বহুদলীয় গণতন্ত্র ফেরানোর নায়ক জিয়ার সারা বিশ্বকে কাঁদিয়ে ফিরে যাওয়ার দিন আজ

0

জিসাফো ডেস্কঃ আজ ৩০ মে। আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম শোকের দিন। এই দিনটি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এমন একজন মানুষ যিনি আমাদেরকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিরোধী চক্রের অনুগত বিপদগামী কিছু সেনাসদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি। আজ তার ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী।

স্বাধীনতার পর দেশের গণতান্ত্রিক পরিগঠনে গাফেলতির ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্র উপড়ে ফেলা, সপরিবারে বঙ্গুবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং নৈরাজ্যের বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এই সময় নেতৃত্বশূন্যতার কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়ে যায়।

এই সময় ৭ নভেম্বরের মহান সিপাহী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পান তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান, যার ছিল মুক্তিযুদ্ধের অসম সাহসের নেতৃত্ব দেয়ার গৌরব। তিনি নেতৃত্ব পেয়ে ক্রমাগতভাবে দেশের শাসন ব্যবস্থা ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে গণতান্ত্রিক করে তুলেছেন। যেই গণতন্ত্রের মূল কথা একদলীয় নয়, বহুদল-মতের সহাবস্থান।

আর সেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে চলে বাংলাদেশ আজ এতখানি এগিয়েছে। শহর থেকে পল্লীতে উন্নতির ছাপ পড়েছে। জীবন মানে আয়েশ যোগ হয়েছে। বেঁচে থাকার পাশাপাশি আহ্লাদের সাধ জেগেছে জনে জনে।

তবে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বহুমাত্রিক পরিবর্তন ঘটেছে। যার সাথে পাল্লা দিয়ে এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। যেখানে এদেশ বিশ্বের মুসলমানদের বিরোধ কমিয়ে সমঝেতা করতো, সেখানে মুসলমানের বিরোধের জেরে বাংলাদেশই সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেশীদের সাথে সদ্ভাব রেখে দেশের স্বার্থ হাছিলের পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা অক্ষুন্ন রাখাতেও ক্রমাবনতি দৃশ্যমান। সার্বিক পরিস্থিতিতে শহীদ জিয়ার অনুপস্থিতির বেদনাবোধ তীব্রতর হচ্ছে।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫দিন ব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করছে বিএনপি। দলের সকল অঙ্গ সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টায় জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দরিদ্রদের মধ্যে কাঙালি ভোজ, রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৬টায় নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একইভাবে সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সকাল ১০টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শেরেবাংলা নগরস্থ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজারে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১০টায় মাজার প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ড্যাব-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ওষুধ বিতরণ করা হবে। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাদ জোহর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে ড্যাব।

এছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে ৩০ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তির ক্রমাগত বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণের পটভূমিতে তার অম্লান স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে এবার ৩০ মে মহান নেতার শাহাদতবার্ষিকী সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহসহ সকল স্তরের জনগণের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

জিয়াউর রহমানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে। তার শৈশবের কিছুদিন কাটে বগুড়া ও কলকাতায়।

ভারত বিভাগের পর রসায়নবিদ পিতার বদলির সুবাদে তিনি করাচি যান। করাচির একাডেমী স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৫৩ সালে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন কাবুল মিলিটারি একাডেমিতে।

১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদ লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে লাহোর সীমান্তের খেমকারান সেক্টরে ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ভারতের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়। বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেয়া হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক উপাধি।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর তার নেতৃত্বে অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে এবং যুদ্ধকালে প্রথমে তিনি সেক্টর কমান্ডার ও পরে জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে বীরউত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট নিযুক্ত হন চিফ অব আর্মি স্টাফ পদে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলে ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন।

এরপর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠন করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি-বিএনপি, যে দলটি বাংলাদেশের বৃহত্তম দুটি রাজনৈতিক দলের একটি এবং বারবার ক্ষমতায় গিয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন বিরোধী চক্রের অনুগত বিপদগামী কিছু সেনাসদস্যের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তিনি।