প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন নিখোঁজ ইকবাল চৌধুরীর স্ত্রী্র!

0

বর্তমানে সাধারণ জনগণের কাছে পুলিশ, ডিবি পুলিশ, র‍্যাব আতঙ্কের অন্যতম একটি নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিম্নশ্রেণী থেকে শুরু করে উচ্চশ্রেণী সকল পরিবারের মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ভয় বাসা বেধে আছে মনের ভেতর, কখন না জানি পরিবারের কোন এক সদস্যকে উঠিয়ে নিয়ে যায়! আর নিয়ে যাওয়া মানেই চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। হত্যা নাকি গুম নাকি ক্রসফায়ার? কিছুই জানা যাবেনা। তার অপরাধ কি ছিলো তাও কোনদিন জানতে পারবে না তাদের পরিবার। রক্ষকই যখন ভক্ষক তখন কার কাছে এর বিচার চাইবে সাধারণ জনগণ, কার কাছে পাবে আশ্রয়? তবে দেশে ঘটে যাওয়া এ ধরণের সকল ঘটনার সাথে যে এই রক্ষক শ্রেণীই জড়িত তাও আবার নয়। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে অনেক কুচক্রী মহলও এদের নাম ব্যবহার করে জনমনে বাড়িয়ে তুলছে আতঙ্ক এবং ঘৃণা।

ইকবাল চৌধুরী (৬০), পেশায় ব্যবসায়ী। জন্ম কুমিল্লা। পশ্চিম বাঁশবাড়ি, বেড়িবাঁধ রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। তিনি বিএনপি পন্থী ছিলেন। ৭ মে, রাত আনুমানিক ১১.৩০ মিনিটের দিকে ৭/৮ জন সাদা পোশাকধারী এবং ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত কিছু লোক গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় দিয়ে, তাকে তার মিরপুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের কাছ থেকে এবং সিসি টিভি ফুটেজ থেকে জানা যায়। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ।

পরবর্তীতে তার পরিবার মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করেন এবং পারিবারিক ভাবে পরিচিত “সিরিয়াস ক্রাইম টিম” এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিবির সিনিয়র এ্যাসিসটেন্ট কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি, আপ্রাণ চেষ্টা করেও তিনি কোন তথ্য জানাতে পারেননি ইকবাল চৌধুরীর পরিবারকে।

এরপর তার পরিবার আকাশছোঁয়া অনলাইন পত্রিকার সাথে যোগাযোগ করেন। তাকে এভাবে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তার স্ত্রী একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠান। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন- “ডিবি পুলিশের পরিচয়দানকারীরা বলেছিলো- আপনার স্বামীর নামে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। তথ্য গুলো স্পষ্ট হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

ইকবাল চৌধুরীর পরিবার থেকে জানা যায়, তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নিজস্ব মুঠোফোনটি তার সাথেই ছিলো। আকাশছোঁয়ার টেকনিশিয়ান টিম তার মুঠোফোনটি ট্র্যাক করে। দুদিন পর্যন্ত এটি সচল ছিলো এবং সিমটির শেষ নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় মিরপুরের র‍্যাব-৪ এর অফিস কার্যালয়ে।

তথ্য সংগ্রহের জন্য আকাশছোঁয়া ডিবি গোয়েন্দা বিভাগে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার জানান- “তিনি ইকবাল চৌধুরীর ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাদের রেকর্ড খাতায় এই ব্যক্তির নামে কোন এন্ট্রিও নেই। তাদের ৪টা ব্যাটেলিয়ন। যদি এই ব্যক্তিকে আসলেই গ্রেপ্তার করা হয়, তবে কোন টিম তাকে গ্রেপ্তার করেছে তার পক্ষে সেটা বলা সম্ভব নয়। এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শুধুমাত্র হেড অফিস থেকেই জানা সম্ভব। তিনি এই ব্যাপারে আর কোন মন্তব্য করতে চাননি।”

আকাশছোঁয়া টিম নিখোঁজ ইকবাল চৌধুরীর ছেলের সাথে যোগাযোগ করে পারিবারিক ঝামেলা বা সন্দেহভাজন কেউ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- “এখনো পর্যন্ত আমরা কাউকে সন্দেহ করি না যে এমনটা ঘটাতে পারে। তবে তার চাচা’র সাথে সম্পত্তি নিয়ে পূর্বের কিছু ঝামেলা ছিলো। তারই রেশ ধরে বারবার হুমকি দেয়া হলেও তারা একাজ করেনি।”

নিখোঁজ ইকবাল চৌধুরীর খোঁজ নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশের এধরণের অসহযোগিতার কারণ তার পরিবারের কাছে পরিষ্কার নয়। যারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তারা আসলেই “ডিবি গোয়েন্দা পুলিশ” নাকি ডিবি গোয়েন্দা পুলিশের নাম ব্যবহার করা অপহরণকারী বা চক্রান্তকারী কোন টিম, তা নিয়েও ঘোলাটে অবস্থার মধ্যে আছেন নিখোঁজ পরিবার। তার স্ত্রী এটাও জানেন না কি ছিলো তার স্বামীর অপরাধ; যার কারণে এতো বড় শাস্তি তাদের পেতে হচ্ছে। ইকবাল চৌধুরীর পরিবারের এখন একটিই প্রশ্ন- তারা কি আর কখনো ফিরে পাবেন তাদের এই প্রিয় মানুষটিকে ? নাকি অনেক পরিবারের মতই হারিয়ে যাবে তাদের পরিবারের বটগাছটি। এমন অবস্থায় ইকবাল চৌধুরীর দিশেহারা স্ত্রী ভিডিও ক্লিপটি মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের সকল জনগণের কাছে তাদের কাছের মানুষটিকে খুঁজে ফিরিয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।