প্রাণভিক্ষার আবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের আহবান ড. শাহদীন মালিকের

0

জিসাফো ডেস্কঃ জানা গেছে, সংবিধানে ‘প্রাণভিক্ষার আবেদন’ বলে কিছু নেই। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’

এই অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো আবেদন করলেই সেটা প্রাণভিক্ষার আবেদন হবে কিনা জানতে চাইলে আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, ‘আইনে প্রাণভিক্ষা বলে কিছু নেই। আসামি প্রাণভিক্ষা চাইবে কেন? আইনগতভাবে কেউ প্রাণভিক্ষা চাইতেও পারেন না। আবার রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষা দেয়ারও মালিক না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ প্রাণভিক্ষা না চাইলে সেটা প্রাণভিক্ষার আবেদন হবে কেন? আবেদনে কী চাচ্ছে সেটা দেখতে হবে। আবেদনে আসামি যদি পুনঃবিচার চায়, তাহলে সেটা তো প্রাণভিক্ষার আবেদন হল না।’ ড. মালিক বলেন, ‘এখন দুই যুদ্ধাপরাধী আবেদনে কী চেয়েছে সেটা দেখতে হবে। আবেদনে যা চেয়েছে তা তো রাষ্ট্রীয় গোপনীয় জিনিস নয়। আবেদনের বিষয়বস্তু কী সেটা জনসম্মুখে প্রকাশে সমস্যা কী?’ জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এটা প্রকাশ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ১৮ নভেম্বর যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর রিভিউ আবেদন খারিজের মধ্য দিয়ে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটে। শুধু বাকি ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে দুই আসামি প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন মর্মে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধাপরাধী এই দুই সাবেক মন্ত্রীর ক্ষমার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করার পর শনিবার মধ্য রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।