নির্বাচনী সহিংসতায় ৫ জেলায় নিহত ৮

0

ঢাকা, ২২ মার্চ : রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ভাংচুর, কেন্দ্র দখল করে কারচুপি আর ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন। ভোট গণনা শেষে মঙ্গলবার রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও ঝালকাঠি ও নেত্রকোনায় ভোট চলাকালে দু’জন নিহত হন। সিরাজগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষের এক নারী নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলায় ২নং ধানীসাফা ইউনিয়নের ধানীসাফা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা চলছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হারুন অর রশীদের নৌকা প্রতীকের আটশ’ ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা এর প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল যুবক স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভোট বাতিলের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। এ সময় বিজিবি ও পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহাদাৎ (৩৫), সোহেল (২৫) ও কামরুল (২৫) নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে বেলাল (৩১), সোলায়মান (২৫) ও ইয়াসিনকে (১৬) বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থক।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পিরোজপুরের জেলা পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হোসেন জানান, ব্যালট বাক্স ছিনতাইকালে ম্যাজিস্ট্রটের উপস্থিতিতে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আক্রমণকারীদের ওপর গুলি চালাতে বাধ্য হন। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বিজিবি ২৯ রাউন্ড ও পুলিশ ২-৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে তিনজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন।

কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, টেকনাফে সাতরাং ইউনিয়নে রাত ৮টা থেকে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূর হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন- নূর হোসেনের ভাই আবদুল গফুর (২৯) ও স্থানীয় দুদু মিয়ার ছেলে শফিক (২৮)। পুলিশ অবশ্য একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের আধাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের সমর্থকরা জোর করে ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করলে লোকজনের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে প্রথমে পুলিশ এক রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের ভাই কাউসার গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, ভোটকেন্দ্রে গোলযোগের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠিতে নির্বাচনী সহিংসতায় এক ইউপি সদস্য প্রার্থীর ভাই নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতায় নয় অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। নিহত আবুল কাশেম সিকদার (৫৫) ইউপি সদস্য প্রার্থী চুন্নু সিকাদারের ভাই।

মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের কালিয়ান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

আবুল কাশেম সিকদারের ছেলে সোহাগ সিকদার অভিযোগ করেন, ‘ইউপি সদস্য প্রার্থী সজীব হোসেনের সমর্থকরা জাল ভোট দিচ্ছিল। এতে বাঁধা দেয় চুন্নু সিকদারের সমর্থকরা। এ সময় সজীব হোসেনের সমর্থকরা হামলা চালায় চুন্নু সিকদারের সমর্থকদের ওপরে। এতে আবুল কাশেম সিকদার নিহত হন।’

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মনিন্দ্র নাথ জানান, ওই ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

ঝালকাঠি পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় কেউ মারা যাননি, অন্য কোনো কারণে মারা যেতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় এক নারী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিজয়ী ইউপি সদস্য নবাব আলী এবং পরাজিত প্রার্থী সামিদুল হকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নওনাই বেওয়া নামে এক নারী নিহত হন।

এ ঘটনা ডিবি পুলিশের ওসি ওয়াহেদুজ্জামান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।