পুরস্কার পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাই ‘মাদক ব্যবসায়ী’!

0

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানসহ বিভিন্ন অপরাধ কমিয়ে আনার জন্য পুরস্কৃত হয়েছিলেন কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এই পুরস্কার জাহাঙ্গীরের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার (এসপি) মেহেদুল করিম। পুরস্কার পাওয়া সেই ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে-ই অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসার!

রৌমারীর মাদক ব্যবসা, মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা, মাদক খাওয়া, মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গীরের আলমের ‘উপদ্রব’ থেকে রেহাই পেতে রৌমারীর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ছয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদরদপ্তরের অভিযোগ জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম টাঙ্গাইলের করটিয়ার সরকারি সা’দাত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের জীববিজ্ঞান পড়াশোনা করতেন। একই কলেজ ও বিভাগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে স্নাতক করেছেন রৌমারীর যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ির সাজ্জাদুল হক সুজন (৪০)। জাহাঙ্গীর রৌমারীতে ওসি হয়ে আসলে সেই সূত্রেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুজনের আত্মীয় যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের ইব্রাহীম লিংকনের (৪০)। রৌমারীর মাদক ব্যবসার ‘মূলহোতা’ লিংকনের আপন মামাতো ভাই সুজন। এই তিনজন ও রৌমারী সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের মৃত শের আলীর ছেলে আব্দুল খালেকসহ আরও বেশ কয়েকজন মিলে রৌমারীর মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

তবে ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক সেবন ও ব্যবসার পাশাপাশি মাদকে মামলা, গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। সাধারণ মানুষকে মাদকের অভিযুক্ত করার কারণেই অনেক লোককে গ্রেফতার দেখাতে পেরেছেন এবং পুরস্কার পেয়েছেন জাহাঙ্গীর।

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, ‘মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। যে এ বিষয়ে একটু কথা বলে তাকেই গ্রেফতার করার হুমকি দেয়। পুরস্কারের কারণ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০ জন মাদকওয়ালাকে ধরলে, ১০টার জায়গায় একশডা দেখাইছে বেহিসাবি (সাধারণ মানুষ) মানুষ। সরকার তো জানে জাহাঙ্গীর আলম মাদক ধইরা শেষ কইরা দিছে। মূল হোতা তো ধরে না।’

বঙ্গবাসী আরও বলেন, ‘উনি নিজেও (জাহাঙ্গীর আলম) মাদক ব্যবসায়ী। মূল হোতাদের সঙ্গে উনি নিজেই মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করেন। উনি টাঙ্গাইলের করটিয়া কলেজের ছাত্র। আমাদের এলাকার অনেকেই তার সঙ্গে লেখাপড়া করছে সেখানে। কলেজ জীবনের সেই সব বন্ধুবান্ধব ওসির ছাত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা করতেছে।’

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এমন অনেক অভিযোগের বিষয়ে অবহিত আছেন স্থানীয় সাংসদ (কুড়িগ্রাম-৪ আসন) মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘ও এলাকাতে ত্রাস সৃষ্টি করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। ও যা খুশি করছে। আমরা জনগণের সরকার, পুলিশ হবে জনগণের সেবক। অন্যায়কারী আমরাও পশ্রয় দেব না। দশটা কাজ ভালো দেখাইয়া, আর আন্ডারগ্রাউন্ড উল্টাপাল্টা করলে সাধারণ মানুষ তো বলতেই পারেন। এরকম অনেক অভিযোগ মানুষ আমার কাছেও দিছে। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

এই সংসদ সদস্য আরও জানান, পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে, মাদক ধরছেও। কিন্তু যেসব মাদক বা ইয়াবা ধরছে তার মধ্যে চার ভাগের একভাগ সরকারি কোষাগারে দিয়ে বাকি তিনভাগ রেখে দিচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তা। পরে সেগুলো পুলিশ কর্মকর্তা নিজে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। সেজন্য মাদক কোনোভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।

যেভাবে চলে মাদক কারবার

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে রৌমারীতে ইয়াবা আসত মিয়ানমার থেকে। এখন আসে ভারত থেকে। ভারত সীমান্তবর্তী রৌমারী সদর ইউনিয়নের চর ফুলবাড়ী, খাটিয়ামারী, ভন্দুর চর, বড়াইবাড়ি, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের সাহেবের আলগা, ইটালুকান্দা, খেতার চর, শৌলমারী ইউনিয়নের গয়তাপাড়া সীমান্ত ইয়াবা, ফেন্সিডিল, অফিসার্সস চয়েজ (মদ) আসে। এসব মাদকদ্রব্য পুলিশের একটি জব্দ করা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে জামালপুর ও শেরপুরের বিভিন্ন জায়গায় যায়। পরে সেখান থেকে মাদকদ্রব্য চলে যায় টঙ্গীতে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় পুলিশের জব্দ করা গাড়ি ব্যবহার করা হয়।

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা শাখা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. সুরুজজামাল সরকার বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম রাতে লিংকনের বাসায় যায়। ওইখানে ইয়াবা-টিয়াবা খায়। তারা মিলেমিশেই কোটি কোটি টাকার ব্যবসাও করে। মূল ব্যবসায়ী লিংকন। গাড়ি (পুলিশের জব্দ করা ব্যক্তিগত গাড়ি) দিয়াই মাল (মাদকদ্রব্য) জামালপুরের সানন্দাবাড়ি পৌঁছে দেয়। এ জন্য দরখাস্ত দিছি। আমি বলছি, আপনারা সরেজমিন তদন্ত করে দেখেন।’

চলতি বছরের ২২ মে, পুলিশ সদরদপ্তর বরাবর এমন অভিযোগ করেছেন সুরুজজামাল সরকারই।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে দূরে, ব্রহ্মপুত্র নদের কারণে বিচ্ছিন্ন এবং ভারত সীমান্তবর্তী থানা রৌমারী। এই থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম কলেজ জীবনের সহপাঠীদের নিয়ে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তিনি নিজেও ইয়াবাসেবক ও মাদকাসক্ত। জাহাঙ্গীর এলাকার মানুষজনদের ইয়াবা ও নেশা জাতীয় দ্রব্য দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলা করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওসির বিরুদ্ধে সুরুজজামাল সরকারের দেওয়া অভিযোগপত্র:

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মাদক ব্যবসায় করটিয়া কলেজের সহপাঠী ও যাদুরচর ইউনিয়নের সুজন, লিংকন, রৌমারী সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের মৃত শের আলীর ছেলে আব্দুল খালেকসহ রাজিবপুরের বেশ কয়েকজন তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। রংপুর বিভাগের পুলিশের মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) সঙ্গে জাহাঙ্গীরের আত্মীয়তার (জাহাঙ্গীরের চাচা ডিআইজি) সম্পর্ক থাকায় এর প্রতিকার মিলছে না।

ভুক্তভোগীর কথা

ওসি জাহাঙ্গীর আলমের টাকা নেওয়ার অভিযোগ পুলিশ সদরদপ্তরের মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিতভাবে করেছেন রৌমারীর মো. সাইফুল ইসলাম হায়দার।

লিখিত অভিযোগে তিনি লেখেন, গত বছরের ৩১ মে ওসি ছয়জন এসআই তার বাড়িতে তল্লাশি চালান। কোনো কিছু না পেয়ে তাকে থানায় ডাকে এবং তার নামে মামলা আছে বলে জানায়। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য আয়নাল হক ও তার জ্যাঠাত ভাই ছদিয়ার উপস্থিতিতে ৫১ হাজার টাকার বিনিময়ে সাইফুল ইসলামকে ছাড়িয়ে আনা হয়। এই ঘটনা তৎকালীন এএসপিকে জানান তিনি। এ জন্য আবার আটক করে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তাকে আটক করে তার কাছে আবার টাকা দাবি করে পুলিশ। এবার সাইফুল ইসলামকে ছাড়তে তার বড় ভাই ছায়দার আলী, ছদিয়া ও আমিনুল ইসলানের উপস্থিতিতে থানার ক্যাশিয়ার ও ওসি জাহাঙ্গীর আলম দুই লাখ টাকা নেন।

পুলিশ সদরদপ্তর বরাবর সাইফুল ইসলামের দেওয়া অভিযোগপত্র:

এভাবে সময় সময় হুমকি, টাকার দাবি থেকে মুক্তির উপায় না দেখে গত ১০ মে পুলিশ সদরদপ্তরে মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন সাইফুল ইসলাম। বিষয়টি সাইফুল ইসলাম প্রিয়.কমকে ফোনেও নিশ্চিত করেছেন।

যত অভিযোগ

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ছয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য গত ৮ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর অভিযোগ করেছেন। তারা এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে মিথ্যা ও সাজানো মামলা করা, মানুষকে হয়রানি, দুর্নীতি, ঘুষ, আটক বাণিজ্য, ময়নাতদন্ত ছাড়াই অপমৃত্যুও লাশ দাফনসহ সুনির্দিষ্ট বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়।

রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, এই উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামচুল হক মৌলভী, বন্দবেড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন, শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, যাদুরচর ইউনিয়নের মো. সরবেশ আলী এবং চর মৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম ফজলুল হক মন্ডল দেওয়া অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলো।

১. গত ৬ এপ্রিল রৌমারীর শৌলমারী ইউনিয়নের চরের গ্রামের হাজী আবু বক্করের ছেলে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে (ওরফে মনু) বড়াইকান্দি বাজার থেকে আটক এবং টাকা দাবি করেন জাহাঙ্গীর। পরের দিন বিকেলে দাবি করা ২ লাখ টাকা ঘুষ দিলে তাকে ছেড়ে দেন জাহাঙ্গীর।

২. পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় গত ৬ এপ্রিল দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের হাজীর হাট এলাকার মোস্তাকি আহমেদ (৪৫) ও তার চেলে মোমিনুল ইসলামকে (২৫) গ্রেফতার করে জাহাঙ্গীর। গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে মোমিনা বেগম ও তার ছেলের বউ ফরিদা খাতুনকে মারধর করে পুলিশ। পরে থানায় নিয়েও মারধর করা হয়, একপর্যায়ে তারা অচেতন হয়ে পড়লে রাত ৪টার দিকে থানা হেফাজ থেকে বের করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর মোস্তাকি ও মোমিনুলের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা করা হয়।

৩. গত ৩ মার্চ রৌমারীর সদর ইউনিয়নের মৃত আব্দুল ছাত্তারের ছেলে জয়েন উদ্দিন (৬৫) নামে এক কৃষককে কর্তিমারী বাজার থেকে মাদক দিয়ে থানায় নিয়ে আসা এবং অর্থ দাবি করেন জাহাঙ্গীর। পরে রাতে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওইদিন রাতেই সাইদুর রহমান (৪৯) নামে আরেক ব্যক্তিকে মাদক দিয়ে ধরে আনেন তিনি। এ ছাড়া জামালপুর বকসিগঞ্জের চর কাউনিয়ার চর গ্রামের মোজ্জাম্মেল হোসেনের ছেলে আবু মাজেদ রানা, গোলাবাড়ী গ্রামের আলতাফ হোসেনসহ তিনজনকে ৯৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করলেও শুধু মাত্র আবু মাজেদ রানাকে কোর্টে পাঠান জাহাঙ্গীর।

ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া অভিযোগপত্র:

৪. গত ১১ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে উপজেলার গোলাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫ জুয়ারিকে আটক করেন পুলিশ। এ সময় পুলিশের ধাওয়ায় গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত ভেলু শেখের ছেলে আব্দুর সবুর (৪৬) মারা যান। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সবুরের লাশ দাফন করা হয়। ঘটনা ধামাপাচা দিতে ১২ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার দিকে ওই জুয়াড়িদের ছেড়ে দেয় রৌমারী পুলিশ।

৫. গত ২০ ফেব্রুয়ারি রৌমারীর কর্তিমারী বাজারের আওয়ামী লীগ নেতা হাসানুজ্জামান স্বপনের অফিসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাসানুজ্জামান স্বপন (৪৫), ফুল মিয়া ও কালাচন মিয়াকে (৩০) মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ জব্দসহ আটক করে পুলিশ। পরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্বপন ও ফুল মিয়াকে ছেড়ে দেয় রৌমারী পুলিশ।

৬. গত ৪ এপ্রিল রৌমারীর চরশৌলমারী ইউনিয়নের একটি মেলায় অভিযান চালিয়ে নুর আলম (২২) ও রব্বানী মিয়া (২১) নামের দু্ি জুয়ারিকে আটক করে হ্যান্ডকাপ পরায় পুলিশ। পরে অন্য আসামিকে ধরতে গেলে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় ওই দু’জন পালিয়ে যান। পরে জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেলায় আগতদের এলোপাথারি মারপিট করে। এ সময় শহর আলী (৪০), সমেস আলী (২৯), রুলে মিয়া (১৮), বেলাল হোসেন (১৭), বেলাল হোসেন (১৭), সাকিল হোসেন (১৮), সাইফুল ইসলাম (২৪), শাহীন আলম (১৯) ও ছমেদ আলী (৩০) নামের আটজনকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। পরে গ্রামবাসী হ্যান্ডকাপ পরা দুজনকে ধরে পুলিশে দিলে আটক আটজনের মধ্যে পাঁচজনকে ছেড়ে দেয় জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় আটক তিনজনসহ ১০/১২ জনের নামে মাদক ও জুয়া আইনে দুটি মামলা করে পুলিশ।

৭. বৈশাখী শেলার প্রথম দিনে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ৩০ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে আব্দুল গফুর (৪৫) ও তার ছেলে মিলন (১৭), মোতালেব হোসেন বল্টু (৫২), সাইফুল ইসলামসহ (৩৩) ১১ জনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। বাকি ১৯ জনের বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদক আইনে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। একইভাবে পূর্ব দুবলাবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে জুয়া ও মাদকব্যবসার অভিযোগে আটক করে পুলিশ। পরের দিন সকালে টাকার বিনিময়ে গোলাবাড়ির মৃত আইনুদ্দিন আকন্দের ছেলে সাইফুল ইসলামকে ছেড়ে দেয় তারা।

৮. উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত ফজলুল হকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে গত ২০ মার্চ। পরের দিন ফজলুল হকের মেয়ে ফারজানা আক্তার বাদি হয়ে একটি অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ মার্চ গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত আইজুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে শাহজাহান মণ্ডলকে (৫৫) আটক করে পুলিশ। তাকে টাকার বিনিময়ে রাতে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর টাংড়াপাড়া গ্রামের মৃত নীলমন শেখের ছেলে আবর আলী (৬৫) ও তার ছেলে শাহাআলমকে (৪০) গ্রেফতার করে থানায় নেওয়া হয়। এবং তাদেরকেও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

৯. গত ২ সেপ্টেম্বর উপজেলার মাঠের ভিটা নামক স্থানে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নুর আমিন (৫৫) নিহত হন। এ ঘটনায় চালক সুরুতজামালকে আটক করে পুলিশ। টাকার বিনিময়ে তদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয় পুলিশ।

১০. উপজেলায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত ছাড়াই বেশিরভাগ মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। রৌমারী কলেজ পাড়া এলাকার আবুল হাশেম সাস্টারের স্ত্রী শিক্ষিকা মাসুমা আক্তারের ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা, ফুলুয়ারচর গ্রামের আক্কেলের মেয়ে নাজমা খাতুনের বিষ খেয়ে আত্মহত্যা, গয়টাপাড়া গ্রামের নুর সালামের স্ত্রী জবেদা বেগমের আত্মহত্যা, যাদুরচর পূর্বপাড়ায় এক যুবকের ফাঁস টাঙিয়ে আত্মহত্যা-এসবের কোনোটারই ময়নাতদন্ত করেনি পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য:

ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যারা অভিযোগ করছে, সেই অভিযোগ তদন্ত হোক। অনেক অভিযোগ উনারা করছে, একটাও ধুপে টেকে নাই। বরং প্রত্যেকবারই নিজেরাই ঝামেলায় পড়ছে। অামি কোনো অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য দেব না। উনারা গতকাল কিছু সাংবাদিক আনছিল, সিনিয়র অফিসার আনছিল, এখন দেখি সবই ভুয়া। কিছুক্ষণ পরে মামলা হবে তাদের বিরুদ্ধে। যারা অভিযোগ করেছে, তারাই মাদকের সাথে জড়িত। আমার কাছে তথ্যপ্রমাণ আছে। আমার কথা হলো, আপনারা স্পটে আসেন, তদন্ত করে দেখেন।’