পতনের সম্ভাবনা খুব তীব্র হওয়ার কারণেই কালো আইন করেই যাচ্ছে সরকার

0

জিসাফো ডেস্কঃ সরকারের পতনের সম্ভাবনা খুব তীব্র হওয়ার কারণেই তারা উন্মাদগ্রস্ত হয়ে জনগণের গলাটিপে ধরার জন্যই একের পর এক কালো আইন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সরকারের বিরুদ্ধে ‘টু শব্দ’ হলেই তাদের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল রক্ত বইতে থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন রিজভী।

সরকারের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো এবার এনজিও নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিধান রেখে বৈদেশিক অনুদান স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম রেগুলেশন বিল প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে আইন-বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এই আইন পাস করার উদ্দেশ্য হল, সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কেউ যেন নিচু গলায়ও কোনো আওয়াজ করতে না পারে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সর্বশেষ চূড়ান্ত শরবিদ্ধ করা হল।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারের বেপরোয়া দুর্নীতি, অনাচার ও স্বেচ্ছাচারিতাকে নিরাপদ করা হবে। যাতে কোনো বেসরকারি সংগঠন, ওয়াচ ডগ, মানবাধিকার গ্রুপ সরকারের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি লুটপাটের মাধ্যমে সীমাহীন দুর্নীতি, উদ্ধত সন্ত্রাস ও বিরোধী দল দমনে নিষ্ঠুর পদ্ধতির প্রয়োগের বিরুদ্ধে তাদের সমালোচনাকে বন্ধ করে দেয়া যায়।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে কোনো কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতি নেই। এ অবস্থায় মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ এনজিওদের নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ যে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক দমননীতির অংশ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ‘‘অশোভন-অশালীন’’ বক্তব্যের নামে যে কাউকে ধরা সম্ভব। বিলে কোনো এনজিও বা এনজিও কর্মকর্তা সংবিধান বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে অশোভন মন্তব্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। আসলে এই আইনটি করা হয়েছে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের হাতে ভস্মিভূত গণতন্ত্রের ছাইকেও বাতাসে উড়িয়ে দেয়া, যাতে কোনো চিহ্ন না থাকে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন,  এটা গভীর দুরভিসন্ধিমূলক, যা আজ সর্বসাধারণের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের পতনের সম্ভাবনা খুব তীব্র হওয়ার কারণেই সরকার উন্মাদগ্রস্ত হয়ে শুধু জনগণের গলাটিপে ধরার জন্যই একের পর এক কালো আইন করে যাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে ‘টু শব্দ’ হলেই তাদের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল রক্ত বইতে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হারুন-অর রশিদ; সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, মাহবুবুল হক নান্নু, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।