নির্বাচন কমিশনকে দেয়া বিএনপির ২০ প্রস্তাব (বিস্তারিত)

0

১.০ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার গঠন:

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। দলীয় সরকারের এমন ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী এবং তার নিয়ন্ত্রনাধীন প্রশাসনের দ্বারা নিরপেক্ষ নির্বাচন যে একেবারেই অসম্ভব তার প্রমাণ দেশবাসী গত বেশ কয়েক বছরে প্রত্যক্ষ করেছে। কাজেই নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সহায়ক সরকার ব্যতীত কোনক্রমেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হলে তা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই করতে হবে। এটাই বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এবং রাজনৈতিক দলের দাবী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে শীঘ্রই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এ রূপরেখা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনেও হস্তান্তর করবো।

২.০

সকল দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরিকরণ (খবাবষ চষধুরহম ঋরবষফ):

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (খবাবষ চষধুরহম ঋরবষফ) তৈরির জন্য আমাদের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবসমূহ নি¤œরূপ:

২.১ সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান:

সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত বর্তমান সংসদকে অকার্যকর (উুংভঁহপঃরড়হধষ) ও অপরিপক্ক (ওসসধঃঁৎব) মর্মে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলটির অতীতের সংসদীয় কার্যক্রমও উদ্বেগজনক। তারা বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, যার প্রমাণ সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী সংযোজনের মাধ্যমে তারা একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জনগণের ভোটাধিকারের পথ রুদ্ধ করেছে, যা এ দেশের জনগণ ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিরাজমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রীতি-নীতি ও ঐতিহ্য অগ্রাহ্য করে সংসদ বহাল রেখে কোনক্রমেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই সংসদ নির্বাচনের তারিখের ন্যূনতম ৯০ (নব্বই) দিন পূর্বে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

২.২ রাজনৈতিক দলের সাথে সরকারের কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ:

নিরপেক্ষ ও হস্তক্ষেপমুক্ত একটি সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা না গেলে কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা হতে পারে না মর্মে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, ‘ওহ ঃযব ধনংবহপব ড়ভ পৎবফরনষব বষবপঃরড়হ, ধ পৎবফরনষব ঢ়ধৎষরধসবহঃ পধহহড়ঃ নব বংঃধনষরংযবফ’। অর্থাৎ একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া একটি বিশ্বাসযোগ্য সংসদ গঠিত হতে পারে না। বর্তমানে দলীয় সরকারের অধীনে কোনক্রমেই একটি ‘পৎবফরনষব’ অর্থাৎ বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তাই নিরপেক্ষ ও হস্তক্ষেপমুক্ত একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিতকল্পে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।

২.৩ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তি:

(ক) সেনা সমর্থিত ১/১১ এর জরুরী আইনের সরকারের অবৈধ শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্র্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয় এবং অনেক নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেয়া হয়। ২০০৮ সালের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং তাদের দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ঐ সময় দায়ের করা সাত হাজারেরও বেশী মামলা নানা কৌশলে প্রত্যাহার/বাতিল করেছে।

অথচ বিএনপি’র মাননীয় চেয়ারপার্সনসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ঐ সময় দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাসমূহতো প্রত্যাহার করা হয়ইনি বরং অসৎ উদ্দেশ্যে দ্রুতগতিতে মামলাগুলো এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

(খ) প্রহসনের ভোটারবিহীন নির্বাচনে স্বঘোষিত বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে বিগত কয়েক বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত অসংখ্য হয়রানিমূলক, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে এবং করছে। অন্যদিকে সরকারি দল এবং তার অংগদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিনিয়ত খুন-জখম-ডাকাতি ও নারী নির্যাতনসহ নানা জঘন্য অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে।

(গ) এছাড়াও বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের গুম-খুন-আহত এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে তাদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার এবং তাদেরকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার অপচেষ্টা অব্যাহতভাবে চালানো হচ্ছে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে অংশগ্রহণমূলক একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অবিলম্বে – ১/১১ এর অবৈধ জরুরী আইনের সরকার কর্তৃক বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিশেষ করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

একইসাথে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে দায়েরকৃত সকল হয়রানিমূলক ফরমায়েশী মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এসব মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

নেতা-কর্মীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে পুলিশী মামলায় শত শত অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী দেখিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

এ সব নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগী হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২.৪ এখন থেকেই সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ সকল স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিতকরণ:

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাসক দলের প্রধান হিসেবে নির্বাচনী প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়ে, সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের মন্ত্রীবর্গ এবং শাসক দলের নেতারাও অবাধে অনুরূপ প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কোন ধরণের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পালনে অনুমতিও পাচ্ছে না। সরকারের বাধার কারণে বিরোধী মতের দলগুলো ঘরোয়াভাবে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানেও একত্রিত হতে পারছে না। এমনকি ইফতার পার্টির মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং দুঃস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মতো মানবিক কার্যক্রমেও বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই এখন থেকেই সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারো প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা থেকে প্রশাসনকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩.০ প্রশাসন বিষয়ক:

৩.১ বর্তমান সরকার প্রশাসনের সর্বস্তরে ব্যাপক দলীয়করণ করে প্রশাসনের ভারসাম্য বিনষ্ট করেছে। বর্তমানে বিভিন্নভাবে প্রশাসনকে দলীয় আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করা হচ্ছে। এ প্রসংগে দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে উল্লেখ করেছে। এই পরিস্থিতির অনিবার্য বিরূপ প্রভাব থেকে আগামী নির্বাচনকে মুক্ত রাখতেই হবে। এ লক্ষ্যে প্রশাসনকে অবশ্যই দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে।

৩.২ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠান এবং দূতাবাসসমূহে চুক্তিভিত্তিক সকল নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

৩.৩ নির্বাচনের ৯০ দিন পূর্ব হতে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, অর্থ, তথ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, পররাষ্ট্র, কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইত্যাদি সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।

৩.৪ নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে; প্রধান নির্বাচন কমিশনার কিংবা কোন নির্বাচন কমিশনারের একক সিদ্ধান্তে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।

৩.৫ দলীয় আনুগত্যে কাজ করেছেন এমন বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কোন দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশের সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার/পরিবর্তন করতে হবে। এদের বদলি ও পদায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত রাখতে হবে। দক্ষ ও কর্মে সৎ এমন পেশাদার ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের এসকল পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৩.৬ নতুন কর্মকর্তা পদায়নের ক্ষেত্রে বিগত ৫ (পাঁচ) বছর বিভিন্ন পদমর্যাদায় ঐ মহানগর/জেলায় চাকুরিরত ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের একই মহানগর/জেলায় পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা যাবে না। একইভাবে বিগত ৫ বছর কোন সময় যে কোন পদমর্যাদায় ঐ উপজেলা বা থানায় চাকুরিরত ছিলেন এমন কোন কর্মকর্তাদের একই উপজেলায় বা থানায় ইউএনও/ওসি হিসেবে পদায়ন করা যাবে না।

৩.৭ এভাবে পদায়ন বা নিয়োগের পর যদি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা কোন দলের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাঁকে প্রত্যাহার ও তাঁর বিরুদ্ধে চাকুরি বিধি অনুযায়ী শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং তাঁকে পুনরায় কোন নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা যাবে না।

৩.৮ নির্বাচনের ৬ (ছয়) মাস পূর্বে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

৪.০ ভোট গ্রহণে যন্ত্রের ব্যবহার:

ভোট গ্রহণে যে সকল দেশে EVM/VVM পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোতেই ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির প্রমাণ রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আপত্তি জানিয়ে কমিশনে পত্র দেয়া হয়েছে (সংলাগ-ক)। বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণে কোনক্রমেই EVM/VVM পদ্ধতি কিংবা এ জাতীয় কোন যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

৫.০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত:

২০০৮ সালের পূর্বে নির্বাচনী আসনসমূহের যে সীমানা ছিল সেই আসন সীমানা পুনর্বহাল করতে হবে। এ বিষয়ে ইতোপূর্বে আমাদের এই দাবীর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে গত জুন মাসে একটি পত্র দেয়া হয়েছে (সংলাগ-খ)। এর কোন ব্যতিক্রম করতে হলে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সকল রাজনৈতিক দল/জোটের মতামত ও পরামর্শ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত রোড-ম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনী আসন পুনঃনির্ধারণের জন্য আইন চূড়ান্ত করা হবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে (রোড ম্যাপের সারণি-১)। অথচ একই রোড-ম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচনী আসন পুনঃনির্ধারণ সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে (রোড ম্যাপের সারণি-৩)-যা পরস্পর বিরোধী, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।

৬.১ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মোতায়েনকরণ : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ২ (ীরধধ) অনুচ্ছেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় ‘প্রতিরক্ষা বাহিনীকে’ (উবভবহপব ংবৎারপবং ড়ভ ইধহমষধফবংয) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ পূর্ব থেকে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনী আসনে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদানপূর্বক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করতে হবে। সকল নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক টহলসহ ভোট গ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

৬.২ নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদেরকেও ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা অর্পণ করতে হবে।

৬.৩ কোন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতীকের স্পষ্টতা বিনষ্ট না করে ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে ব্যালট পেপারে দৃশ্যমান জলছাপ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬.৪ রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। এতে কমিশনের নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় হবে।

৬.৫ ভোটকেন্দ্র বাছাই ও নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এ খসড়া তালিকার উপর সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও প্রার্থীদের মতামত, দাবী, আপত্তি সক্রিয় বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

৬.৬ নির্বাচনী কর্মকর্তা/ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্যানেল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ পদ্ধতি নিশ্চিতকল্পে নির্ধারিত ফরমে (সংলাগ-গ) কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক প্যানেল তৈরি করতে হবে। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্যানেলভুক্ত করা যাবে না। প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের ক্ষেত্রে বর্তমান কর্মস্থলে কিংবা নিজ আসন/উপজেলা এবং পোলিং অফিসার এর ক্ষেত্রে নিজ ইউনিয়ন/পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া যাবে না।

৬.৭ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহার ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কমপক্ষে ৫০ দিন সময় দিতে হবে। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর হতে ন্যূনপক্ষে ১০ (দশ) দিন এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার জন্য ন্যূনতম ২১ দিন সময় দিতে হবে।

৬.৮ মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী মর্মে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সার্টিফিকেট দাখিলের প্রয়োজন নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন বা তার পূর্বে প্রার্থী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বরাবরে ঐ আসনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে দলীয় প্রধান বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরযুক্ত সার্টিফিকেট দাখিল করবেন। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও মনোনয়ন ফরমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করতে হবে।

৬.৯ ক) মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত নিয়মে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিলের বিধান ছাড়াও সাথে নির্বাচন কমিশনে এবং অন-লাইনে দাখিলের বিধান করতে হবে।

খ) মনোনয়নপত্রের সাথে জামানত হিসেবে ‘নগদ’ বা ‘ক্যাশ’ অর্থ জমাদানের বিধান বাতিল করতে হবে। জামানতের অর্থ কেবলমাত্র ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার/ট্রেজারি চালানের মাধ্যমেই জমা দিতে হবে।

৬.১০ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে এবং কারাগারে থাকলে তার মনোনীত প্রতিনিধির উপস্থিতিতে লিখিত আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যাহার করতে হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই এর সময় প্রস্তাবক ও সমর্থক এর স্বাক্ষর যাচাই এর ক্ষেত্রে তার সঠিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবক ও সমর্থক এর ব্যক্তিগত উপস্থিতি নিশ্চিত করে আইনানুগভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৬.১১ প্রতিটি সংসদীয় আসনের প্রতি উপজেলা, মেট্রোপলিটন থানা এবং ইহার ভগ্নাংশের জন্য প্রতি প্রার্থীর একজন করে ইলেকশন এজেন্ট নিয়োগের বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ সংযোজন করতে হবে।

৬.১২ ক) ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত খালি ব্যালট বাক্স, ব্যালট পূর্ণ বাক্স ও ব্যবহার হচ্ছে এমন ব্যালট বাক্স সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের সামনে দৃশ্যমান স্থানে সংরক্ষণ ও স্থাপন করতে হবে এবং ব্যালট বাক্সের সংখ্যা ও ব্যালট বাক্সের গায়ে উল্লিখিত নাম্বার পোলিং এজেন্টকে দেখাতে হবে।

খ) ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবার পরপরই সকল পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোট গণনা কার্যক্রম শুরু করে বিরতিহীনভাবে গণনার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের ভোট গণনার স্বাক্ষরিত বিবরণী (জবংঁষঃ ংযববঃ) উপস্থিত প্রত্যেক এজেন্টকে প্রদান না করে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন না।

৬.১৩ রিটার্নিং অফিসার ভোটগ্রহণের দিনই যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি আসনের ভোটের ফলাফল একত্রীকরণ করে প্রার্থীদের কিংবা তার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করবে।

৬.১৪ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে প্রতিটি জেলায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার এবং প্রতি উপজেলা/থানায় উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসারের অফিসে একটি করে ঈড়সঢ়ষধরহঃ জবফৎবংং ঈবহঃবৎ চালু করতে হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোন অভিযোগ প্রাপ্তির সর্বোচ্চ ১২ (বার) ঘন্টার মধ্যে তা নিষ্পত্তি করে অভিযোগকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

৬.১৫ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনী আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে দৃশ্যমানভাবে নাম ও র্যাঙ্ক ব্যাজসহ ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য সাদা পোষাকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

৭.০ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ বিষয়ে সংশোধনী প্রস্তাব:

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর কতিপয় বিধি সংশোধন/সংযোজনের জন্য আমাদের প্রস্তাব এতদসংগে সংযুক্ত করা হলো (পরিশিষ্ট-খ)। তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিষয় নি¤œরূপ:

৭.১ মনোনয়নপত্র ফরম-১ (জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র) সংশোধন : নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর তফসিলে ফরম-১ (জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র) এর ৩য় অংশে ৬ (ক) নি¤œরূপ সংশোধন করতে হবে:

‘রাজনৈতিক দলের প্রার্থী’ শব্দাবলীর স্থলে ‘রাজনৈতিক দল/জোটের প্রার্থী’ শব্দাবলী সন্নিবেশিত হবে; এবং ‘আমার স্বপক্ষে রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন এতদসংগে সংযুক্ত করিলাম’ শব্দাবলী বিলুপ্ত হবে।

৭.২ মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরপরই বৈধ প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে।

৭.৩ নির্বাচনী মালামাল বিতরণের সময় প্রতি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স এর নম্বর সম্বলিত চালানপত্রের ফটোকপি প্রার্থী বা প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে প্রদান করতে হবে। এতে করে পোলিং এজেন্ট এই কপির সাথে কেন্দ্রের ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স এর নম্বর মিলিয়ে যাচাই করে নিতে পারবেন।

৭.৪ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য নির্ধারিত ও সংরক্ষিত প্রতীকের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে কিংবা কোনক্রমে মিল আছে মর্মে প্রতীয়মান হয় এমন কোন মার্কা/প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে না।

৮.০ রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ বিষয়ে সংশোধনী প্রস্তাব:

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর কতিপয় বিধি সংশোধনের প্রস্তাব এতদসংগে সংযুক্ত করা হলো (পরিশিষ্ট-গ)। তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নি¤œরূপ:

৮.১ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সকল রাজনৈতিক দলের ও প্রার্থীর সভা-সমাবেশ-পথসভা করার ক্ষেত্রে সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সভা-সমাবেশের অনুমতি প্রদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে ন্যস্ত করতে হবে।

৮.২ রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার সংজ্ঞার ২(১১) দফাতে উল্লিখিত ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ শব্দগুলো নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ শব্দগুলো আচরণ বিধিমালার সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে হবে। এটি সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির সমতার নীতিরও পরিপন্থী। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৪(২) এর আওতায় অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছদ্মাবরণে কেউ যেন সরকারি সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ না পান তা নিশ্চিত করতে হবে।

৮.৩ ক) ‘নির্বাচন পূর্ব সময়’ অর্থ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন হতে পূর্ববর্তী ৯০ (নব্বই) দিন কিংবা কোন শূন্য আসনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশন কর্তৃক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন হতে নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত সময়কাল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে বিধিমালার সংশ্লিষ্ট দফায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

খ) নির্বাচনপূর্ব সময়ের শুরুতে সকল বৈধ অস্ত্র জমাদানের নির্দেশনা জারী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়ে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

৯.০ রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ বিষয়ে সংশোধনী প্রস্তাব:

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এর সংশোধন প্রস্তাব এতদসংগে সংযুক্ত করা হলো (পরিশিষ্ট-ঘ)। এ বিধিমালা সংশোধনের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব নি¤œরূপ:

৯.১ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন সংসদের মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১২ মাসের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা দরখাস্ত আহবান করতে পারবে না।

৯.২ রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিধি-৭ এর উপবিধি (৫), (৬) ও (৭) এর বিধানাবলী বিলুপ্ত করতে হবে। কারণ ঞঐঊ জঊচজঊঝঊঘঞঅঞওঙঘ ঙঋ ঞঐঊ চঊঙচখঊ ঙজউঊজ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৯০উ এ বর্ণিত শর্তাবলী ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৭ এর উপবিধি (১) (২) (৩) ও (৪) যথাযথভাবে প্রতিপালন করে নিবন্ধনের জন্য নতুন রাজনৈতিক দলের পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

১০.০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা/গাইডলাইন:

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। এ বিবেচনায় দেশীয় পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং অধিক সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগমন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব নি¤œরূপ:

১০.১ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত:

ক) নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ন্যূনতম ০৩ (তিন) বছর পূর্বে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহী দেশীয় সংস্থাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিবন্ধিত হতে হবে।

খ) কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী কিংবা রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য পোষণকারী কোন ব্যক্তি বা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন কোন পর্যবেক্ষক সংস্থা কিংবা সংস্থার কোন ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না।

গ) নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ন্যূনপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) দিন আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা বা ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করবে।

ঘ) স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে কোন্ পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা পর্যবেক্ষক দল বা ব্যক্তি কোন্ আসনে বা এলাকায় নিয়োজিত হয়েছেন তার একটি তালিকা নির্বাচন কমিশন/সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে প্রকাশ করবেন।

ঙ) স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না। তাছাড়া প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বা ছিল এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা যাবে না।

১০.২ বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংক্রান্ত:

ক) বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা সহজীকরণের জন্য নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপযুক্ত প্রতিনিধির সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিসের ব্যবস্থা করতে হবে।

খ) বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে ‘হেল্প ডেস্ক’ এর ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে একটি নির্বাচনী গাইড ম্যাপ বিমান বন্দর থেকে সরবরাহ করতে হবে। তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।

১১.০ ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ সংক্রান্ত :

ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণে আমাদের প্রস্তাব নি¤েœ উপস্থাপন করা হলো :

১১.১ প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ :

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকবৃন্দ ভোটার হতে অত্যন্ত আগ্রহী। বর্তমানে তারা ভোটার হতে পারছেন না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বিবেচনায় প্রবাসীদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বহু গণতান্ত্রিক দেশে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ আছে।

১১.২ ভোটার হওয়ার যোগ্য প্রত্যেক নাগরিককে ভোটার তালিকাভুক্তকরণ :

ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণে তথ্য সংগ্রহকারীগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের বিধান থাকলেও তা যথাযথভাবে করা হয়নি মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় ভোটার হওয়ার যোগ্য প্রত্যেক ব্যক্তির ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

১১.৩ ভোটার তালিকাভুক্ত মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা হতে কর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

১১.৪ ভোটার হওয়ার যোগ্য কারাবন্দী নাগরিকদের তালিকাভুক্তকরণ :

ভোটার হওয়ার যোগ্য সকল নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নিবন্ধীকরণ করতে হবে। সকল রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী, যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য, কিন্তু বর্তমানে কারান্তরীন রয়েছে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ নিশ্চিত করতে হবে। জেলখানায় আটক ভোটারযোগ্য অন্যান্য ব্যক্তিদের ভোটার তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

১১.৫ ছবিসহ যে ভোটার তালিকা ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিকট থাকে, ছবিসহ অভিন্ন ভোটার তালিকা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্টকে চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করতে হবে।

১১.৬ ছবিসহ ভোটার তালিকায় অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের ছবি অপরিচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে একের ছবি ভুলবশতঃ অন্যের নামে দেখানো আছে। এক্ষেত্রে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে সঠিকতা যাচাইপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১১.৭ ভোটার তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, কেবলমাত্র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে অন্য কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তারা যেন ভোট দিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

১২.০ নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান:

১২.১ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের কর্মী এবং সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।

১২.২ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করবে। রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নির্বাচন কমিশন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

১৩.০ ভোটার সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন সম্পর্কে ভীতি ও অনীহা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা বিবেচনায় সাধারণ ভোটারদের ভোট দানে উৎসাহিত করার জন্য ঠড়ঃবৎ ধধিৎবহবংং ঢ়ৎড়মৎধস পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১৪.০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন:

১৪.১ ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি আসনের রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধি, র্যাব এর প্রতিনিধি, আনসার-ভিডিপি অফিসার এবং ক্ষেত্রমত কোষ্ট গার্ড ও বিজিবি এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিটি জেলায় ও মেট্রোপলিটন এলাকায় একটি করে কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নৈর্ব্যক্তিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করবে।

১৪.২ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মোতায়নের ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব ওয়ার্ড বা তিনি নিজে যে ভোটকেন্দ্রের ভোটার সেখানে মোতায়েন করা যাবে না। তাদের নিয়োগের সময় নিশ্চিত হতে হবে যে, তিনি বা তারা কোন রাজনৈতিক দলের বা প্রার্থীর সাথে কোনভাবে সম্পৃক্ত নন বা ছিলেন না।

১৪.৩ দেশে বর্তমানে কমিউনিটি পুলিশের আবরণে শাসক দলের কর্মীদের দিয়ে একটি দলীয় ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। এই কমিউনিটি পুলিশ সদস্যদের কোন ধরণের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করা যাবে না। তাছাড়া ‘নিরাপত্তা কর্মী’ লিখিত কোন পোষাক পরিধান করে কোন ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত করা যাবে না।

১৫.০ গণমাধ্যম সংক্রান্ত:

বন্ধ ঘোষিত সকল গণমাধ্যম চালু করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যমে সকল দল ও প্রার্থীর প্রচারণায় সমতাভিত্তিক সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ আইসিটি এ্যাক্ট এর বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।

১৬.০ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত:

১৬.১ নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক চালু রাখতে হবে। ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখতে হবে এবং কোনক্রমেই এর ইধহফরিফঃয কিংবা গতি কমানো বা সীমিত করা যাবে না। এছাড়া অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারী করবে এবং এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

১৬.২ বিটিআরসি, ইঞঈখ, ইঝঈঈখ সহ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওহঃবৎপবঢ়ঃ করতে পারে এমন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থাগুলো হতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে।

১৬.৩ সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরগণ ‘নির্বাচন পূর্ব সময়ে’ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাগনের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ) মোবাইল কল লিষ্ট ও কথোপকথনের রেকর্ড নির্বাচন কমিশনকে ইহার চাহিদা মতে সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে। ভিডিও চিত্র, স্থির চিত্র এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর/তথ্য নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধের সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে মর্মে নির্দেশনা জারীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১৭.০ ভোটকেন্দ্রে ঈঈ ঈধসবৎধ স্থাপন:

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ঈঈ ঈধসবৎধ স্থাপন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেক রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের অফিসে সংস্থাপিত ঈঈ ঞঠ মনিটর প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।

১৮.০ নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশী শক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ:

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কালো টাকা ও পেশী শক্তির ব্যবহার অন্যতম অন্তরায়। নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশী শক্তির ব্যবহার প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নৈর্ব্যক্তিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১৯.০ নির্বাচন ভবনে প্রবেশের জন্য ‘প্রবেশ পত্র’ প্রদান:

বর্তমানে নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের প্রবেশের উপর এক ধরণের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকেই প্রায়শই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে নির্বাচন ভবনে যেতে হয়। রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কাজের সুবিধার্থে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অনুকূলে কমপক্ষে ১০টি করে ‘প্রবেশ পত্র’ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি দলের মহাসচিব বরাবর ইস্যু করা যেতে পারে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে ইতোমধ্যেই চিঠি দেয়া হয়েছে (সংলাগ-ঘ)।

২০.০ রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবর্গের পরামর্শ/সুপরিশ বাস্তবায়ন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মহাসচিব

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি

Published By: Zubair Tanvir Siddique