালি দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ হল রুমে আয়োজিত লালমনিরহাট জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন দেশে আইনের শাসন নেই, তাহলে বলার অপেক্ষা থাকে না দেশের অবস্থা কোথায় চলে গেছে। গোটা দেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে দিতে বিএনপি নির্বাচনে যেতে যায়। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।

তিস্তা নদীর পানির বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত গিয়ে পানি আনতে পারেন নাই। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই তিস্তার পানি চুক্তি হয়নি। আজ অভিন্ন ৫৪টি নদীতে পানি নেই।

তিনি বলেন, অধিকার হরণ করার একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ এ থেকে মুক্তি পেতে হবে। স্বাধীনভাবে কথা বলবার, সব কিছুর ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের পদ-পদবীর জন্য নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য, গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, মা বোনদের সম্মানের জন্যে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, তাতীদলের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মহিলাদলের সম্পাদিকা সুলতানা আহম্মদ প্রমুখ।

সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশির নামে যে আক্রমণ করা হলো সেটা কার্যালয়ের ওপর আক্রমণ নয়, এটা গণন্ত্রের ওপর আক্রমণ, দেশের মানুষের ওপর আক্রমণ। আগেই বলেছি এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা তৈরি করার প্রস্ততি চলছিল, এটাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্যই সরকার এই কাজটি করেছে।