পৌরভোটে আবারো আ.লীগের হাতে ধর্ষিত গণতন্ত্র

0

জিসাফো ডেস্কঃ দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় প্রতীকে মুখোমুখি হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বিএনপি বলেছিল গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে তার পৌর নির্বাচনে এসেছে। আওয়ামী লীগ বলেছে, গণতন্ত্র তারা রক্ষা করবে। কিন্ত পৌর নির্বাচনে গণতন্ত্র কতটুকু রক্ষা হলো এ প্রশ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কেউ কেউ হতাশ হয়েছেন কেউ বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে এভাবে টুকিটাকি কারচুপি হয়। আওয়ামী লীগ ও ইসি বলেছেন স্মরণকালের ভালো নির্বাচন এটা।

গত সিটি নির্বাচনেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ছিল যা দলিল রূপে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তখন গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছিল। এরপর এবার আবার পৌর নির্বাচনে আরেকবার হেরেছে গণতন্ত্র।ধর্ষিত হয়েছে গণতন্ত্র।

বিএনপি আমলে মাগুরা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির পর গণতন্ত্রের সংজ্ঞাই পাল্টে গিয়েছিল। তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছিল গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে বিএনপি মাগুরা ভোটে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, সিটি নির্বাচন ও পৌর নির্বাচন যেভাবে ভোট কারচুপি হলো তাতে গণতন্ত্র পা পিছলে পড়ে গেলো। আর এ থেকে উত্তরের উপায় রাজনীতিবিদদেরই বের করতে হবে।

স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বাংলাদেশে বহু আলোচনা হয়েছে। অনেকই বলেছিল, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ছিল একতরফা। সে নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কিছু করারও প্রয়োজন ছিল না। যদিও ইতিহাসের দায়ভার এড়ানোর সুযোগ কমিশনের নেই।

এরপর দীর্ঘ ছুটিতে গিয়েছিলেন কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ। সে সময় তার বিবেক তাড়িত হওয়ার নানা গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। পরে অবশ্য জানা যায়, তা সত্য নয়। স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কতদূর তা ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ই অনেকটা খোলাসা হয়ে গিয়েছিল। তার পর মানুষ আশা নিয়ে ছিল একটি ভালো নির্বাচনের জন্য। এর আগে নির্বাচন কমিশন মেরুদন্ডহীন, এ কথা বিএনপি নেতারা, এরশাদসহ অনেকইে বলেছেন আর এ থেকে বেরুতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।

দেশের চলমান পৌরসভা নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে একটি চ্যালেঞ্জ নির্বাচন হিসাবে অভিহিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাই আন্দোলনের জন্য বিএনপির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এ কারণেই এ নির্বাচনে যতই চাপ আসুক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না বিএনপি বলে তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে থেকেছে।

গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিএনপি পৌর নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। আসন্ন পৌর নির্বাচন সরকারের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’ উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বিএনপি।

পৌর নির্বাচনে গণতন্ত্র পাস করেনি বলে মনে করেন লেখক ও অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। তিনি বলেন, একজনের ভোট আরেক জন দিয়ে দেয়। ভোট কারচুপি হয়। এটাকে বলে ইমপারসনিফিকেশন করা, যেটা গণতন্ত্রের মূল কাজ নয়।

পৌর নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের দেশে গণতন্ত্র পাস করেনি। আদর্শ নির্বাচন বলে বিশ্বে কোন নির্বাচন নেই। তবে তুলনামূলক ভাল নির্বাচনই হচ্ছে আদর্শ নির্বাচন। তিনি যশোরে এক পৌরসভায় চারটার মধ্যে ভোট গণণা শেষ হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন ঘটনা কোনো নির্বাচন হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। এছাড়া চট্টগ্রামে সংঘর্ষে একজন মানুষও নিহত হয়েছে। এটিও অপ্রত্যাশিত। যদিও অন্যান্য নির্বাচনেও এমন ঘটনা ঘটে।

নির্বাচন বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও জানিপপের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু শতকরা হারে সেটি খুবই কম। এটা দিয়ে পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। এটি সব নির্বাচনেই হয়।

সুশাসনের জন নাগরিক- সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, এবারের পৌরসভা নির্বাচনে একজন মানুষ নিহত হয়েছে। শতাধিক আহত ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এমনটি হয়ত হতো না বলে মনে হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, এবারের পৌর নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলা যায় না।