প্রভুকে খুশি করতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছেন;রুহুল কবির রিজভী

0

জিসাফো ডেস্কঃ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আওয়ামী কাননের ফুল মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‌‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী কাননেরই ফুল। তারপরও ইতোমধ্যে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিয়ম শেষ করেছেন। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সংলাপ হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ না হতেই সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, প্রভুকে খুশি করতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছেন।’

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন না। এ জন্যই তিনি কারও মতামতকে তোয়াক্কা না করে সরকার প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপে যে পরামর্শগুলো উঠে আসছে সেগুলোকে তিনি গ্রহণ করতে পারছেন না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সেনাবাহিনী মোতায়েন ও তাদেরকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান, নির্বাচনের পূর্বেই সংসদ ভেঙে দেয়া ইত্যাদি বিষয়ে ইসি সংলাপের ঐসব মতামতকে আমলে নিচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার কিছু কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে জনগণ প্রবল সংশয়ের চোখ দিয়ে দেখছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি সিইসি হিসেবে কে এম নুরুল হুদার দায়িত্ব নেয়ার পর যেসব উদ্যোগ-আয়োজন নেয়া হয়েছে, তা তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ীই করছেন। এর আগে তিনি বেআইনিভাবে একক সিদ্ধান্তে সরকারের পছন্দমতো লোকদের ইসিতে নিয়োগ ও বদলি করেছেন। তার অধীনে নির্বাচনগুলোও সম্পন্ন হয়েছে রকিব কমিশনের আদলেই।’

সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, ‘সিইসির কথা ও আচরণে প্রতীয়মান হচ্ছে যে তিনি আওয়ামী লীগ বা তাদের জোটের প্রতি সরাসরি তার আনুগত্য আছে। সুতরাং এই সিইসির অধীনে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না সেটি তিনি নিজেই প্রমাণ করছেন। সুতরাং আগামী নির্বাচনকে ঘিরে যে সংলাপ চলছে তা কেবলই আইওয়াশ বলে অনেকেই মনে করছেন। নির্বাচনে কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন না, বরং প্রধানমন্ত্রীর হুকুম তামিলকারী হিসেবে কাজ করছেন।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অপহরণ, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। পত্রিকার পাতা খুললেই মিলছে লোমহর্ষক ঘটনার হেডলাইন। বিনাভোটের সরকারের ভিত্তি নড়ে যাওয়াতে আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। গুম ও অপহরণ হত্যাকাণ্ডের চেয়েও ভয়ঙ্কর মানবতাবিরোধী অপরাধ।’

‘একদিকে উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে অন্যদিকে কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিরোধীদলের নেতা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ গত এক সপ্তাহে ৬ জনের গুমের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

রুহুল কবির বলেন, ‘উচ্চ আদালত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়ার পর হাওয়া বদলের আভাস পেয়ে সরকার দিশেহারা হয়ে এখন মারমুখি হয়ে পড়েছে। তাই সরকার যাদেরকে দিয়ে এতদিন বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গুম করিয়েছে তাদেরকে সুবিধা দিতেই নতুন করে গুমের হিড়িক বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রাক্কালে বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ব্যাংকারদেরও গুম করা হচ্ছে-শুধুমাত্র টাকা আদায়ের জন্য। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই- সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিগুলোই গুমের মতো পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। সেজন্য বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানকে গুম করার পরও থানায় সাধারণ ডায়েরি নিচ্ছে না পুলিশ।’

‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিবসহ গুমকৃত ব্যক্তিদের জনসম্মুখে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন কর্মসূচির সময়সীমা আরও এক মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।