বছরের শুরুতেই ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ: নিহত ৩, আহত শতাধিক

0

জিসাফো ডেস্কঃ রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। আজ ভোর ৫টা ৬ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। মুহুর্তেই কেঁপে উঠে গোটা দেশে। বেশ কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় কম্পন। আতঙ্কে মারা গেছেন ৩জন। সারাদেশে আহত হয়েছেন শতাধিক।

ঢাকার জুরাইনে হুড়োহুড়ির মধ্যে আতঙ্কে আতিকুর রহমান আতিক (২৭) নামের এক যুবকরে মৃত্যু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তি মেহেরচন্ডি এলাকায় নিজ বাড়িতে বঙ্গবন্ধু হলের প্রধান বাবুর্চি খলিলুর রহমান নিহত হন। ভারতের নিকটবর্তী লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কদুরবাজার এলাকায় আব্দুল কুদ্দুস (৪০) আতঙ্কে মারা যান। ওই এলাকায় আহত হন ৩জন।

এছাড়া ভূমিকম্পের আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়ে ঢাকা ও সিলেটসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শতাধিক। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুরে।

রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, নোয়াখালী, বরিশাল, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে ভূকম্পনের খবর পাওয়া গেছে।

এ ভয়াবহ ভুমিকম্পে আতংক ছড়িয়ে পড়ে ওপারে ভারতের ডাউকি শহর ও বাংলাদেশের সিলেটের জাফলংয়ে। মুহুর্তেই কেপে ওঠে দুই দেশের স্পর্ষকাতর এ দুস্থানের সবকটি বাড়িঘরসহ সকল স্থাপনা। ঘুমন্ত আতংকিত হাজার হাজার মানুষ মুহুর্তেই দিক বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে। নেমে আসে রাস্তায়। আতংকিত মানুষের আর্ত চিৎকার চেচামেচিতে দু-দেশের সীমানা প্রাচিরের ব্যবধান ক্ষনিকের জন্য মুছে দেয়। উভয় দেশের বসবাসরতরা মোবাইলফোন সহ সামাজিক গণ যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পর ক্ষয়ক্ষতির খবর নিতে থাকেন ।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাও কেঁপে উঠে। ভোর ৫টা ৮ মিনিটের দিকে পরপর দুবার হঠাৎ করেই কেঁপে উঠে সব কিছু। গভীর ঘুমে থাকা মানুষজন আতঙ্কে জেগে উঠে ছোটাছুটি করতে থাকে। রাস্তায় নেমে আসে মানুষজন। অনেকেই মনে করে ডাকাত পড়েছে। মানুষের মাঝে চরম আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ৮০ বছরের বৃদ্ধ আসলাম উদ্দীন জানিয়েছেন, আমার জীবনে এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখিনি। সব কিছুই খুব জোরে জোরে কাঁপতে থাকে। কাঁপার দুলানি থাকে প্রায় ২ মিনিট। বড় ও পুরাতন কয়েকটি বিল্ডিং এ ফাটল দেখা দেয়।

সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের আতঙ্কে বাসা-বাড়ি থেকে তাড়াহুড়া করে বেরুতে থাকে মানুষ। আশ্রয় নিয়েছিল নিরাপদ স্থানে।

এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অধিকাংশ রাজ্যে চার থেকে পাঁচ সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রচ- ঝাঁকুনিতে ইম্ফলের বিভিন্ন ভবনের দেয়াল, সিঁড়ি ও ছাদ ধসে পড়েছে। মনিপুরের  অনেকে এলাকায় টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে জানানো হয়েছে।