প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার পেছনে ভারতের অন্য উদ্দেশ্য আছে

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার চায় সমঝোতা স্মারক সম্পাদন করতে। ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও তা চুক্তি সম্পাদনের পথে একটা বাধ্যবাদকতা তৈরি করবে। তাই বাংলাদেশ সরকারের জন্য সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরও হবে বিপজ্জনক।’

বাংলাদেশের কাছে ভারত সেকেলে অস্ত্র বিক্রি করতে চায় বলে মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘ভারত ২৫ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে তাদের মিলিটারি হার্ডওয়্যার বিক্রি করতে চায়। ভারতের একজন সাবেক সেনাপ্রধান একসময় বলেছিলেন— ভারতের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার সেকেলে, আধুনিক প্রযুক্তি থেকে অনেক দূরে, এগুলো মানসম্মত নয়। ভারত নিজেই হচ্ছে সামরিক সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ। সেই ভারত কী ধরনের সমরাস্ত্র বাংলাদেশে রফতানি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।’

প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার পেছনে ভারতের অন্য উদ্দেশ্য আছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তা উপলব্ধি করছে বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতের কাছ থেকে সামরিক হার্ডওয়্যার আমদানি করলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক্সটেনশন মাত্র। এই চুক্তি হলে ভারত অস্ত্র কেনার শর্তে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার লাইন অফ ক্রেডিট দেবে। অর্থাৎ এই অর্থ দিয়েই ভারত থেকে অস্ত্র কিনতে হবে। এটি ভারতের ‘কৈ এর তেল দিয়ে কৈ ভাজা’র চানক্য নীতি। ভারত কোথাও বিন্দুমাত্র নিজেদের স্বার্থ ছাড়তে রাজি নয়।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিজভী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে অতীতে দেশবিরোধী ট্রানজিট, করিডোর ছাড়াও আপনারা আরও গোপনীয় ৫০টি চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। ওইসব চু্ক্তির কথা আজও জনগণ জানতে পারেনি। তবে দেশবাসী মনে করে, যেনতেনভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে দেশবিরোধী এতসব কর্মতৎপরতা দেখাচ্ছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী।’