পুলিশের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে ফের বন্দুকযুদ্ধ- নিহত ২

0

এম এ আজিজ রনিঃ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর এলাকায় (সিআরবি) ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে ফের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পুলিশের সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে উভয় গ্রুপের ক্যাডাররা সংঘর্ষে লিপ্ত হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গত ১ মাসে চার দফা ওই এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি বাবর ও লিমন গ্রুপের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতে দুইজন নিহত হন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রোববার সকাল ১১টায় সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম লিমন গ্রুপের শতাধিক ক্যাডার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর গ্রুপের শতাধিক ক্যাডার অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া দেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লিমন গ্রুপের ক্যাডার বাবুকে মারধর করে বাবরের অনুসারীরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগ-যুবলীগের উভয় গ্রুপের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এসময় সিআরবি এবং আশপাশ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিয়ে উভয় গ্রুপকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

সিএমপির কোতোয়ালী সহকারি কমিশনার মো. মাঈনুদ্দিন জানান, সংঘাতের খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিমন ও বাবর গ্রুপের লোকদের ছত্রভঙ্গ করতে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। র‌্যাবের চারটি টিমও ঘটনাস্থলে যায়। তারা ধাওয়া দিয়ে উভয় গ্রুপকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি বাবর ও লিমন গ্রুপের দুই পক্ষের প্রকাশ্য রক্তক্ষয়ী সংঘাতে দুইজন নিহত হন। নিহতরা হলেন যুবলীগ কর্মী সাজু পালিত ও আট বছরের শিশু আরমান। এ ঘটনার পর থেকেই রেলেও বছরে শত কোটি টাকার টেন্ডার দখলে উভয় গ্রুপের ক্যাডাররা প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।