নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৪

0

জিসাফো ডেস্কঃ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় চার জেলায় চারজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাবনা, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জতে একজন করে নিহত হন। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আগামী ২৮ মে ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চম ধাপের নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে মো. আব্দুল কালাম খা (৪০) নামে একজন নিহত হন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার সাদুল্লাপুরে ইউনিয়নের শ্রীকোল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল কদ্দুস মুন্সীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, মো. আব্দুল কালাম খা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী। তিনি আব্দুল কুদ্দুস মুন্সীর সমর্থক।
আতাইকুলা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, রাতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুরে ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রইচ উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রাথী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল কদ্দুস মুন্সীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুল কালাম খাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মহসিন (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুদ্দৌলা দুলাল দাবি করেন, মহসিন তার কর্মী।
স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজের পর খতিবনগর জামে মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বের হয়ে মহসিনের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় রানীহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুল হক জানান, লাশ উদ্ধারের সময় মহসিনের কাছ থেকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুদ্দৌলা দুলালের আনারস প্রতীকের পোস্টার ও লিফলেট পাওয়া গেছে।
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।
সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বাদুয়ারচর এলাকায় এমদাদুল হক এবাদ (২৬) নামের এক চা বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি সদস্যপ্রার্থী আলতাফ হোসেনের সমর্থক বলে স্থানীয়রা জানায়।
নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে বাদুয়ারচর কাঁচাবাজারে গিয়ে আলতাফ হোসেনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয় সে। রাতে আলতাফ হোসেনকে তার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় এবাদ। মঙ্গলবার সকালে বাদুয়ারচর গ্রামের নদীর তীরে তার জবাই করা মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সদর মডেল থানার এসআই খালেদ হাসান বলেন, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তদন্তের পর বলা যাবে।
গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের লস্করদী গ্রামে গত সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুল হক মিঠু ও বিদ্রোহী প্রার্থী মাহবুবুল হক মজনুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে হানিফ হোসেন (২৫) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
হানিফ হোসেন্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ও লস্বরদী গ্রামের নাজিমউদ্দিন মিস্ত্রীর ছেলে।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হেদায়েতুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার লস্কররদী গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।