পাঁচ দিনের রিমান্ডে রাশেদ

0

জিসাফো ডেস্কঃ- শাহবাগ থানার এসআই সজীবুজ্জামান সোমবার রাশেদকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক মো. রায়হানুল ইসলাম পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষার্থী। তাদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ‘ঘোষণা’ দিলেও সরকারি প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

এই পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের বিরুদ্ধে গত শনিবার রাতে একটি মামলা করেন ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা ওই মামলায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি এবং ফেইসবুক ব্যবহার করে শিক্ষাঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।

আল নাহিয়ান সোমবার বলেন, “রাশেদ ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৮টায় ফেইসবুক লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন ‘মনে হচ্ছে তার বাপের দেশ, সে একাই দেশের মালিক। তিনি যা ইচ্ছা তাই বলবেন আর আমরা কোনো কথা বলতে পারবো না’।

“এছাড়া রাশেদ বিভিন্ন সময় ফেইসবুক লাইভে এসে গুজব ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছে, এই বিষয়টার জন্য আমি মামলা করেছি।”

ওই মামলা হওয়ার পর একমাত্র আসামি রাশেদকে রোববার সকালে রাজধানীর ভাসানটেক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ফেইসবুক লাইভে এসে রাশেদ বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ তার পিছু নিয়েছে।

তাকে বলতে শোনা যায়, “ভাসানটেক মজুমদারের মোড় এলাকায় ডিবি আমাকে ধাওয়া দিয়েছে। আমি একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। সবাই আমাকে বাঁচান।”

সোমবার পুলিশ রাশেদকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানালে তার আইনজীবী মো. নুরুদ্দিন ও মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ এর বিরোধিতা করেন। রাশেদ নিজেও আদালতে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আমরা কিছু বলিনি। আমরা শুধু বলেছি, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সব জায়গায় আমরা এটাই বলেছি। মানহানিকর কিছু বলিনি।”

রাশেদের বাবা নবাই বিশ্বাস, মা সালেহা বেগম, স্ত্রী এবং দুই বোন এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।