প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলায় না খেয়ে মরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা রাজত্ব করে

0

দেশের জন্য রক্ত দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার নিজের প্রয়োজনে দুই ব্যাগ রক্ত পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন।

মাত্র দুই ব্যাগ রক্ত আর সামান্য কিছু টাকার জন্য থেমে গেছে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের চিকিৎসা। দুর্দিনে দেশের পাশে দাঁড়ালেও নিজের দুর্দিনে কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না তিনি। জীবন বাঁচাতে স্ত্রীকে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আবুল হোসেন।

গত ১৮ এপ্রিল ব্যাটারিচালিত অটোরকিশায় করে উপজেলার ত্রিমোহনী থেকে উদিবাড়ী যাচ্ছিলেন মকবুল হেসেন। পথে অটোরিকশাটি উল্টে গেলে হাত ভেঙে যায় আবুল হোসেনের, শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাতও পান তিনি। তারপর থেকেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আবুল হোসেনের ভেঙে যাওয়া হাত অপারেশন করতে হবে। শরীরে রক্ত খুব কম থাকায় অপারেশনও করতে পারছেন না তারা। তাই জরুরি ভিত্তিতে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দুই ব্যাগ ‘ও’ পজিটিভ রক্ত জোগাড় করতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধা তিনি।

হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. রতন পালের অধীনে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। এরই মধ্যে অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্পন্ন না করেই এক দফা হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরে ঠিকমতো ওষুধ খেতে না পারায় শরীরের আরও অবনতি হলে গত ৫ মে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার উদিবাড়ী গ্রামের শামসুল আলী মোল্লার তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে মকবুল হোসেন মোল্লা সবার ছোট। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বড় ছেলে শুকুর আলী মোল্লা এবং ছোট ছেলে মকবুল হোসেন মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন পিতা শামসুল আলী মোল্লা।

দেশ স্বাধীন হলে পুলিশের ওয়্যারলেস অপারেটর পদে চাকরি নেন মকবুল হোসেন মোল্লা। ২০০৫ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। ব্যক্তি জীবনে স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের বাবা আবুল হোসেন।

দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, ছেলে নসিমন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি না থাকায় বর্তমানে দুই মেয়ের সংসারেই থাকেন স্ত্রীকে নিয়ে। মাস গেলে পেনশনের টাকা আর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে তার। এর মধ্যে গত মাসে দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে গেলে চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল হয়ে গেছে যে, অন্যের সহায়তা ছাড়া ঠিকমতো হাঁটা-চলাও করতে পারেন না তিনি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অর্থপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. রতন পাল প্রিয়.কমকে বলেন, ‘মকবুল হোসেনের শরীর খুব দুর্বল। শরীরে রক্ত খুবই কম। এই মুহূর্তে অন্তত দু’ব্যাগ রক্ত দেওয়া প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় ভেঙে যাওয়া হাতে অস্ত্রোপচার করা লাগবে।’

বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন বলেও জানান এ চিকিৎসক।

মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মোল্লার বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না। ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে আবুল হোসেনের চিকিৎসার বিষয়ে সম্ভাব্য সব রকম সহযোগিতা করা হবে।’