প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদন দেশের জন্য ভালো ইঙ্গিত বহন করে না;আমির খসরু মাহমুদ

0

জিসাফো ডেস্কঃ অসুস্থার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রধান বিচারপতির আবেদন দেশের জন্য ভালো ইঙ্গিত বহন করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, ‘অবৈধ সরকার দেশের অর্থনীতিসহ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়ে বিচার বিভাগকে তাদের বন্দির তালিকায় নিয়ে যাচ্ছে। ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রধান বিচারপতির আবেদন দেশের জন্য ভালো ইঙ্গিত বহন করে না। কারণ ছুটি কাটিয়ে মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি দেশে ফিরেছেন।’

সোমবার অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদন করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ফলে মঙ্গলবার থেকে প্রধান বিচারপতির আসনে বসছেন না তিনি।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ব্রেকিংনিউজকে বলেছেন, ‘যেহেতু উনি ছুটির আবেদন করেছেন, ফলে সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী জেষ্ঠ্য বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’

কেন হঠাৎ প্রধান বিচারপতি এতদিনের ছুটির আবেদন করলেন। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ‘একজনের ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধা থাকতেই পারে। তবে উনি বিদেশ থেকে ফেরার পর আমার সঙ্গে এখনও দেখা হয়নি। কেন তিনি এ ছুটির আবেদন করেছন তা আমি বলতে পারছি না।’

কানাডা ও জাপান সফর শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন প্রধান বিচারপতি। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে অসুস্থ মেয়েকে দেখতে কানাডায় যান তিনি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রোষাণলে পড়েন প্রধান বিচারপতি। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীও তার সমালোচনা করেন।

জাতীয় দলের সভায় আমির খসরু বলেন, ‘সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর যে নাটক করছে এটা একান্তই তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া তাদের কোনও উপায় ছিল না। দেশের জনগণের চাপে তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে।’

সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়েছিলেন।সেখানে নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তো কোনও প্রস্তাব পাস হয়নি? এটা কোনও সংবাদপত্রে দেখলাম না।কোনও রেডিওতেও শুনলাম না।টেলিভিশনেও দেখলাম না । তাহলে শেখ হাসিনা ওখানে গিয়ে কি করলেন? এ প্রশ্ন যদি নাগরিক হিসেবে তাকে করি সরকার প্রধান হিসেবে তিনি কি জবাব দেবেন?’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যা খুশি সরকার করবে, আমাদেরকে তা নাকি মেনে নিতে হবে। তাকে নাকি সাহায্যকারী জননী বানানো হচ্ছে। আর এ জন্য নাকি তাকে নোবেল দিতে হবে। নোবেল দিলে তো বেগম জিয়াকে দিতে হবে । রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য নোবেল যদি দেন, প্রশংসা যদি করতে হয় তাহলে বেগম জিয়ার করতে হবে।শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া বলার পরে জনগণের চাপে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছেন। তার আগে শেখ হাসিনা মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া দিতে চেয়েছিলেন। সামরিক মহড়া কি? একদিক থেকে মিয়ানমার সরকার তাদের গুলি করে তাড়িয়ে দেবে তারপর যে কয়জন পালিয়ে আসবে তখন আপনারা মারবেন। লজ্জা করে না আপনি মানবতার জননী হবেন?আপনি জাতিসংঘে যতই লবিং করেন, কোনও কারনে ড.ইউনূসের পর শান্তিতে বাংলাদেশের যদি কেউ নোবেল পান পাবেন ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এসানুল হুদার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন-ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো.রহমত উল্লাহ, জিনাপের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির, নাগরিক দলের সভাপতি শাহজাদা ওমর ফারুক প্রমুখ।