প্রতিটা বিভাগে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঠেকানোর দাবীতে কর্মসূচী গ্রহন করা উচিৎ, খুলনার মানুষ কে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে আসতে হবে- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0

“বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে সুন্দরবনের কাছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর আনু মুহাম্মদের নেতৃত্বে রামপাল বন্ধে যে আন্দোলন, বিএনপি সেই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। কাজেই তাদের (আনু মুহাম্মদ) উচিত হবে বিএনপির সমর্থন গ্রহণ করা এবং সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এগিয়ে যাওয়া। “

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক, বি এন ,পি প্রেরিত ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখছেন উপস্থিত সকলে
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক, বি এন ,পি প্রেরিত ভিডিও প্রেজেন্টেশন দেখছেন উপস্থিত সকলে

গত ২৬ অক্টোবর ২০১৬ ইং বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে ‘‘সুন্দরবন বাঁচাও, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঠেকাও’’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সমর্থক অনলাইন ভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান জিয়া সাইবার ফোর্স “।  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রামপালের ব্যাপারে প্রথমে খুলনার জনগণকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তার পরেই সমস্ত বাংলাদেশের মানুষ সম্পৃক্ত হবেন। একটা কথা অত্যন্ত পরিষ্কার, বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছু করা যাবে না। এই সরকার জনগণের মতামতের কোনো তোয়াক্কা করে না দেখেই আজকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত তারা নিচ্ছে। সরকার মতার ‘দখলে থাকতে’ রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার জন্য ভারতের কাছে কমিটেড (প্রতিজ্ঞাবদ্ধ)-এই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) ভারতের কাছে কমিটেড। সেজন্য জনগণের বিরোধিতা সত্ত্বেও তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে রামপালের মতো গণবিরোধী এই প্রকল্প করা হচ্ছে। তাদের অবস্থান এমন, যে করেই হোক, যত বাধাই আসুক এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হবেই।  ভারত সরকার জনগণের বিরোধিতার মুখে তাদের দেশে কয়লাভিত্তিক এই প্রকল্প করতে পারেনি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারত ইচ্ছা করে সুন্দরবন ধ্বংস করার জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। ভারত সরকার জনগণের সরকার। সেজন্য জনগণের দাবিকে সম্মান করে। কিন্তু দেশে বর্তমান মতাসীন যে সরকার আছে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সেজন্য তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। শুধু সুন্দরবন রা নয়, বাংলাদেশেকে রার জন্য রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন। কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংক জলবায়ু পরিবর্তনের তিপূরণের জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে। আজকে আমরা নিজেরাই জলবায়ুকে তিগ্রস্ত করছি, আমাদের পরিবেশকে তিগ্রস্ত করছি। এদের কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। : তিনি বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব থেকে সব দেশই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের তিকর দিক বিবেচনায় নিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। কারণ এই ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

       14886217_173280393130658_447402080_n        14801143_1285884228109107_60844165_n         14872613_1285884431442420_1775608126_n            14826339_1285884491442414_1791616828_n-1

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়ার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংসদে এই বিষয়টি আসেনি। কারণ সেখানে যে বিরোধী দল আছে তারা গৃহপালিত। তারা সরকারের থাকায় এ নিয়ে আলোচনা করে না। তেলগ্যাস কমিটি সুন্দরবনের কাছে কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্ব^রে একই দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখে লংমার্চ করেছিল তেলগ্যাস রা কমিটি। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করছেন তারা। : আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে জনগণের জন্য কোনো দিক নির্দেশনা নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, কাউন্সিল করেছে ভালো কথা, কিন্তু সেই কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতিকে তারা (আওয়ামী লীগ) কিছুই দিতে পারেননি। অথচ গোটা জাতি অপেক্ষা করেছিল কাউন্সিল থেকে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক পথ নির্দেশ দেখাবে। কাউন্সিলে গণতন্ত্র এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচন আয়োজনের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।  তিনি বলেন, বর্তমানে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে তারা শুধু অনৈতিক সরকারই নয়, তারা দখলদার সরকার। নির্বাচনের নামে নাটক করে এরা মতায় বসেছে। তাই অন্যের কাছে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে জনদাবিকে উপো করে চলেছে। এমনকি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জনমতের তোয়াক্কা না করে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হচ্ছে না। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, রাজনৈতিক সংকট-সমস্যা সমাধান করা হয়েছে আলাপ- আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগ আলোচনায় যেতে চায় না। কারণ আওয়ামী লীগ জানে যে, কোনো নির্বাচন হলেই যদি সেটা সত্যিকার অর্থে নিরপে, সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হয় তাহলে তাদের (আওয়ামী লীগ) ভরাডুবি হবে। সে কারণেই তারা সেই নির্বাচন দেখতে চায় না, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায় না। তাই বার বার বলে গণতন্ত্র আমাদের সেকেন্ডারী বিষয়, প্রাথমিক নয়।

14793834_173280353130662_752109306_n

নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে শুধু ভয়-ভীতি, সন্ত্রাস-ত্রাস করে বাংলাদেশের মানুষকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবে না বলেই আওয়ামী লীগ মতার জোরে একের পর এক ভুল করে চলেছে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমরা যদি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারি, যদি আমাদের ওপর নেমে আসা আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি, তাহলে অন্য কেউ এসে তা করে দিয়ে যাবে না। তাই সময়ের প্রয়োজনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঐক্য, ঐক্য এবং ঐক্য। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই, ঐক্যের মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হবে। গণতন্ত্র বিনাশের চক্রান্ত রুখতে হবে। : গত ১৮ অক্টোবর ইউনেস্কো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে তাদের যে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে তারা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে সুন্দরবনের চার ধরনের ক্ষতির আশংকা করেছে। এগুলো হচ্ছে- ১. বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে কয়লা পুড়িয়ে। এই কয়লা পোড়ানোর পর সেখানে থেকে নির্গত কয়লার ছাইকে সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য এক নম্বর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইউনেস্কোর এই প্রতিবেদনে। ২. বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বর্জ্য এবং পানিকে দ্বিতীয় হুমকি গণ্য করেছে ইউনেস্কো। ৩. এই প্রকল্পকে ঘিরে সুন্দরবন এলাকায় যেভাবে জাহাজ চলাচল বাড়বে এবং ড্রেজিং করার দরকার হবে, সেটিও সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। ৪. আর সব শেষে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে ঐ অঞ্চলের সার্বিক শিল্পায়ন এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডও সুন্দরবনের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলবে।

সেমিনারে রামপাল তাপ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনার দেয়া অসত্য বক্তব্যের বাস্তবতা ও এই প্রকল্পের ধ্বংসাত্মক রুপ অত্যান্ত সুনিপুন ভাবে পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত সহ মুল নিবন্ধ ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক- এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। তার ২৩:88  মিনিটের ডকুমেটারি তে  তিনি সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল তাপ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শুরু থেকেই নেতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরা ছাড়াও প্রতিটি বিষয় কে সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স সহ উপ্সথাপন করেন যা উপস্থিত সকলকে এ বিষয়ে আরো সোচ্চার করে তোলে।

1044085_10201557862814443_344135493_n

জনাব এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান তার ডকুমেন্টারি তে দেখান- বিএনপি চেয়ারপার্সনের বক্তব্য খণ্ডন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে ৯১৫ একর। এর মধ্যে ৪৬৫ একরে মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে বাদ বাকী জায়গায় সোলার প্যানেল বসবে এবং সবুজায়ন (Green Belt) করা হবে”। কিন্তু উনার সরকারের প্রতিষ্ঠান সিজিআইএস এর মাধ্যমে যে ইআইএ প্রতিবেদন তৈরী করে এই প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়েছেন, সেই ইআইএ প্রতিবেদনের যথাক্রমে ৯৬, ২৫৪, ৪০৪ এবং ৪০৬ পৃষ্ঠায় স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে- প্রকল্পটি ১,৮৩৪ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। শুধু তাই নয়, বাগেরহাট জেলার ডিসি কর্তৃক উক্ত ১,৮৩৪ একর জমি পিডিবির কাছে ২০১২ সালের ২ জানুয়ারী হস্তান্তর করার বিষয়টিও ইআইএ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেমিনারে পবিত্র কোরান তেলাওয়ত এর পর আমন্ত্রিত ও আগত সকলের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর উপদেস্টা স্কোয়াড্রন লীডার ওয়াহিদ- উন-নবী (অবঃ)। স্বাগতিক বক্তব্যে তিনি সেমিনারের উদ্দেশ্য এবং দেশ ও জাতির এরকম একটি সমস্যায় সকলকে কাধে কাধ মিলিয়ে মোকাবেলা করা এবং সরকারের সুন্দরবন ধ্বংসের পরিকল্পনা রুখতে দুর্বার সাইবার আন্দোলনের পাশাপাশি রাজপথেও নামার আহ্বান জানান।

বি এন পি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাগেরহাট জেলা বি এন পি র সিনিয়র সহ সভাপতি এডঃ শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেডএম জাহিদ হোসন ,বি এন পি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আল মুজাদ্দেদি আলফেসানী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, সাংবাদিক ও জিয়া সাইবার ফোর্সের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জনাব  রাশেদুল হক, সেভ দ্যা সুন্দরবন সংগঠনের প্রধান উপদেস্টা ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন । উপস্থিত ছিলেন বি এন পি র সহ ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক সেলিনা জাহান আর্লি, বি এন পি জাতীয় নির্বাহী কমিটীর সদস্য ও সাবেক ছাত্র নেতা শেখ মোঃ শামীম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জনাব এজমাল হোসেন পাইলট, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জনাব ফেরদৌস মুন্না সহ অনেকে।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যের শুরুতেই ঢাকা জেলা বি এন পি সভাপতি ডঃ দেওয়ান সালাউদ্দীন বাবু- “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর এই উদ্যগ কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুন প্রজন্ম কে আরো বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে দেশের স্বার্থ সংশ্লিস্ট বিষয় গুলোকে রক্ষা করার জন্য কারন শিক্ষিত তরুনরাই পারে সামাজিক যোগাগোগ মাধ্যম সহ সকল মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করতে।

বি এন পি র সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ও  “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন – ১৫ ভাগ ঋণ দিয়ে ভারত আজ বাংলাদেশের ঘাড়ে ৮৫ ভাগ ঋণের বোঝা চাপিয়েছে, আর অনির্বাচিত সরকার জনগনের কথা না ভেবে, দেশের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এত বড় ঋণের বোঝা কে স্বাগত জানিয়েছে, এই ঋণ শোধ করতে হবে এই দেশের জনগন কে,এই ক্ষমতা লিপ্সু সরকার প্রধান কে নয়। তাই আসুন আজ এই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তরুন সমাজ, ছাত্র সমাজ ও দেশের সকল পেশা শ্রেনীর মানুষ রাজপথে গড়ে তুলি দুর্বার আন্দোলোন।

 বি এন পি র সাংগঠনিক সম্পাদক ও “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স তার বক্তব্যে বলেন- সুন্দরবন সব খানে পাওয়া যায়না, পাওয়া যাবেনা। হাজার বচর ধরে গড়ে ওঠে এরকম একটি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট,কয়লা বিদ্যুৎ ইউরোপ সহ সকল সভ্য দেশে নিষিদ্ধ হবার পর ও এই অনির্বাচিত, ৫% ভোটের সরকার শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ও বিশেষ একটি দেশ কে খুশি রাখতে সুন্দরবন কে ধ্বংস করে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের যে ধ্বংসলীলায় মেতে উঠেছে তা যে কোন মুল্যে প্রতিহত করতে হবে নাহলে দেশ বাচবেনা, মানুষ বাচবে না এমন কি বন্য প্রানীও বাচবে না।

বি এন পি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন দরকারে ভারতের প্রকাশ্য বিরোধীতা করব কিন্তু এ প্রকল্প কে কোন ভাবে বাস্তবায়িত হতে দেয়া যাবে না, সম্ভব নয়। নিজ জেলা পাবনা রুপপুর পারমানিবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের নিম্ন মানের মেশিনারিজ ও ব্যাবস্থাপনার ও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

বি এন পি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম তার বক্তব্যে বলেন, ” আমি “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর সকল পদক্ষেপেই সব সময় সাথে ছিলাম ও আছি। আমি জানি এরা কতটা ঝুকি নিয়ে দেশের স্বার্থে, জনগনের স্বার্থে ও দলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঠেকানো কোন দলের দাবী নয়, এটা আজ জাতীয় দাবী। আজ এই দাবীতে দেশের সকল শিক্ষিত সমাজ, পেশাজীবী সমাজ ও সুশীল সমাজ সোচ্চার কিন্তু গনবীরোধী এই সরকার তার পেটোয়া বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে শিক্ষক থেকে মহিলা দের কে পর্যন্ত লাঞ্চিত করছে, যা দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশে হয় না ,হতে পারে না।

     14813636_173280343130663_823889820_n                                                    14800693_173280276464003_958474281_n                                            14877846_1285884444775752_1499560587_n

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, অধ্যাপক এ জেডএম জাহিদ হোসন বলেন, রাশিয়ার বাতিল ম্যাশিন দিয়ে করছেন রুপপুর পারমানবীক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আর ভারতের পচা কয়লা, সি গ্রেডের ম্যাশিনারিজ আর এ গ্রেডের চড়া সুদে আনা লোন দিয়ে নিজ ভুমিতে তাদের মালিকানায় করবেন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র আর জলাঞ্জলি দেবেন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যান গ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন কে।এভাবে করে তো দেশের সব কিছুকেই ধ্বংসের দিকে দিয়ে দিচ্ছেন,বাকি কিছুই রাখছেন না।এমন কি আজ দেশের স্বাধীনতা ও সভ্রিন্টি আজ বিপন্ন। এভাবে একটা স্বাধীন দেশ চলতে পারেনা, চলতে দেয়া যায়না। এখনি সময় রুখে দাড়ানোর।

আলোচকবৃন্দের প্রানবন্ত আলোচনায়  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আল মুজাদ্দেদি আলফেসানী, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সকল ক্ষতিকর দিক গুলো তুলে ধরে বিশ্লেষন মুলক ভাবে দেখান ৩৬ ডিগ্রী তাপ নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি, আর কয়লা পরিবহনের সময় যে দুষন হবে তা জীব বইচিত্র , প্রানীকুল ও সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে মাছের প্রজাতী হবে বিপন্নের সন্মুখীন, যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের সবকিছুর উপর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, বলেন বিদ্যুৎ দরকার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেন সমস্যা নেই কিন্তু সুন্দরবনের পাশে কেন আর কেনই বা ভারতের বাতিল কয়লা দিয়ে। ভারতের কয়লা ভারতীয়রাই ব্যাবহার করেনা, কোন যুক্তিতে আমরা ব্যাবহার করব। বাংলাদেশে অনেক যায়গা আছে কিন্তু সব রেখে সুন্দরবনের পাশে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কারন বিস্লেশনে এক্টাই বিষয় পরিস্কার হয় আর তা হল , পরিকল্পনা করে সুন্দরবন ধ্বংস করা।

সভাপতির বক্তব্যে বি এন পি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য , বাগেরহাট জেলা বি এন পি র সিনিয়র সহ সভাপতি ও “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, এডঃ শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু- বিটিভি  তে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে  সরকারের প্রচারিত বিজ্ঞাপনে সরকার কে যে জনগনের চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেকথা স্পস্ট ভাবে তুলে ধরেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে বি এন পি মহাসচিবের কর্মী বান্ধবতা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সব শেষে “জিয়া সাইবার ফোর্স ” কে দলের জন্য, দেশের জন্য মানুষের জন্য একটি ডেডিকেটেড প্রতিষ্ঠান হিসাবে আখ্যায়িত করেন।

সেমিনারের শুরুতেই “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর পূর্বের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষনা করে নবগঠিত সন্মানিত উপদেষ্টা মণ্ডলীর নাম ও ছবি সহ বড় ব্যানার টানিয়ে দিয়ে, পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব জনাব কে এম হারুন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষনা করা হয়।

14813612_1079174555536833_1471536453_n

সন্মানিত উপদেষ্টা মন্ডলীর নাম

অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন- ভাইস চেয়ারম্যান, বি এন পি,
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স- সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি,
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল- আইন বিষয়ক সম্পাদক, বি এন ,পি।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্পাদক, বি এন ,পি।
শহিদুল ইসলাম বাবুল- সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি,

কাদের গনী চৌধুরী- তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সহ- সম্পাদক, বি এন পি।
এডঃ শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু- সদস্য,জাতীয় নির্বাহী কমিটি , বি এন পি।
স্কোয়াড্রন লীডার ওয়াহিদ – উন – নবী (অবঃ)।
এনামুল হক লিটন – আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, যুবদল, কেন্দ্রীয় কমিটি।
রাশেদুল হক- সম্পাদক (সংবাদ বিভাগ) দৈনিক দিনকাল।
শফিকুল ইসলাম রিবলু- সহসভাপতি, ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় কমিটি।

সেমিনারের সার্বিক ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, শহিদুল ইসলাম বাবুল- সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ,বি এন,পি, এডঃ শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু-সদস্য বি এন পি জাতীয় নির্বাহী কমিটি, স্কোয়াড্রন লীডার ওয়াহিদ- উন-নবী (অবঃ) ,জনাব  রাশেদুল হক- বার্তা সম্পাদক, দৈনিক দিনকাল, জনাব কে এম হারুন- পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব, ডঃ শফি সাকি-পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় সদস্য ড্যাব, জনাব আহমেদ মুসা বেলাল- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, সামির রায়হান- পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সহ প্রতিষ্ঠাতা, মীর্জা সাব- পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সহ প্রতিষ্ঠাতা,নাঃগঞ্জ জেলার বিশিস্ট ছাত্র নেতা মোঃ ইউসুফ- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, আশিকুল ইসলাম- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, ও মোঃ আলফাজ দেওয়ান-পরিচালনা পরিষদের সদস্য,হারুন উর রশিদ মজনু পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক সাথিয়া উপজেলা বিএনপি ।

সেমিনার কে সাফল্যমণ্ডিত করতে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বিভিন্ন আংগিকে সহায়তা করেছেন যুবদল, কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও “জিয়া সাইবার ফোর্স ” এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এনামুল হক লিটন, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ প্রচার সম্পাদক ও “জিয়া সাইবার ফোর্স ” লন্ডন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক জুল আফরোজ মজুমদার, মোঃ আব্দুল আজিজ মজুমদার রনি- পরিচালনা পরিষদের উপ্প্রধান ও সহ প্রতিষ্ঠাতা, দিপা হাসেম- পরিচালনা পরিষদের উপ্প্রধান ও নাঃ গঞ্জ জেলা মহিলাদল নেত্রী (মহিলা বিষয়ক সম্পাদক), শফিক আরমান-পরিচালনা পরিষদের উপ্প্রধান “জিয়া সাইবার ফোর্স ” সৌদি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক  , নাজিম উদ্দিন শিমুল -পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জনাব সারাফ সুমন- তায়েফ বি এন পি সভাপতি ও পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জনাব তরিকুল ইসলাম তিতাস- ইটালী বি এন পি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও পরিচালনা পরিষদের উপ সচিব, জনাব আশিক আদনান-পরিচালনা পরিষদের উপ সচিব, সাজ্জাদ হোসেন জাবিন- পরিচালনা পরিষদের তথ্য বিষয়ক উপ সচিব, জনাব সোহরাব হোসেন- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, জনাব রেজাউল ইসলাম – পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও “জিয়া সাইবার ফোর্স ” সিংগাপুর ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক, তাঞ্জিয়া আফ্রিন এলিনা- ছাত্রদল নেত্রী ও পরিচালনা পরিষদের সদস্য, মানবী হক- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, মোঃ জাকির হোসাইন (আজম) -পরিচালনা পরিষদের সদস্য, কায়সার আহমেদ হিমু- পরিচালনা পরিষদের সদস্য।

মিডিয়া ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন- মিয়া নুর উদ্দিন অনিক- পরিচালনা পরিষদের সদস্য ,রেজাউল করিম বিপু-পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও ইউনুস মিয়া- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, কে এম সাদ্দাম- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, কে এম সবুজ- পরিচালনা পরিষদের সদস্য। গনযোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যাবস্থাপনায় ছিলেন- মোঃ জাহিদ মাদবর- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, নাঃগঞ্জ জেলার বিশিস্ট ছাত্র নেতা মোঃ ইউসুফ- পরিচালনা পরিষদের সদস্য,মোঃ ফজলুল করিম- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, কে এম মাহাবুব-পরিচালনা পরিষদের সদস্য, হাসিবুল ইসলাম- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, মোঃ শান্ত- পরিচালনা পরিষদের সদস্য, পাবনা জেলা ছাত্রদল নেতা – মোঃ নিলয়, মোঃ আলামিন- সদস্য সহ অনেকে।