পাকিস্তানের পতাকা রক্ষার জন্য সমস্ত স্থাপনা তুলে ফেলবেন?

0

জিসাফো ডেস্কঃ সংসদ ভবন এলাকার সব স্থাপনা সরিয়ে ফেলে পাকিস্তানের পতাকা রক্ষা করবেন কিনা সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় এ প্রশ্ন রাখেন তিনি। ৬ ডিসেম্বর ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্ত দিবস’ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা সেটা বড় কথা নয়, তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। তার মাজার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন সরকারি দলের লোকেরা। আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা বলছেন সংসদ ভবন এলাকার সকল স্থাপনা সরাবেন, যুক্তি দিচ্ছেন লুই কানের নকশার পুনঃস্থাপনা করবেন। কিন্তু তিনি কীভাবে এ নকশা করেছিলেন সেটা আমাদের জানতে হবে।’

‘ক্ষমতায় আইয়ুব খান, তখন তিনি ঢাকায় পাকিস্তানের সেকেন্ড ক্যাপিটাল করবেন বলে ঘোষণা দিলেন। সংসদ ভবন এলাকায় তখন ছিল ফার্মগেটের এগ্রিকালচার ফার্ম। সেই জায়গা নেওয়া হল সেক্রেটারিয়েট ভবন নির্মাণ করার জন্য। এগুলো নির্মাণ করার জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে লুই কানকে বাছাই করা হলো। তিনি নকশা তৈরি করবেন কিন্তু এর ভিত্তি কী হবে? তখন বলা হলো পাকিস্তানের পতাকার উপর এর ভিত্তি হবে, এবং তৈরি হবে আইয়ুব নগর। আজকে কার নকশাকে রক্ষা করতে চাচ্ছেন? পাকিস্তানের পতাকা রক্ষার জন্য সমস্ত স্থাপনা তুলে ফেলবেন? জবাব দিন, এ প্রশ্নের জবাব অবশ্যই দিতে হবে’ যোগ করেন ফখরুল।

আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সমাধিতে হাত দিলে এবার কেউ বসে থাকবে না। এমন সংস্কৃতি চালু করলে আপনাদের আত্মীয়-স্বজনের কবরে জনগণ ধাবিত হলে কী করবেন? এ আগুনে হাত দেবেন না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ।