নির্বাচনী সহিংসতা: পুলিশের গুলিতে আ’লীগ কর্মী নিহত

0

গাইবান্ধায় নির্বাচনী সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে মোস্তাক নামে এক আ’লীগ কর্মী নিহত হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ জনে।

শনিবার রাতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা ফলাফল ঘোষণার দাবিতে দীর্ঘ সময় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস, শর্টগানের গুলি ছুড়তে শুরু করে।  এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ কর্মী মোস্তাক নামে একজন নিহত হয়। এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতা পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে এবং পুলিশের ওপর হামলা করে। চেয়ারম্যান সমর্থকদের হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা, ইউএনওসহ ৭ জন আহত হয়।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত রাত পৌনে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওসা তার সমর্থকদের নিয়ে ধাপেরহাটে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবরোধ করে। খবর পেয়ে র‌্যাব, বিজিবিসহ পুলিশ নিয়ে অবরোধ তুলে দিতে যান। অবরোধের কারণে রাস্তার দুই পাশে শ’ শ’ যানবাহন আটকা পড়ে। এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতা বিজিবি ও পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের দুটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে। মুহূর্তেই জনতা পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে  আওয়ামী লীগ কর্মী মোস্তাকসহ অন্তত ২১ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের মধ্যে মোস্তাককে রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে গভীর রাতে তিনি মারা যান।

জনতার হামলায় গাইবান্ধার পুলিশের এ এস পি রবিউল ইসলাম, ইউএনও আবু রায়হান দোলন, সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েসসহ ১২ পুলিশ আহত হয়। গুরুতর আহত ১ পুলিশকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এছাড়াও এআহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে এএসপি রবিউল ইসলাম জানান। অপরদিকে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস বলেন, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেয়ার কারণে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওসাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সাদুল্লাপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।