বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করতে,মানবতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে নিরপেক্ষ ইসি গঠনে সরকারকে বাধ্য করতে হবে

0

জিসাফো ডেস্কঃনিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সরকারকে বাধ্য করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে রোববার বিকেলে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট : রাষ্ট্র না কি মানবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। সেন্টার ফর ন্যাশনালিজম স্টাডিস নামক একটি সংগঠন এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে মুক্ত করতে, মানবতা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে এমন একটি ‘ইনক্লুসিভ’ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুস্থ অসহায় রোহিঙ্গা মানুষগুলোকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে হবে। একইসঙ্গে ওদের সসম্মানে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আর এ ব্যাপারে আমাদের সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ আমরা এর ভুক্তভোগী।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ঘোর বিরোধী। একইভাবে আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও কেউ হস্তক্ষেপ করবে না, আমরাও করব না। কিন্তু অন্য দেশের কোনো ঘটনার ফলে যদি আমার দেশের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হয়, আমার অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্বার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা যদি বিপন্ন হয় তাহলে অবশ্যই সেটা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘৭১ সালে আমরাও শরণার্থী হিসেবে ভারত গিয়েছিলাম। তখন ভারত সরকার আমাদের জায়গা দিয়েছিল। আমাদের অনেক ভাবে সাহায্য করেছিল। শেখ হাসিনা সরকারের উচিত ওই দিনগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে তো আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। ওই দেশে যেমন মানুষকে অন্যায়ভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে বাংলাদেশেও তাই। এ দেশে মানুষকে অন্যায়ভাবে খুন করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে, আর সব চেয়ে সহজ হাতিয়ার হচ্ছে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাসানো। এ সরকারের যা ইচ্ছা তাই করছে। এগুলো বন্ধ করা উচিত।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের নামে গণতন্ত্রের লেবাসে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেশবাসীর ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এখানে মানুষের স্বাধীনতা নেই, কথা বলার স্বাধীনতা নেই, মুক্তচিন্তা বলতে কিছু নেই। এখানে জীবনের নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। মানুষ সংগঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কিছু বলারও নেই। তারা যা করছে কোনো কিছু না ভেবে তাই করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা। কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলিমরা এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের ও সারাবিশ্বের উচিত এর প্রতিবাদ করা। আর আমরা যেহেতু মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ ও রোহিঙ্গা মুসলিমরা বিপদে পড়ে আমাদের দেশে আসতে চাচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের উচিত তাদের সাহায্য করা।’

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, দলটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।