পরাধীন দেশের স্বাধীন ভাবনা : জিয়া একবারই জন্মায়

0

সরকার বিরোধী ইস্যুর পাল্লা ভারী হলেও অসুবিধা কি?? মুজিবের মতো বাকশাল শাসন চলতেছে। বিরোধী দল প্রায় মরহুম। তাদের কাছ থেকে বাগড়াম্বরতা ছাড়া কিছু বের হচ্ছে না। কে আনবে পরির্বতন?? গায়েবী ভাবে কিছু হবে?? আকাশ থেকে গায়েবি গজব বড়জোর ঠাটা (বজ্রপাত) পারতে পারে। কিন্তু পিএম অফিসে ঠাটা প্রতিরোধক ডিভাইস লাগানো আছে। সুতরাং ঠাটায় কাজ হবে না। আর আল্লাহর কি ঠেকা পরছে পাপের ভারে নুয়ে পরা বাংলাদেশকে গায়েবি সাহায্যে রক্ষা করার? নিজেদের পাপের বোঝা নিজেদেরই বহন করতে হবে। ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ার লোভে পরতে তো আল্লাহ বলে দেয়নি। বিনা মূল্যে সারের লোভে পরতে তো আল্লাহ বলে দেয়নি। তাই লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। বোঝো, নাদান পাবলিক ডিজিটাল কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার এবং কি কি।

আর কোন জিয়া আসবেনা এ দেশের ত্রাতা হয়ে। বর্তমান আর্মির অবস্থা স্রেফ ফার্মের মুরগীর মতো। তাদের দিয়ে বেশী কিছু আসা করা যায় না। একাত্তর পরবর্তী দেশের জন্য সংবেদনশীল মুক্তিযোদ্ধা আর্মি আর এখন নাই। আর্মি অফিসাররা কোনমতে শান্তিমিশন করে গাড়ী বাড়ী সুন্দরী নারী করতে পারলেই কাজ শেষ। কে যায় দেশের কথা চিন্তা করে রক্ত দিতে, মরতে। বর্তমান ভোগ বিলাস আর নিরিহ পাবলিকের উপর দম্ভ দেখাতে মত্ত আর্মি দেশ প্রতিরক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে যথেস্ট সন্দেহ আচে। ক্যান্টনমেন্টগুলো হলো বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা। তাদের মধ্যে রয়েছে ভারতের ভয়ে ভীত মানসিকতা। বেতনভোগী বিলাসি আর্মি দিয়ে দেশ রক্ষা হবে কখনো?? আমার মনে হয় না। এমনকি যদি নেপাল বা ভূটানও বাংলাদেশকে আক্রমন করে বসে আর্মি অফিসাররা যুদ্ধের ময়দানে না নেমে ব্যস্ত হবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে সুন্দরী বউ, নাদুস নুদুস বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে পালায়ন করার জন্য। চাচা আপন প্রান বাচা। শুধু শুধু বেঘোরে অফিসারী প্রানটা দিয়ে কি লাভ? তার চেয়ে ময়দান ছেড়ে পালানো ভালো। নিশ্চিত করে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরমভাবে অপরিকল্পিত ও খুবই দূর্বল। কেউ যদি আশায় থাকে যে, দেশের রাজনীতিকদের চরম স্বেচ্ছাচারিতায় আবার কখনো ১৫ আগষ্টের মতো ঘটনা ঘটবে তা হবে মহাভূল। সরকারী কর্মচারীরা বরং পলিটিশিয়ানদের তুলনায় বেশী রাজনীতি করে। এটাই বাস্তবতা। সুতরাং নয় মন ঘিও ঢালা হবে না, রাধাও নাচবে না।

বলতে পারেন ১/১১ কি হয়নি? হা হয়েছে। কিন্তু ১/১১ হয়েছে দেশ রক্ষার জন্য হয নি। ওটি ছিলো ব্যাপকতর লোভের ফসল। ভাবা হয় পলিটিশিয়ানরা মহা চোর। ওরা খেয়েছে আমরাও খাব এমন মানসিকতার কিছু তস্কররা দিনে দুপুর রাষ্ট্রক্ষমতা ডাকাতি করে নেয়, ১৬ কোটি জনতার সামনে দিয়ে। পলিটিশিয়ানরা চোর এটা সত্য। কিন্তু যারা ১/১১ নিয়ে এসেছিল তারা কি সাধূ সন্যাসী?? দুর্ভাগ্য যে, দেশ‍টা পলিটিশিয়ান চোরদের হাত থেকে গিয়ে পরেছিল ১/১১র বাটপারদের হাতে। মইনগংদের দূর্নীতির কোন সীমা পরিসীমা নাই। শুনা যায় মাসুদ অষ্ট্রেলিয়ায় ভেগেছে ৯০০ কোটি টাকা নিয়ে। জেনারেল শাকিলের প্রয়াত স্ত্রী নাজনীন এয়ারর্পোটে প্রায় এরেস্ট হয়েছিল কোটি কোটি টাকা পাচার করার সময়। মইনসহ তার ভাইদের লুটপাটের কথা কি আর বলে শেষ করা যাবে। ঢাকার আশে পাশে শুধু মইনের ভাইয়ের ইফাদ গ্রুপের সাইন বোর্ড। সিডর সাহায্যের টাকা, বড় বড় ব্যবসায়ীদের ধরে নিয়ে কতো টাকা যে লুটপাট করা হয়েছে, তার কোনো সঠিক হিসাব আল্লাহতায়ালা ছাড়া কেউ জানে না। হাজার হাজার কোটি টাকার অসীম অংকের লুটপাট, যার খবর এ দেশবাসী কোনো দিন হয়ত জানতে পারবে না। ১/১১ওয়ালাদের গুনার মেশিন দিয়েও টাকা গুনে নেয়ার সময় ছিল না। ফলে তারা প্রথম আবিস্কার করে টাকা গুনার নতুন পদ্ধতি: “সোয়া ৮ কেজি পরিমান ৫০০ টাকার বান্ডিলে ১ কোটি টাকা”। এটা প্রয়োগ করেই দু’বছরের লুটপাটটা হয়েছে। ২০ কোটি/৫০ কোটি/১০০ কোটি/৫০০ কোটি টাকার লেনদেন তো আর মেশিন দিয়ে গুনা যায় না। তাদের টাকা নিতে হয়েছে বস্তা গুনে, পাল্লায় মেপে। কার কতো টাকা দিতে হবে তার জন্য ব্যক্তিগত সাক্ষাতকার বোর্ড বসাতেন বারী-আমিন গংরা। আর ব্যবসায়ীরা সিরিয়াল দিয়ে বসে থাকতো, ইন্টারভিউ দিয়ে পৈত্রিক প্রাণটা বাঁচানোর জন্য। ২ দলের মোট শাসনামলে যে পরিমান লুটপাট হয়েছে তা ১/১১ আমলের লুটপাটের তুলনায় তা কিছুই না। ১/১১ হলো এমন নমুনা!

আমরা হাজার টাকা গুনা নাদান পাবলিক ভাবছি, দেশে এতো টাকা আসলো কোত্থেকে? সব বোগাস গল্প। তাই না? বাংলাদেশের শুধু চট্রগ্রামেই কিছু ধনী আছে, যাদের এত সম্পদ আছে যে তারা নিজেরাই জানে না তাদের সম্পদের পরিমান কত! ঢাকায় এমনও লোক আছে, যাদের লন্ডন ও নেদারল্যাণ্ডের সম্পদ যোগ করলে, তার পরিমান ৫০০ কোটি ইউরোর চেয়ে বেশী হবে। বাংলা টাকায় হিসাব করে দেখেন, কত হয়। একই ঢাকা শহরে বসবাস করেও আমরা নাদান পাবলিকের জানার বাইরের পৃথিবী কতো বিশাল! বন্দুকের নলের সামনে এসব টাকাওয়ালাদের ধরলে জীবন বাঁচানোর জন্য টাকার বস্তা দেয়া স্রেফ ভিক্ষা দেয়ার সামিল। তবে ১/১১ওয়ালারা কেবল যদি এদেরকেই ধরতো, কিছু হতো না। ধরেছে ব্যবসায়ীদেরকেও। ব্যবসায়ীরা কি সুর সুর করে এমনি টাকা দিয়ে দিয়েছে??? মোটেও না। কারন ব্যবসায়ীদের কাছে পাবলিক বন্দী, জিম্মী। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ লেগে যাবে। সুতরাং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যা নেয়া হয়েছে, তার বহুগুন তুলে নিয়েছে তারা- জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়ে। ফলাফল হচ্ছে, ১/১১ওয়ালারা আসলে লুটপাট করেছে পাবলিকের পকেট।

১/১১ওয়ালাদের নির্যাতন, নারী ঘটিত অপরাধের বিষয়গুলো আপাতত নাই বা বললাম। দুর্ভাগ্য হলো, রাষ্ট্রীয় বন্দুকের নল দেখিয়ে করা অপরাধের ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ হচ্ছে, তবে খুবই স্বল্প পরিসরে। ১/১১র লুটেরাদের সাথে বর্তমান ক্ষমতাসীন ডাকাতদের আপোষরফা হয়েছে আগেই, কেউ কাউরে কিছু বলবে না। পরস্পরের গা চুলকাচুলকি করবে কেবল। ২০০৯ সালে ক্ষমতার হাত বদলের পরে ১/১১র পিটুনি খাওয়া কিছু সিনিয়ররা চেচামেচি করলে নেত্রী তাদের সাবধান করে দেন। “ক্যামনে ক্ষমতায় আসছি সেটা আমি জানি। বেশী কথা বললে জলিলের মত কোর্টের বারান্দায় প্যারেড করাবো।” তার পরে ঘটানো হলো পিলখানা ট্রাজেডি। ব্যস, সবাই ঠান্ডা। আর কোনো সাড়া শব্দ নাই। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি খুবই জটিল। করার তো কিছু নাই। তাই বসে বসে ভাবতেছি। “পরাধীন দেশের স্বাধীন ভাবনা”। ভাবতে তো আর পয়সা লাগেনা।

১/১১র দু’বছরে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায়, আইন বানিয়ে এমন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতি, গুন্ডামি করা হয়েছে, যা অদ্য কোনো রাজনৈতিক সরকার করতে পারেনি এ পর্য়ন্ত।  এমন নিকৃষ্ট আমলের চেয়ে আওয়ামী জাহেলিয়াতের আমল জাষ্ট মন্দের ভাল। সুতরাং আবার বলছি নয় মন ঘিও ঢালা হবে না, রাধাও নাচতে আসবে না। জিয়ারা ১ বার ই জন্মায়। আর কোন জিয়াও জন্মাবেনা, দেশের দুর্দিনে দেশ বাঁচাতে আর কেউ এগিয়ে আসবে না। যারা মায়া কান্না করে তা স্বার্থের কান্না, কুম্ভিরাশ্রু। সুতরাং দেশের কপালে না জানি আরো কতো দুর্ভোগ আছে। আমরা বলদ পাবলিকের নির্যাতন সহ্য করার ক্ষমতা অসীম। আমাদের হিসাব হলো, কে ভালো রাখবে তা নয়, বরং অমুক কি তমুকের তুলনায় কম নির্যাতন করবে কিনা? অতএব আশায় আছি, কারো ভালো শাসনের জন্য নয়, কার সময়ে চামড়াটা একটু কম পুড়বে, তাতেই যথেষ্ট। পথ বড়ই সংর্কীন। আশার সম্ভাবনা ক্ষীন। মুক্তির ঠিকানা অনেক অনেক দূরে।