বর্বর, অগণতান্ত্রিক, জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন স্বৈরাচারী সরকারই মানুষের কথা বলা বন্ধ করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে

0

জিসাফো ডেস্কঃ “ক্ষমতাসীনদের হুমকি, অন্যায়-অনাচার, কোনো কিছুই হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মিলিয়ে যাচ্ছে না। প্রতিটি অপকর্মের হিসাব রেজিস্ট্রি থাকছে। দেশবাসীকে এগুলোর হিসাব দিতে হবে,” বলেছেন তিনি।

পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে খালেদা জিয়ার বক্তব‌্যের পর তাকে চ‌্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব‌্যের প্রতিক্রিয়ায় এই হুঁশিয়ারি দেন রিজভী।

পদ্মা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় খালেদার উদ্দেশে কাদের বলেছিলেন, “কোথায় ‍দুর্নীতি হয়েছে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। প্রমাণ করতে না পারলে আপনাকে মামলার সম্মুখীন হতে হবে।”

রিজভী মঙ্গলবার নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্য দেশে আওয়ামী লীগের হুমকির সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। এটা গণতন্ত্রের জন্য বিরাট হুমকি।

“বর্বর, অগণতান্ত্রিক, জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন স্বৈরাচারী সরকারই মানুষের কথা বলা বন্ধ করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে। তারা দুর্নীতি করে বলেই মানুষের কথা বলা বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয়।”

সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “২০১১ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করল কেন বিশ্ব ব্যাংক? পদ্মা সেতুর কাজ পেতে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক সার্টিফিকেট দিয়ে মন্ত্রিত্ব কেড়ে নিয়েছিলেন কেন? সচিবসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কেন?”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে শুধু তো বিএনপি চেয়ারপারসন বলছেন না, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বলছে। খববের কাগজ-পত্রিকা-গণমাধ‌্যম এসব থেকে সমস্ত কিছু ছুটে আসছে। আর কত তথ্য প্রমাণ দেওয়া লাগবে? প্রমাণ দেওয়ার অবকাশ আছে বলে আমার মনে হয় না।”

নতুন বছরে বিনামূল‌্যের পাঠ‌্যবই বিতরণেও দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা রিজভী।

“কোমলমতি শিশুদের বিনামূল্যে বই বিতরণের নামে প্রতারণা চলছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাকা ছাড়া বই পাচ্ছে না শিশুরা- এমন অভিযোগ পত্র-পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। উৎসবের নামে কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে বই বিতরণের এই প্রতারণা ও তামাশা বন্ধ করার জন্য আমি বিএনপির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

কর্মসূচি ‘হবে’

আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত‌্যা দিবস’ উপলক্ষে ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে সমাবেশ করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।

তিনি বলেন, “৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস। এই দিবসে সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল ও নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করবে। ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ হবে। এসবের সব প্রস্তুতি চলছে।”

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছেন কি না- প্রশ্ন করা হলে রিজভী বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছি।

“কখনও ১২ ঘণ্টা আগে, কখনও ৪৮ ঘণ্টা আগে অনুমতি দেওয়া হয়। এটাও হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যাতে খুব বড় ধরনের সমাবেশ অর্গানাইজ করতে না পারি। কারণ তারা বিপুল জনগণকে দেখলে ভয় পায়।”

“তারপরও প্রশাসনকে আশস্ত করতে চাই, এই সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে,” বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ এবং ১ নম্বর চাকড়পাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুর রহমানকে বরখাস্তের নিন্দা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, হারুনুর রশীদ।