প্রধানমন্ত্রীর বক্ত‌ব্যের জন্য ক্ষমা চাই‌তে হ‌বে;মির্জা ফখরুল

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএন‌পি মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব‌লে‌ছেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্ত‌ব্য মিথ্যা ও অ‌লৌ‌কিক। অ‌বিল‌ম্বে তার বক্ত‌ব্যে প্রত্যাহার কর‌তে হ‌বে। ক্ষমা চাই‌তে হ‌বে। অন্যথায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নে‌বো।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) বিএন‌পি চেয়ারপারস‌নের গুলশান কার্যাল‌য়ে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্ত‌ব্যের আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে সংবাদ স‌ম্মেলন ক‌রে জবাব দেন তি‌নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল অনৈতিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে কম্বোডিয়া সফরের উপরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কল্পিত পাচারকৃত সম্পদের বর্ণনা এবং কল্পিত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত কল্পিত সম্পদ সম্পর্কে যে, বক্তব্য প্রদান করেছেন তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কাল্পনিক এই সব দূর্নীতির কল্পকাহিনীর মূল উদ্দেশ্য বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা মাত্র।

তিনি বলেন, কল্পিত এই সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম স্বাভাবিকভাবেই তা প্রকাশ করেনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী কানাডা ভিত্তিক একটি কথিত টেলিভিশন চ্যানেলের বরাতদিয়ে সামাজিক মাধ্যমের ততোধিক অপরিচত কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে এই মিথ্যা তথ্য রটনা করা হয়েছে, যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তানদের কল্পিত দুর্নীতির অর্জিত সম্পদ সৌদি আরবের একটি শপিংমল ‘আলআরাফা’ এবং কাতারে বাণিজ্যিক ভবন ‘তিনারাট’ এ বিনিয়োগ করেছেন এবং তারাই এই সম্পদের মালিক।

ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুধু রাজনীতিকে কলুষিত করছে না ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে রাজনীতিবিদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করবে। এ সব বানোয়াট তথ্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এই ধরনের মানহানিকর মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আগামীতে এ ধরনের অশালীন, রুচিববর্জিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভুত মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য প্রদানে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা আবারো দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানদের বিরুদ্ধে অলীক মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা, বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাদের পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করে ভাবমূর্তি বিনষ্ট করবার অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন। বেআইনি মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধ করুন এবং এই মানহানিকর মিথ্যা তথ্য প্রচারের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা করতে আমরা বাধ্য হব।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো কাতারে ‘ইকরা’ নামে একটি বহুতল ভবনের মালিক। আরবসহ বারটি দেশে জিয়া পরিবারের বারো বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় এর অর্থ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। তিনি অভিযোগ করেছেন মূলধারার বেশির ভাগ গণমাধ্যমে এই মিথ্যা তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সেই কারণে তিনি শিষ্টাচার বিবর্জিত অশালীন ভাষায় গণমাধ্যমকে তিরস্কার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য শুধু অশালীন নয় এটা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচার অথবা বিনিয়োগ কোন অভিযোগ আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। ফখরুদ্দিন ও মাঈনউদ্দিন সরকার এবং শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার তন্নতন্ন করে সারা বিশ্বে খোঁজ করেও কোন সম্পদের অস্তিত্ব পায়নি। বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার কনিষ্ট পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং সম্পদের কল্পকাহিনী তৈরি করে জোর করে গণমাধ্যমকে দিয়ে তা প্রচারের অপচেষ্টা শুধুমাত্র শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ, রাজনৈতিক সংকীর্নতা ও দেউলিয়াপনাই প্রমাণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, কাচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল ছুড়বেন না। উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্টের নামে যে মেগা লুট করছেন তা জনগণ জানে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটে যে অভিযোগ উঠছে জনগণ তা হিসাব নিচ্ছে। দেশিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আপনাদের দলের মন্ত্রী, নেতা ও পরিবারে সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। কানাডার বেগম পাড়া, বৃটেন, আমেরিকা, মালোশিয়া, সিঙ্গাপুর, বেলারুস, সুইচ ব্যাংক, পানামা অবশোর ইনভেস্টমেন্ট তালিকায় আপনাদের অনেকের নাম উঠে আসছে।

তিনি আরো বলেন, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ডিসি, সিএটল বাফেলোসহ আমেরিকা ও কানাডাসহ ব্যায়বহুল শহরগুলোতে কাদের সন্তানদের এবং পরিবারে সদস্যদের নামে বাড়ি ও সম্পদ কেনা হয়েছে তার হিসেব জনগণ রাখছে। দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা কারা লোপাট করেছে জনগণ তারও হিসাব রাখছে। দুই বার শেয়ার মার্কেট লুট করে অসংখ্য সাধারণ বিনিযোগকারীদের নিঃস্ব করা হয়েছে। সমাজের প্রতিটি রন্ধে দুর্নীতির পাকা ব্যবস্থা করা হয়েছে। জমি, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শাসকদের লোকেরা দখল করছে প্রতিদিন। সাধারণ মানুষসহ রাজনীতিক ও সুশিল সমাজের সদস্যদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে।

এসময় মির্জা ফখরুল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির দেয়ার সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানান। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্যালেস্টাইনদের দাবি মেনে নেয়ারও দাবি জানান।