ফরহাদ মাজহার অপহরন, দেশনেত্রী ও জনগনের ক্ষোভ ও প্রতক্ষ্যদর্শীর কিছু অপ্রকাশিত কথা

0
ফরহাদ মজহার সাধারনতঃ খুব ভোরে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং লেখালেখির কাজটা সকাল সকাল সারেন। সকাল বেলা তার কী বোর্ডের টাইপের শব্দ স্ত্রী ফরিদা আখতারের চিরচেনা। ৩ জুলাই সকাল ৫টার পর ফরিদা আখতার এর ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন ফরহাদ মজহার বিছানায় নেই, এমনকি প্রতিদিনের মত লেখার টেবিলেও নেই। তিনি ডাকাডাকি করে বাথরুম সহ ঘরের অন্যান্য জায়গায় খুঁজে তাকে না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে (৫টা ২৯ মিনিটে) ফরহাদ মজহার এর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী ফরিদা আখতার একটি কল পান। ফোনে ফরহাদ মজহার ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন “ফরিদা ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে”। এ কথার পর লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফোনটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফরিদা আখতার ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েন এবং তার অফিস এবং পরিবারের সবাইকে বিষয়টি জানান। সকলের পরামর্শে তিনি আদাবর থানায় গিয়ে তার স্বামীকে অপহরনের বিষয়টি অবহিত করেন এবং তাকে উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চান। সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে পুলিশ, RAB এবং গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা ১ শ্যামলী রিং রোডস্থ ফরহাদ মজহারের বাসভবন হক গার্ডেন-এ আসেন। তারা ভবনের নিরাপত্তা রক্ষীদের সাথে আলাপ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন সকাল ৫টার দিকে ফরহাদ মজহার কে তার স্বভাবসিদ্ধ সাদা ফতয়া-পাঞ্জাবী ও লুঙ্গী পরে বাড়ী থেকে বের হতে দেখা গেছে। পুলিশ বাসায় থাকা ফরহাদ মজহারের অপর একটি ফোন, তিনি যে কম্পিউটার ডেস্কটপে বসে কাজ করছিলেন তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি কারও ফোন কল বা মেসেজ পেয়ে বাইরে বেরুলেন কিনা তা জানার চেষ্টা করে। পুলিশ ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন যে তারা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন তবে তার অপহরণের বিষয়টি যেন বাইরে জানাজানি না হয় এবং কোনভাবেই যাতে বিষয়টি মিডিয়াতে না আসে। পুলিশ আরও জানায় যে, যেই ফোন থেকে স্ত্রী ফরিদা আখতার কে কল করা হয়েছিল তারা তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন এবং পুলিশের গোয়েন্দা নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে তারা খুব শীঘ্রই অপহরণকারীদের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারবেন বলে তারা আশাবাদী। কিন্তু বিষয়টি যদি মিডিয়ার মাধ্যমে জানাজানি হয়ে যায় তাহলে তাকে উদ্ধার করা কষ্টকর হয়ে যাবে। ফরিদা আখতার সরল বিশ্বাসে তাদের কথায় আশ্বস্ত হন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর বিষয়ে একমত হন।
তবে তিনি তার নিকট আত্মীয়দের বাসায় আসতে বলেন এবং সিলেটে বেড়াতে যাওয়া ফরহাদ মজহারের একমাত্র কন্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের আইন পরামর্শক ‘এটর্নি শান্তলী হক’ কে দ্রুত ঢাকায় ফিরে আসতে বলেন। খবর পেয়েই শান্তলী  তাৎক্ষনিক ঢাকায় রাওয়ানা দেন। দুপুর নাগাদ ফরহাদ মজহারের সেই ফোন থেকে আরও দুইবার ফরিদা আখতারের কাছে কল আসে। একই রকম ভয়ার্ত কণ্ঠে ফরহাদ মজহার জানান ‘৩৫ লক্ষ টাকা পেলে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দেবে’ এরপর আবার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। ফরিদা আখতার তার বাসায় অবস্থানকারী পুলিশের গোয়েন্দা টীম কে বিষয়টি জানান। পুলিশ আধুনিক ফোন ট্র্যাকিং দিভাইস ব্যাবহার করে জানতে পারে ফরহাদ মজহার কে নিয়ে অপহরণকারীরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করছে এবং মানিকগঞ্জ হয়ে যশোর-খুলনা অভিমুখে তাদের গতিপথ বলে তাদের ধারনা। ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফরহাদ মজহারের অপহরণের বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীরা ফরহাদ মজহারের বাসভবনে ভিড় করতে থাকে।বি এন পি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিডিয়ায় এগটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ফরহাদ মাজহার কে দ্রুত ফিরিয়ে দেবার জন্য কঠোর বক্তব্য দেন। বিপুল সংখ্যক শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীরাও সমবেত হয় ফরহাদ মজহারের বাসায়। ফরহাদ মজহার কন্যা সমতলি ঢাকায় ফিরে তার আন্তর্জাতিক বন্ধু-স্বজন দের বিষয়টি জানান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সবাই একযোগে প্রতিবাদ জানায়। টুইটার ও ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও সমলোচনার ঝড় ওঠে। ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাস, বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফরহাদ মজহারের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। সরকারের কাছেও তারা ফরহাদ মজহারের বিষয়ে জানতে হয়। বিকেল বেলা ফরহাদের মজহারের বাসায় প্রায় সকল গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে তার বন্ধু-স্বজন এবং মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে লেখক ও কলামিস্ট গৌতম দাস জানান ফরহাদ মজহারকে কে বা কারা তার বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তারা তার জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার পরিবার এই মুহূর্তে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত তাই তারা মিডিয়ার সামনে কথা বলতে পারছেনা।
সারা দুনিয়ায় ফরহাদ মজহারের অপহরণ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়লেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ ফরিদা আখতার এবং তার পরিবারের সদস্যদের মিডিয়ার কাছে কিছু না বলতে অনুরোধের চাপ অব্যাহত রাখে। ফরিদা আখতার বারবার পুলিশকে বলতে চেষ্টা করেন ‘আপনাদের সব অনুরোধতো আমি রাখছি এবং সকল সহযোগিতা করছি কিন্তু আপনারা সারাদিন ধরে ট্র্যাক করেও কেন এখনও ফরহাদ মজহার কে উদ্ধার করতে পারছেননা?’ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফরিদা আখতারের ফোনে শেষবারের মত কল আসে। এসময় ফরহাদ মজহারের কণ্ঠ ছিল খুবই দুর্বল। তিনি জানতে চান ৩৫ লক্ষ টাকা জোগাড় হয়েছে কিনা নাহয় তারা তাকে মেরে ফেলবে। ফরিদা আখতার জবাবে বলেন সব টাকা আমি জোগাড় করব তবুও তাদের বলেন আমরা আপনাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চাই। একথা বলার পর আবার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফোনালাপ পুরোটাই রেকর্ড করেন এবং ট্র্যাক করেন। রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিভিন্ন মিডিয়ায় ফরহাদ মজহার কে উদ্ধারে নানা জায়গায় অভিযান পরিচালনার খবর আসে। একটি সাদা মাইক্রবাস রেখে অপহরণকারীরা ফরহাদ মজহার কে নিয়ে সীমান্তের দিকে পালিয়ে গেছে এরকম গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কোন কোন মিডিয়ায় পুলিশের বরাত দিয়ে ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় বাসা থেকে বেরিয়ে গেছেন। তাকে কোন এক হোটেলে একা একা ভাত খেতে দেখা গেছে মর্মে খবর প্রচার হতে থাকে।
পুলিশের বরাত দিয়ে এসকল সংবাদ প্রচার হওয়ায় ফরিদা আখতার হতাশ হয়ে পড়েন। সারাদিন পুলিশ তাকে মিডিয়ায় কথা বলতে নিষেধ করে রাত শেষে নিজেরা মিডিয়ায় নানা রকম বিভ্রান্ত মূলক কথা বলছে দেখে তিনি বিস্মিত হন। রাত দশটায় ফরিদা আখতার তার মেয়ে শান্তলী হক, তাদের পারিবারিক মিত্র মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরি, প্রফেসর ড মামুন আহমেদ, ডাঃ পিনাকি ভট্টাচার্য সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। ফরিদা আখতার দেশবাশী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থা সমূহ, গণমাধ্যম সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সকাল ১১টা থেকে পুলিশ অপহৃত ফরহাদ মজহার এবং অপহরণ কারীদের ফোন ট্র্যাক করে অবস্থান ও চলাচলসম্পর্কে জানতে পারলেও এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে না পারায় তিনি শঙ্কিত। মেয়ে শান্তলী হক বলেন আমার বাবার বয়স ৭০ তিনি অসুস্থ। তিনি একজন দেশপ্রেমিক প্রজ্ঞাবান লেখক। আমরা কিছু চাইনা শুধু তাকে সুস্থ ও জীবিত ফেরত চাই। ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরি বলেন ফরহাদ মজহার কে মুক্তিপনের জন্য কিডন্যাপ করা হয়েছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এটা গুম ও অপহরণের নতুন মাত্রা ও কৌশল হতে পারে।
শোনা যায় মার্কিন কংগ্রেস থেকে প্রচন্ড চাপ দেয়া হয় বাংলাদেশ  সরকারকে,“talk less…..we want work” 
————-পরিস্কার নির্দেশ। ১২ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যানের ফোনের চাপে ফরহাদ মজহারকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সরকার। এর সকল আয়োজন করেছেন ফরহাদ মজহারের কন্যা শান্তলি হক। অপহরনের আধা ঘন্টার মধ্যে হাসিনা সরকার ফোন পেতে শুরু করে। ক্রমশঃ চাপ তীব্র হয়, এমনকি হুমকিও দিতে হয়। অবশেষে গুমকারীদের প্রতি নির্দেশ যায়- ছেড়ে দাও!
বিভিন্ন গণমাধ্যম ফরহাদ মজহার পরিবারের এই সংবাদ ব্রিফিং লাইভ সম্প্রচার করে। ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ পুরো বিষয়টি জানতে পারে। এই সংবাদ সম্মেলনের পরই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। রাত ১১-৩০ মিনিটে RAB সদর দফতর থেকে টেলিফোনে ফরিদা আখতার কে জানানো হয় তারা যশোর এর নওয়াপাড়া থেকে ফরহাদ মজহার কে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সাথে সাথে সকল গণমাধ্যমে ফরহাদ মজহার কে জীবিত উদ্ধারের ব্রেকিং নিউজ প্রচার হতে থাকে। অবসান হয় শ্বাসরুদ্ধকর ১৮ ঘণ্টার।
নাটক পরবর্তী কিছু প্রশ্ন , কিছু জিজ্ঞাসা- কোথায় নেয়া হয়েছিল ফরহাদ মাজহার কে-  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু বিশ্লেষন ও তথ্য থেকে জানা যায় ( মেজর ডালিম, সুঞ্জিব আনোয়ার সহ অনেকের)

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাইক্রোবাসে নিয়ে যাচ্ছে, কালো গ্লাস ঢাকা মাইক্রোবাসে তারা তুলে নিচ্ছে, তারা আবার অস্বীকার করছে। তারা আবার নাটক করে দেখাচ্ছে।
=================================

কয়েকজন লোক ফরহাদ মজহারকে চোখ বেঁধে তুলে নেয়’ – তাকে হত্যার কোন উদেশ্য ছিল না। ফরহাদ মজহারকে দিয়ে অন্যদের সংকেত পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে চুপ থাকবেন তিনি।
ফরহাদ মজহারকে অপহরণের অভিযোগে পরিবারের মামলা হবে। আসামি কেউনা (!) সবাই অজ্ঞাত/ অজ্ঞান পার্টির ?

মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয়েছে।
কেন তাকে তুলে নেয়া হলো ?
=====================
বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা রায়ের পর দরকার ছিল একটা নাটকের অবতারণা। তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো
আপাতত কয়েকজনের গুম করার বিষয়। নামীদামী কয়েক জনের নাম প্রস্তাব করার পর খানিক বিতর্কের পর ঠিক হলো ফরহাদ মাজহারকে তুলে নিয়ে আপাতত বামপন্থি ( যারা আওয়ামীলীগের অপকর্মের বিরোধিতা করে ) তাদের কে নোট পাঠানো।

মাহমুদুর রহমানের সংবাদ সম্মেলন এবং ভারতীয় গোমাতার সন্তানদের হাতে গরু রক্ষার নামে মুসলিম নির্যাতনের বিষয়টি বাংলাদেশে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন। থেকে নাম এলো কয়েকজনের। যাতে আর কেউ ভারতের বিরোধিতা না করে , এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তেমন কিছু করার সাহস না দেখায়।
কি এমন জরুরি ঔষধি কারবার ছিল ?

কিন্তু ‘ওষুধ কিনতে যাওয়া পুলিশের শিখানো বক্তব্য …….
=====================
ভোর ৫টার দিকে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে নিচে আসতে বলে। তিনি বাইরে বের হলে তারা তাকে অপহরণ করে। তিনি ৫.২৯ মিনিটে একটি অপরিচিত ফোন থেকে তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারকে জানান, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃতরা তার কাছে ৩৫ লাখ টাকা দাবি করেছে।
বেলা ১২টার দিকে আবারো ফরহাদ মজহার ফোন করে তার স্ত্রীকে জানান, তাকে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

১৯ ঘণ্টা পর মিডিয়ার সামনে যেন হলো সব কাহিনী। তবে আবারো নাটকের পরিচালকদের সেই খেলা –
===============
সকালে ঢাকার আদাবর থানায় আনার পর সেখান থেকে নেয়া হয় তেজগাঁও ডিসি অফিসে। এরপর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে।

নিখোঁজের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ নাটক –
=====================
রাতে যশোরের নোয়াপাড়া থেকে উদ্ধারের পর আজ সকালে তাঁকে রাজধানীর আদাবর থানায় আনা হয়েছে।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে আনা হয়েছে।

পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রাতে ফুলতলা থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ভ্রমণে বের হয়েছিলেন কলামিস্ট ফরহাদ মজহার।
তবে ফরহাদ মজহার পরিবারকে জানিয়েছে, সন্ধ্যার পর তার চোখের বাঁধন খোলা হয়।

সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে যশোরের নোয়াপাড়া এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে মজহারকে উদ্ধার করা হয়। এর পর রাত দেড়টার পর খুলনার ফুলতলায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হয়।

সোমবার ভোর ৫টার দিকে রিং রোডের ১ নম্বর বাসার সামনে থেকে কে বা কারা ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

‘উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া’র আধা ঘণ্টা পর ফরহাদ মজহারের মোবাইল ফোন থেকে তাঁর স্ত্রীর কাছে টেলিফোন আসে। ফোনে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এ কথা বলেই তিনি ফোনটি কেটে দেন।

পরবর্তীতে ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের কথা বলা হয়। এরপর থেকে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মি. গফুর নামে বাসের টিকিট কেটে হানিফ পরিবহনের ৫০৫ নং এসি কোচ কাহিনী।
=======================
নাটকের এই পর্যায়ে বেছে নেয়া হয় হানিফ পরিবহনকে। অপহরণকারীরা মি. গফুর নামে বাসের টিকিট কেটে আই-৩ সিটের যাত্রী বানিয়ে তুলে দেয়া হয় । খুলনার শিববাড়ি কাউন্টার থেকে বাসে ওঠেন। ঘুমের ইনজেকশন দেয়ার কারণে বাসে উঠেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই নওয়াপাড়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর পুলিশ তাকে গাড়ি থামাতে নির্দেশ দেয়। অভয়নগর থানা পুলিশ ফরহাদ মজহারকে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর আগে থেকে তৈরী র‌্যাব সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়।র‌্যাবের মেজর রফিকুল ইসলাম ফরহাদ মজহারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন। এ সময় অভয়নগর থানার ওসিসহ পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে অভয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিপ্লব কুমার সরকার জড়িত।
==================
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। আদাবরের হক গার্ডেনের এলাকা থেকে ঢাকার বাহিরে যাবার পূর্ব পর্যন্ত সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন। আদাবর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুজিত কুমার সাহা ছিলেন থানা এলাকার দায়িত্বে।

একই ব্যক্তি ডাবল অভিনয়ে —
==============
সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পরিবারের লোকজন আদারব থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে ফরহাদ মজহারের অপহরণের ব্যাপারে অভিযোগ করেন। এর পরপরই পুলিশ তেজগাঁও থানার ডিসি বিপ্লব কুমারসহ আদাবর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা তার বাড়িতে যান। তারা পরিবারের লোকজন, বাসার দারোয়ান ও আশেপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। ওই বাসার সিসিটিভি’র ফুটেজ সংগ্রহ করেন।

খুলনা নগর ডিবির সহকারী কমিশনার এ এম কামরুল ইসলাম খুলনায় যুক্ত হন যেভাবে —
==================
ফরহাদ মজহারকে নিয়ে গোপন বাহিনী যখন খুলনায় পৌঁছে তখন আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ এলাকায় থাকা শিববাড়ী মোড় থেকে খুলনা নগর ডিবির সহকারী কমিশনার এ এম কামরুল ইসলাম তার গাড়ি নিয়ে যুক্ত হন।
ডিবি ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন সাজাবেন বাকি

নাটকের অংশ –
=====================
মঙ্গলবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
আব্দুল বাতেন বলেন, ফরহাদ মজহার আমাদেরকে বলেছেন, সোমবার ভোরে তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পরই কয়েকজন তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। মাইক্রোতে তুলেই তারা তার চোখ বেঁধে ফেলে।
তিনি বলেন, বিস্তারিত জানতে ফরহাদ মজহারকে আদালতে তুলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হবে। পরে এসব নিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্ত করেই তার নিখোঁজের কারণ জানা যাবে।

ব্যাগ কোথায় থেকে আসলো ?
===================
যদি ‘ওষুধ কিনতে নামলে কয়েকজন লোক ফরহাদ মজহারকে চোখ বেঁধে তুলে নেয়’ তাহলে অপরিচিত ব্যাগ কোথায় থেকে আসলো ?
বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতে কোনো ধরনের ব্যাগপত্র ছিল না।’
সিসিটিভি ফুটেজে একবস্ত্রে বের হওয়া ব্যক্তি কীভাবে ব্যাগসহ ‘উদ্ধার’ হন?

মজহারের সঙ্গে থাকা ব্যাগটির বিষয়ে কিছু কথা। ফরহাদ মজহারের সঙ্গে থাকা ব্যাগটির বিষয়ে তাঁর মেয়ে , স্ত্রী , পারিবারিক বন্ধু কেউ কোনদিন এই মজহারের সঙ্গে পাওয়া ব্যাগটি দেখেন নাই।
তাদের সবার বক্তব্য – উনি প্রায়ই একটা ব্যাগ সঙ্গে রাখেন বই পড়ার জন্য। তবে তার কাছে যেমন ব্যাগ দেখা গেছে তেমন ব্যাগ উনি ইউস করেন না। এ ব্যাগ কোথায় থেকে আসলো জানি না।’

বাংলাদেশ র‌্যাব পুলিশের সেই একই কায়দায় , একই স্ক্রিপ্টে বক্তব্য –
=====================
উদ্ধার করার পর গতকাল দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে খুলনার ফুলতলা থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ফরহাদ মজহারের ব্যাগে মোবাইল ফোনের চার্জার, শার্টসহ বেড়াতে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া গেছে। ব্যাগ দেখে বোঝা যায় যে তিনি স্বেচ্ছায় ভ্রমণে এসেছেন।

র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) মিজানুর রহমান জানান, হানিফ পরিবহনের একটি বাসে তিনি খুলনা থেকে বাসার উদ্দেশে ফিরছিলেন।

মঙ্গলবার বেলা ১টার কিছু পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জয়েন্ট কমিশনার আব্দুল বাতেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ডিএমপির উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান, তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার।

আব্দুল বাতেন বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি কীভাবে কী হলো। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল ওষুধ কেনার জন্য তিনি বের হন। পরে সাদা মাইক্রোতে কয়েকজন লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তার চোখ বেঁধে ফেলায় তিনি আর কিছু বুঝে উঠতে পারেননি।

পুলিশের পক্ষ থেকে আগে দেয়া কিছু বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো তিনি বলেন, আগের বক্তব্য বাদ। বর্তমানটাই আসল তথ্য।