প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল-খনন কর্মসূচি বন্যা সমস্যা সমাধানের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

0

 

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল-খনন কর্মসূচি বন্যা সমস্যা সমাধানের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী

এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই বন্যা সমস্যা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা ছিল এবং আছে।  আমাদের বন্যা প্রতিরোধের জন্য কেবল আমাদের দেশেরই নয়, বিশ্বের বড় বড় প্রকৌশল সংস্থা নানা রকমের গবেষণা করে বিভিন্ন পরিকল্পনা পেশ করেছেন এবং শুধু পরিকল্পনা পেশ করেই তারা আমাদের বিস্তর অর্থ গলধ করন করিয়াছেন, বলা বাহুল্য, সে অর্থও আমরা ঋণ করে ব্যয় করেছি। । কিন্তু সেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে প্রয়োজন হাজার হাজার কোটি টাকা। এত টাকা আমরা পাবো কোথায়?

মূলত অর্থনৈতিক কারণেই আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে বন্যা সমস্যার সমাধানে অপারগ।আমাদের দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র মিশেছে এশিয়ার তিনটি বিশাল নদী গঙ্গা বা পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা এবং তাদের আরও অনেক শাখা নদী। গ্রীষ্মে উত্তরের পর্বতমালা থেকে বরফগলা পানি, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ও সেই সঙ্গে প্রচুর পলিমাটি যা আমাদের সব কয়টি নদীর তলায় এসে জমতে থাকে, এই পলিমাটি সুদির্ঘ বছর ধরে জমতে জমতে এখন নদীর তলা অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছে ফলে যে বছর একটু বেশি বৃষ্টি হয় তখন পানি নদীর দু’কূল ছাপিয়ে মাঠ-ঘাট বাড়ি-ঘর ডুবিয়ে দক্ষিণে সমুদ্রের দিকে ছুটতে থাকে, আর তখনই হয় বন্যা। যদি বিস্তর অর্থ ব্যয় করে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করে বড় বড় নদী গুলির গভীর তলার মাটি কেটে তোলা যেতো তাহলে নদীর গভীরতা বাড়তো আর বন্যাও হতো না, কিন্তু আমাদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির মোকাবেলাও তো করতে হবে, এখানেই তাঁর তীক্ষ্ণ মেধার পরিচয় দিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যুগ যুগ  ধরে চলে আসা জটিল এক সমস্যার এতো সহজ একটি সমাধান বের করলেন যা শুধু ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন একজন রাষ্ট্রনায়কের পক্ষেই সম্ভব।

প্রায় সকল গ্রামেই অনেক মজা পুকুর আছে, খাল আছে যা প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সব খাল বিল পুকুর পুনরায় গভীর করে খনন করার সিদ্ধান্ত নিলেন, যার ফলে বর্ষাকালে যে অতিরিক্ত পানি জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে সেই পানি এসে এই সব খাল বিল পুকুরে জমা হবে এবং বন্যা সমস্যার চির স্থায়ী সমাধান হবেই তার সাথে এই পানি মাছের বংশ বৃদ্ধির জন্য কাজে লাগবে।  কিন্তু এখানেও সেই টাকার প্রশ্ন এসে যায় কারণ, এই সব পুকুর খাল বিল কাটতে প্রয়োজন হবে প্রচুর শ্রম ও শ্রমিকের এবং তাদের পারিশ্রমিকের, তো অনেক টাকারই প্রয়োজন। এই টাকা কোথায় পাওয়া যাবে। তিনি একটা উপায় উদ্ভাবন করলেন। বললেন, দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি সকলকে ডাক দিলেন খাল খননের জন্য। সকলে যদি একদিন দু’দিন শ্রম দেয়, নিজে মাটি কাটে তাহলেই তো হবে। এ কাজ তো অপরের কাজ নয়। নিজের কাজ নিজে করতে লজ্জাই বা কোথায়। তিনি সকলে উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েই বসে থাকলেন না,  নিজে এগিয়ে এহেন জনগণের সঙ্গে হাত হাত মিলিয়ে কোদাল দিয়ে মাটি কাটতে আরম্ভ করলেন। সাথে সাথে বাংলাদেশের কয়েক কোটি মানুষ কোদাল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লো খাল কাটার কাজে।

তিনি নিজে গিয়েছেন, নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটেছেন। সরকারি সকল অফিসার তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়ে খাল কাটার কর্মসূচিতে নেমে পড়েছিল। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন স্বেচ্ছায় শ্রম দিতে। অগণিত মানুষের স্বেচ্ছা-শ্রমে কাটা হলো উলসি যদুনাথপুর খাল। আরও কত খাল ও মজা পুকুর।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনুধাবন করতেন যে, সমগ্র বাংলাদেশ স্বনির্ভরতার চাবি আছে এ দেশের হাজার হাজার গ্রামের মাঝে, দেশের প্রতিটি গ্রামকে স্বনির্ভর করে তুলতে পারলে তবেই পুরো দেশটা স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। দেশ স্বনির্ভর হলে বিদেশ হতে আর ঋণ করে টাকা আনতে হবে না। তাই উন্নয়ন আরম্ভ করতে হবে গ্রাম থেকে।

জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী