প্রেসিডেন্ট জিয়া সমুদ্রতটে আছড়ে পড়া সাগরের উত্তাল তরঙ্গের মতো প্রাণচঞ্চল – ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ

0
  • User Ratings (0 Votes) 0
    Your Rating:
Summary

‘তলাবিহীন ঝুড়িতে’ নতুন শস্য ঢেলে ঝুড়িটার তলা মেরামত করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি দেশময় জাগিয়ে তুলেছিলেন কর্মোদ্যম এবং কর্মযোগের এক নবজাগরণ, কাজ-কাজ এই ছিল তাঁর ডাক। বর্ধিত উত্পাদন প্রয়াসকে তিনি সংযোজন করেছিলেন দেশের রাজনীতিতে। সেটার তিনি নাম দিয়েছিল উৎপাদনে রাজনীতি' - রতনি টাস্কার(সাংবাদিক), ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ।

Awesome

১৯৭৯ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত সংবাদ সাময়িকী ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউর প্রতিনিধি রতনি টাস্কার বাংলাদেশ সফরকালে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাক্ষাত্কার ।

‘তলাবিহীন ঝুড়িতে’ নতুন শস্য ঢেলে ঝুড়িটার তলা মেরামত করতে চেয়েছিলেন। তিনি দেশময় জাগিয়ে তুলেছিলেন কর্মোদ্যম এবং কর্মযোগের এক নবজাগরণ, কাজ-কাজ এই ছিল তাঁর ডাক। বর্ধিত উত্পাদন প্রয়াসকে তিনি সংযোজন করেছিলেন দেশের রাজনীতিতে। সেটার তিনি নাম দিয়েছিল উৎপাদনে রাজনীতি।

এক কথায় যে যে বাস্তব সমস্যার সঙ্গে এদেশ প্রত্যহ মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করেছিলেন। ডাক দিয়েছিলেন বিপ্লবের। বলেছিলেন, এই বিপ্লব হবে শান্তিপূর্ণ। রাজনীতির ক্ষেত্রে ছিল না তাঁর কোনো আড়ষ্টতা। সাফল্য আর ব্যর্থতার খতিয়ান নয়, তাঁর উদ্যোগের পেছনে সক্রিয় নিষ্ঠা এবং সত্ প্রয়াসকে আজ সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছে। বিশ্বের নেতৃস্থানীয় পত্র-পত্রিকায় আজ অবধি চলছে তারই স্বীকৃতি।

১৯৭৯ সালের অক্টোবর মাসে ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউর প্রতিনিধি রতনি টাস্কার বাংলাদেশ সফর করেন এবং প্রেসিডেন্ট জিয়ার এক সাক্ষাত্কার নেন। সফর শেষে রতনি টাস্কার লেখেন যে, জিয়ার প্রধান সম্পদ হলো তাঁর ব্যক্তিগত সততা।

সমালোচকরাও তাঁর সততা এবং নিষ্ঠা সম্পর্কে একমত। তাঁর পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়স্বজন কোথাও তাঁর নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটের চেষ্টা করেছেন এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। রতনি টাস্কার ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউতে ’৭৫ সালে পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জিয়ার সূচিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর মন্তব্যসূচক এক দীর্ঘ প্রতিবেদন তুলে ধরেন এবং এক অধ্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সম্পদ প্রাপ্তির সম্ভাব্যতা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা করেন। নিম্নে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে তাঁর কর্মসূচির ব্যাখ্যা সংবলিত গৃহীত সাক্ষাত্কারটি পত্রস্থ করা হল :

প্রশ্ন : মুজিবের পতনের পর আপনি একপর্যায়ে পূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণ করে বলেছিলেন, সামরিক বাহিনী ও আপনি নিজে শিগগিরই ব্যারাকে ফিরে যাবেন এবং বেসামরিক প্রশাসনের পথ তৈরি করে দেবেন। এখন আপনি নেতা হিসেবে থেকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখলেন কেন?

উত্তর : সে সময় (আগস্ট ১৯৭৫)—কি ঘটতে যাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তা আমাদের জানা ছিল না। তখন আমি উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। সময় গড়িয়ে পরিস্থিতি আমাকে টেনে আনে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, এমন একটা কিছু যেন রয়েছে, যা আমাকে টেনে ধরছে। এরপর হয় গণভোট। এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করি। এরপর কয়েকটি দলকে একক দলে একীভূত করে (বিএনপি) পার্লামেন্ট নির্বাচন করি। এগিয়ে যাই। সামরিক আইন তুলে নেয়া হয়। দেশে এখন সম্পূর্ণ বেসামরিক সরকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।

প্রশ্ন : শাসনতন্ত্রের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের পরিবর্তে সামরিক আইন বলে গৃহীত ব্যবস্থা সমূহকেই টিকিয়ে রাখা হয়েছে। একথা সত্য নয় কি?

উত্তর : এই বক্তব্যে কোনো যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না।সে সময় সামরিক আইন মোতাবেক আমরা কিছু পদক্ষেপ নেই। সামরিক আইন যখন বেসামরিক সরকার কায়েমের পথ তৈরি করে দেয়, বেসামরিক সরকার তখন এগুলিকে বৈধ করার জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে এবং পদক্ষেপ সমূহকে এভাবেই সঙ্গত করে নেয়। পঞ্চম সংশোধনী পার্লামেন্টে আলোচনা ও অনুমোদিত হয়েছে। তাই এটা বৈধ।

প্রশ্ন : বিরোধী দলসমূহকে খণ্ড-বিখণ্ডিত মনে হচ্ছে। এটা কি সুস্থ অবস্থা বলে আপনি মনে করেন? পূর্ণ গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে এ অবস্থা কি আপনার ইচ্ছার প্রমাণ করে?

উত্তর : আওয়ামী লীগ এর আগে ক্ষমতাসীন ছিল। তাদের সংগঠন বড়। দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কোন্দলের অনিবার্য পরিণতিতে তারা এ অবস্থার সম্মুখীন বলে আমি মনে করি। অন্যান্য দলের বেলায়ও এই একই কারণ। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে আমরা তাদের মতামত নিই।

প্রশ্ন : আপনার মন্ত্রিসভা এবং দলে শেখ মুজিবের এক সময়কার সমর্থক এবং তার পতনের জন্য কাজ করেছে এই উভয় ধরনের লোক রয়েছে। এটা বিস্ময়কর নয় কি?

উত্তর : আমাদের সঙ্গে অনেক লোক আছে, যারা এর আগে অন্যান্য দলে ছিল। অনেক লোককে বিন্যস্ত করে আমাদের এই দল গড়ে ওঠে, জনগণের মধ্যেই এর শিকড়। এই দলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। আমরা দ্রুতগতিতে দেশব্যাপী এ দল সংগঠিত করি। কর্মসূচি ব্যাখ্যা করে কর্মীপর্যায়ে দলে অনেক সভা সম্মেলন হচ্ছে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক উত্পাদনের দিকে এগিয়ে নেয়াই এই রাজনৈতিক তত্পরতার লক্ষ্য।

একমাত্র এই প্রক্রিয়াই দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। আমাদের দল সুসংগঠিত। কাজেই তা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণ করাতে সক্ষম। তাদের সবাইকে আমার দলে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম দিয়েছি। দলীয় প্লাটফরমের মাধ্যমে আমরা তাদের জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করানোর জন্য সংগঠিত করতে চাই।

সার্বিক জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সমাজে বিভিন্ন স্তরে জনগণ এবং রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা প্রাপ্তির মাধ্যমে যাতে নিজেদের সংগঠিত ও কর্মতত্পর করতে পারে তজ্জন্য কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক ও নারী সমাজকে একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি দিয়েছি, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও আমাদের কর্মসূচি রয়েছে।

প্রশ্ন : আপনার কিছু সংখ্যক সমালোচক বলেছে যে, আপনি নিজের অবস্থানকে সংহত করার কাজে ব্যস্ত, ফলে পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি অবহেলিত হচ্ছে?

উত্তর : আমরা যা করেছি, তা হলো দলীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। কেননা আমাদের এই দেশে জাতীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। আমাদের একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি আছে। তা বাস্তবায়ন এবং জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে সে অনুসারে দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য দলের একটি নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে। দলীয় নেতৃবর্গ এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মীগণ এতে প্রশিক্ষণ নেয়। দেশে কোনো দলের এ ধরনের নিজস্ব কেন্দ্র এই প্রথম। আপনি জানেন প্রাথমিক অবস্থায় দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার কাজে উন্নয়ন কলাকৌশলের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি ও সাংগঠনিক ভিত গড়ে তোলা কত কঠিন কাজ। গত দু’বছরে উন্নয়ন ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। দেশকে সামরিক শাসন থেকে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনেছি। মনে হয় আপনি অবগত আছেন যে, সেনাবাহিনীর কোনো লোক সামরিক আইন জারি করেনি। আওয়ামী লীগের একজন রাজনৈতিক নেতা (সাবেক প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক) এই কাজটি করেন। পরিস্থিতি তাই ছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর কাঁধের ওপর তা এসে পড়ে।

প্রশ্ন : দুর্নীতি এখনও শংকার কারণ কি?

উত্তর : হ্যাঁ! সব সময়ই দেশে ব্যাপক দুর্নীতি চালু আছে। সারা বিশ্বেও আমি তাই দেখছি। দুর্নীতির নয়া নয়া পন্থা দেখা যাচ্ছে। লোকজন বাইরে যাচ্ছে আর দুর্নীতির নয়া কৌশল শিখছে। আপনি জানেন, আমরা প্রশাসন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছি, এতে আরও কিছু সময় লাগবে। দেশকে রাজনৈতিকভাবে আমরা সংগঠিত করছি। প্রশাসনের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এ ভারসাম্য হবে প্রশাসনে জনগণের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন সংস্থার গুরুত্ব বাড়াতে চায় বলে মনে হয়। আপনাদের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক কি?

উত্তর : ১৯৭৫ সাল থেকে আমরা আরো অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে কাজ করছি। প্রত্যেকের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ১৯৭৫ সালের পর চীন, সৌদি আরব, কোরিয়া, পাকিস্তান এবং অপর দু’একটি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফিলিপাইন ও জর্ডানে শিগগিরই আমাদের মিশন খোলা হবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য হলো মৈত্রীর বিস্তার এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা চাই। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটা অপরিহার্য। কোনো শক্তি জোটের পক্ষাবলম্বন না করে এই অঞ্চলের প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের মাধ্যমেই তা অর্জন করা যাবে।

প্রশ্ন : এর মানে কি মুজিব শাসনামলের সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বিদ্যমান বিশেষ সম্পর্ক থেকে আপনি সরে যাচ্ছেন?

উত্তর : তা আমি মনে করি না। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা এখানে কয়েকটি প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে সময়ে সময়ে প্রতিনিধি দল বিনিময় হচ্ছে।

প্রশ্ন : ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আপনি নয়াদিল্লির সদিচ্ছার ওপর বাংলাদেশের আস্থা কমিয়ে আনতে চান?

উত্তর : ভারতের সঙ্গে দু’তিন বছরে বাণিজ্য বেড়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বিদ্যমান।… উভয় দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের এক যৌথ কমিশন রয়েছে। গঙ্গা অববাহিকার পানির যৌথ ব্যবহারের একটি দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন : চলতি সালে খরায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় বাজেটের অধিকাংশ অর্থ খাদ্য ক্রয়ে ব্যয় করা হচ্ছে। এতে কি দেশের সাধারণ অর্থনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হবে না?

উত্তর : খরার ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এর ফলে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচি যাতে ব্যাহত না হয়, পাশাপাশি তারও ব্যবস্থা নিয়েছি। কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি ও পল্লী উন্নয়নে আমরা অতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ করেছি। আপনি জানেন যে, লুসাকা (কমনওয়েলথ শীর্ষ বৈঠকে) এবং হাভানা বৈঠকে তা গৃহীত এবং বাংলাদেশ এর সমন্বয়কারী দেশ হিসেবে মনোনীত হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর। কৃষি উন্নয়নে কিছু বিদেশী তহবিলের সঙ্গে আমরা যোগসূত্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছি। কৃষি খাত এবং খনিজ, গ্যাস ও তেল আহরণের বিশেষ প্রকল্পসমূহের জন্যে আমাদের দেশী মুদ্রারও অভাব রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রশ্ন : আপনি খাদ্য উত্পাদনে বাংলাদেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারার এমনকি উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য রফতানির কথাও বলেন, কৃষিখাতে বিশেষত যখন বিনিয়োগ মন্থর বলে শোনা যাচ্ছে তখন এই লক্ষ্য অর্জনের আশা কি উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়?

উত্তর : কৃষিখাতে বিনিয়োগ ধীরগতি সম্পন্ন হয়ে পড়েছে কথাটি সঠিক নয়। সমস্যা ব্যাপক তাই সবকিছুকে সংগঠিত করা কষ্ট সাপেক্ষ। কিন্তু এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি সেখান থেকে আমরা সঠিকভাবে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব।

প্রশ্ন : বৈদেশিক ঋণের ওপর আপনি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দাতা দেশগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্যে বাংলাদেশে তহবিল জোগান অব্যাহত রাখবে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর : এ পর্যন্ত আমাদের জন্যে খুবই অসুবিধাজনক সময় ছিল। শূন্য থেকেই আমরা শুরু করেছি। এখন আরও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মতো অবস্থায় পৌঁছেছি। উদাহরণস্বরূপ কৃষি খাতের কথা বলা যায়। আমরা কৃষিকে এগিয়ে নিতে চাই এই কারণে যে, এ খাতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত উত্পাদন করে তা রফতানি করা সম্ভব। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই খাতে আমাদের চাহিদা পূরণ করে রফতানির সমতা অর্জন করা যাবে। এখন অসম্ভব মনে হলেও তা কঠিন নয়।

প্রশ্ন : ২.৫-৩% হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির আলোকে জনগণের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনাও জন্মশাসনে আপনি কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

উত্তর : ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না এবং কিছুই হয়নি। ১৯৭৫ সালের পর গ্রামে পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প কাজ করার জন্যে আমরা বহু সংখ্যক নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিই। এখন পল্লী এলাকায় ৩৮ হাজার পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তবে তাদের তত্ত্বাবধান পর্যাপ্ত নয়। তাদেরকে দিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করানোর জন্যে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ ও কাজের খতিয়ান নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। বহুসংখ্যক নারী-পুরুষও জন্মশাসন অপারেশনের জন্যে আসছে এবং তাদের এই সুযোগ-সুবিধা দিতে আমরা সক্ষম হচ্ছি।

এটা একটি স্পর্শকাতর এলাকা, রাতারাতি এখানে বৈপ্লবিক কিছু করা যাবে না। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে আমরা পর্যায়ক্রমে এগুচ্ছি এবং তার ফলাফল পাচ্ছি। জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে আমরা এক নম্বর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছি। কেননা, এই শতাব্দীর শেষে এই জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলে কেউ বেঁচে থাকবে না। আমাদের জনসংখ্যা সর্বোচ্চ দশ কোটিতে সীমিত রাখতে হবে। অন্যথায় দেশের জন্য মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হত।

ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ, অক্টোবর, ১৯৭৯

Collected&Published By: Zubair Tanvir Siddique