বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বিরুদ্ধে বললেই মামলা

0

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে বললেই মামলা করার অঙ্গিকার জানালেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিক। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলা করে তিনি তার প্রমাণও রেখেছেন। তার মামলায় আসামি হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকিও। তিনি বলেন, ‘দলের বিরুদ্ধে বললে আমার কোনো কিছু বলার নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে বললে কোনো ছাড়াছাড়ি নেই।’

এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর এলাকার মানুষ। আমার বাবার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবে আমরা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। আমার বাবা বলতেন- এত বড় মনের মানুষ আর হয় না। মহাসাগরের মতো ছিল তার মন। বাবার কাছে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনতে শুনতেই আমি তার ভক্ত হয়ে গেছি।’

কবে থেকে এই মামলা মোকদ্দমা শুরু করলেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘এই কয়েক বছর যাবৎ করছি। এর আগে মানে এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে কি কোনো মামলা করেছেন? না- জবাব এ বি সিদ্দিকির। কেন করেননি? তখনও তো বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কত জনেই কত কিছু বলেছেন? কারণ, তখন তো ধরে ধরে নিয়ে আমাদের লোকদের অত্যাচার করতো। তাদের ভয়ে তো কিছু করা যেতো না। এখন তো আর সেই ভয় নেই। তা ছাড়া আমরা তো আর তাদের মতো ধরে নিয়ে অত্যাচার করি না- বলেন এ বি সিদ্দিক।

আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে তিনি ১১টি মামলা করেছেন। বর্তমানে ৭টি মামলা চলমান রয়েছে। একটি মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। ৩টি মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। কোন মামলাটিতে আসামির সাজা হয়েছে? ‘বুয়েটের শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিতে আদালত আসামি হাফিজুর রহমান রানাকে (শিক্ষক) ৭ বছরের কারাদণ্ড  দিয়েছেন’- জানান এ বি সিদ্দিক।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে এটিই দেশের প্রথম মামলা যেটিতে আসামির সাজা হলো- দাবি এ বি সিদ্দিকের।

ইদানিং কোনো মামলা-মোকদ্দমা করছেন না, কারণ কি? কারণ আর কিছুই না, ভয়ে তো ওরা এখন আর বেফাঁস কোনো কথা বলছে না, জানান তিনি।

দলে এত বড় বড় নেতা-কর্মী থাকতে আপনি কেন মামলা করছেন? জবাবে এ বি সিদ্দিক বলেন, ‘নেতার অভাব নেই এটা সত্যি কথা। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা লোকের বড় অভাব। পাল্টাপাল্টি দুয়েকটা কথা বলেই তারা খালাস। আরে বাবা পত্রিকার কাটিং নিয়ে এসে মামলা করে দাও, দেখবা সব ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। আসলে মামলা করলেই তো হয় না। নিয়মিত কোর্টে আসতে হয়। হাজিরা দিতে হয়। অনেক ঝামেলা। কেউই ঝামেলা নিতে চায় না। সবাই তো ধান্ধা ফিকির নিয়ে ব্যস্ত। আমারতো ভাই কোনো ধান্ধা নাই। নিঃস্বার্থভাবেই বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি।’

এসব মামলা মোকদ্দমার কারণে আপনি কোন হুমকি পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হুমকি-ধামকি তো পেয়েই যাচ্ছি। তবে আমি এসবের কোনো পরোয়া করি না। জীবন মৃত্যু আল্লাহর হাতে। তা ছাড়া এখন ওরা কিছু করতে পারবে না।’

যদি কখনো ক্ষমতার পালা বদল হয় তখন কেউ কিছু করতে পারে এমন কোন আশঙ্কা করছেন কিনা? ‘হ্যাঁ করতে পারে। বঙ্গবন্ধুকে যখন মেরে ফেলতে পেরেছে, তখন আমি সিদ্দিককে মারতে কতক্ষণ? সুযোগ পেলে ওরা আমাকে জবাই করে ফেলতে পারে’।, বললেন এবি সিদ্দিক।

প্রধানমন্ত্রী আপনাকে চেনেন? কখনো গিয়েছেন তার কাছে? হ্যাঁ, চেনেন। গণভবনে যাই। দেখাও হয়। তিনিও বঙ্গবন্ধুর মতোই বড় মনের মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোন সুযোগ সুবিধা চেয়েছেন বা পেয়েছেন কিনা? সরল স্বীকারোক্তি তার, ‘না কিছু চাইনি, পাইওনি। তবে আশা করছি সামনে পাবো- বলেন সিদ্দিক। নামোল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রীর একজন এপিএস তাকে কিছু একটা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’

ঢাকায় তার নিজের কোন বাড়ি নেই। ভাড়া বাড়িতে তিনি থাকেন। তার আশা ঢাকায় সরকারের খাস জায়গা জমির তো অভাব নেই। মাথা গোঁজার একটু ঠিকানা পেলে তার জন্য খুবই ভালো হয় বলেও জানালেন এবি সিদ্দিক।

ব্যক্তিগত জীবনে এ বি সিদ্দিক বিবাহিত। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ছেলেরা ছোটখাট ব্যবসা করছে। তাদের উপার্জনে কায়ক্লেশে চলছে সংসার।

তার সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য কি? কখনো কোন সম্মেলন  করেছেন কিনা? জবাবে তিনি বলেন, ২০০২ সালের ১৭ মে তিনি এই সংগঠন (জননেত্রী পরিষদ) করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রচার করা ও তার স্মৃতিকে ধরে রাখাই এই সংগঠনের উদ্দেশ্য। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠাগার করার লক্ষ্য রয়েছে তার। অর্থাভাবে এখনো কোন সম্মেলন করতে পারেননি বলে জানান এ বি সিদ্দিক। তবে চেষ্টা করছেন আগামি বছরের মধ্যে একটা সম্মেলন করার।

তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মামলা:

আওয়ামী লীগ নেতাদের কুলাঙ্গার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কুলাঙ্গারদের নেত্রী বলায় গত ৮ অক্টোবর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেছেন এ বি সিদ্দিকি।

এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে গত বছরের ২১ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে সরকার বিরোধী দলের আন্দোলনের সময় ৪২ জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে (মামলায় এ বি সিদ্দিকির অভিযোগ মতে) গত ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ড. এমাজউদ্দিন আহম্মেদ, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেছেন এই নেতা।

এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের হুমকি ও মানহানিকর উক্তি করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন এ বি সিদ্দিক।

এছাড়া ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকিদানকারী বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী শাহবাগ থানায় এ নিয়ে একটি মামলা করেন। তার ওই মামলায় আদালত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় পাঁচ বছর ও দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় দুই বছর করে মোট সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় আসামি হাফিজুর রহমানকে ।