নির্বাচন কমিশনের মস্তিষ্ক অলস হয়ে গেছে,রিজভী আহমেদ

0

কে.এম সাদ্দামঃ নির্বাচনে ইসির নির্লজ্জ ভূমিকা নিয়ে বিএনপিসহ দেশের সুশীল সমাজ অভিযোগ-আপত্তি জানালেও প্রতিষ্ঠানটি সরকারের ‘খাঁচাবন্দি পাখি’ হয়েই থাকছে বলে মন্তব্য করেছে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সরকারের আদেশ মান্য করা ছাড়া আর কোনো কিছুই করার নেই। কমিশন শুধু সরকারের সমস্ত উস্কানি, প্ররোচণা, খুনোখুনি, প্রাণহানি, জখম করে পঙ্গু করার ঘটনাগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে।’ বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘অসংখ্য অভিযোগ, আপত্তি ও নিন্দা জানালেও নির্লজ্জতার মর্মর মনুমেন্ট নির্বাচন কমিশন বেহায়ার মতো তা দেখেও না দেখার ভান করছে। মনে হয় নির্বাচন কমিশনের স্নায়ু শিথিল হয়ে গেছে, মস্তিষ্ক অলস হয়ে গেছে, হৃদয় দুর্বল হয়ে গেছে। এই লক্ষ্যভ্রষ্ট নির্বাচন কমিশন যেন এদেশের লাশে পরিণত হওয়া নির্বাচনী ব্যবস্থা সাক্ষাৎ হাড়হিম করা প্রেত্মাতা।’ সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সারা দেশ থেকে সরকারদলীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জোর করে জিতিয়ে দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে তৃণমূলে একদলীয় শাসনকে সুদৃঢ় করা। এই উদ্দেশ্য নিয়েই আইন করে ৭৫ সালে বাকশাল গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই এবার গণতন্ত্রের আলখেল্লায় দুর্বিনীত সন্ত্রাসের আশ্রয়ে নব্য বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করে চলেছে।’ বুধবার দেশের কয়েকটি পৌরসভায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বিভিন্ন পৌরসভায় কেন্দ্র দখল, বিএনপির প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া, মারধরসহ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন রিজভী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কর্তব্যরত ম্যাজিষ্ট্রেটদের বিষয়টি অবহিত করার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিনা ভোটের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সিংহাসন দখলের পর তারা আরো বেশি মাত্রায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন উর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।