বঙ্গবন্ধুও কি একই অপরাধে অপরাধী ?

0

মিনার রশীদ

কালচারাল জগতের যে সব রথী মহারথীরা না থাকলে জাতি হিসাবে আমরা আনকালচার্ড হয়ে পড়তাম তাদের মধ্যে লুৎফুন্নাহার লতা অন্যতম। তিনি বর্তমানে আমেরিকায় প্রবাসী জীবন যাপন করছেন। এদেশে “রাজাকার” শব্দটিকে যারা অত্যধিক মাত্রায় ঘৃণা করেন তাদের সকলের এক নম্বর পছন্দের দেশ কেন জানি অাবার একাত্তরে পাকিস্তানের এক নম্বর সাহায্যকারী ( যার উর্দু প্রতিশব্দ রাজাকার) এই যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বড় রাজাকারের কোলে বসে ‘ নব্য রাজাকার’ গয়েশ্বর বাবুর জন্যে নিবেদিত লতার একটি ফেইস বুক স্ট্যাটাস কপি করে পাঠিয়েছেন আমার এক প্রিয় জুনিয়র।

আমার গত লেখাটির পর যে সব গালি গালাজ আমার এই পেইজটিতে পড়েছে- তার জবাব দেয়া অর্থহীন বলে মনে করি। কারণ একজন মানুষ যখন যুক্তি হারিয়ে ফেলে তখন গালিই ওদের একমাত্র সম্বল হয়ে পড়ে । আগ্রহের বিষয় হলো

– কালচার্ড এই অভিনেত্রীর মুখের ভাষা অানকালচার্ড এই সব মন্তব্যকারীর চেয়েও আরো কয়েক দফা উপরে । বিশেষ বোতলে ভরা কালচার্ড এই শিল্পীর গালির স্যাম্পলটি নিম্নরূপ:

” গুয়েশ্ব্র আর খা ল্যাদা! ওরা নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছে।আমি এই সব গু মুতের কথা নিয়ে কথা বলতেই ঘেন্না পাচ্ছি। মরা, পচা, গলা, পোকায় খাওয়া জঘন্ন এই জন্তুদের আবার কথার দাম কি!! “

সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের এই নেতাকে গালি দিতে গিয়ে তাঁর ঈশ্বরকেও বিষ্টার সাথে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে । গয়েশ্বর নামটির সাথে ঈশ্বর শব্দটি সরাসরি সংযুক্ত। এখন ‘গ’কে ‘গু’ লিখলে তার কিছু তো ঈশ্বরের গায়েও লাগার কথা। উনি যেহেতু কালচারাল জগতের মানুষ, কাজেই সাংস্কৃতিক সুষমায় মিশ্রিত এই মিশ্রণটি এখন আর ধর্মীয় অবমাননা বলে গণ্য হবে না। এই কথা যদি কোন বিএনপি -জামায়াত ঘরানার কেউ উচ্চারণ করতো তবে এতক্ষণে এই দেশে মহাপ্রলয় সংঘটিত হয়ে পড়তো ।

তাছাড়া যে উক্তিটির জন্যে গয়েশ্বর বাবুর বিরুদ্ধে মনের ঝাল মিটানো হচ্ছে ; সেই কথা শুধু কাদের সিদ্দীকিই নন , স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও উক্ত শহীদদের ব্যাপারে একই ধরনের উক্তি করে গেছেন।

১৯৭২ সালের ১৭ই মার্চে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর কাছে একটা স্মারকলিপি দিতে যান। নাফিসা কবির সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলে উঠলেন, অাপনারা কী বলতে এসেছেন? বিদেশী মেহমান,তার কাছে এভাবে মিছিল করে যাওয়াটা কি আমাদের জন্যে সম্মানের হবে? আপনাদের যা বলার আমাকেই বলুন।’

তখন নাফিসা কবির তাদের কথা বললে বঙ্গবন্ধু বলে উঠলেন, ” অনেকে তো দালালি করে মরেছে। “

উত্তেজিত নাফিসা কবির বঙ্গবন্ধুর মুখের উপর বলে বসেন, আপনি তো কাউকে হারান নি, আমাদের দুঃখটা আপনাকে বোঝাতে পারব না। ‘

কাজেই লতাদের সেই ঘৃণিত ও জঘন্য মানুষদের তালিকায় যে বঙ্গবন্ধুর নামটিও পড়ে যায়- জানি না সেই খেয়ালটি এই অভিনেত্রীর রয়েছে কি না।