নিজের গ্যারান্টিই দিতে পারি না, কখন গুম হয়ে যাই : বেগম জিয়া

0

ঢাকা: আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি এবং আমরা যেকোনো সময় গুম হয়ে যেতে পারি। আমি নিজেই যে গুমের শিকার হবো না এ গ্যারান্টি দিতে পারি না।’

রোববার সন্ধ্যায় দিবসটি উপলক্ষে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘অনন্ত অপেক্ষা… বাংলাদেশে গুম ২০০৯-২০১৫’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে গুম হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীর স্বজনদের সহমর্মিতা জানাতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি গুম হওয়া দলের নেতাকর্মীদের ফিরে পেতে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনেরও দাবি জানান খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কোনো তদন্ত করবে না। আর তদন্ত করলেও সেই তদন্ত সুষ্ঠু হবে না। তাই অবিলম্বে গুম হয়ে যাওয়া নেতাদের সন্ধানে দেশের নিরপেক্ষ ব্যক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।’

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনের প্রতি খালেদা জিয়ার সহমর্মিতার এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুম হওয়া ২৬ নেতাকর্মীর পরিবার ও প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন স্বজন।

এতে বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, ‘সকল গুম ও খুনের সঙ্গে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা জড়িত। আর সরকারের নির্দেশেই তারা এসব কর্মকাণ্ড করেছে। কারণ, সরকারের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ ও র‍্যাব এগুলো করতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগ দেশে সন্ত্রাস-অত্যাচারের রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনীতি করে। এ কারণে যুবকদের সংগঠিত করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বলে বিএনপির যুবকদের বেছে বেছে গুম করছে।’

খালেদা আরো বলেন, ‘আজ দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাস চলেছ। এ কারণে কেউ কোনো কথা বলতে ও সভা-সমাবেশ করতে পারছে না। আজ দেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নেই। সবার অধিকার আজ লুণ্ঠিত।’

সরকারকে উদ্দেশ করে বেগম জিয়া বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক গুম দিবস। কিন্তু দিবসটি আপনারা সরকারিভাবে পালনের উদ্যেগ গ্রহণ করেননি।’

খালেদা জিয়ার সহমর্মিতা অনুষ্ঠানে বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদির লুনা, নোয়াখালীর হাজীরপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুকের স্ত্রী পারভিন আক্তার, লাকসাম পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার ও তার ছোটভাই গোলাম ফারুক, মাজহারুল ইসলাম রাসেলের মা খাদিজা বেগম, তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া যুবদলের সভাপতি সাজিদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন ও বোন ফেরদৌসি, মো. ইয়াকুব আলীর ভাই মো. আল আমিন, বিমান বন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মুন্নার মা ময়ুরী বেগম ও বাবা মো. শামসুদ্দিন, আব্দুল কাদের মাসুমের মা আয়শা আলী, আদনান চৌধুরীর মা কানিজ ফাতেমা, কাওসারের মা কমলা খাতুন, বংশাল থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হোসেনের স্ত্রী ফারজানা, গুলশান থানা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক সাইফুর রহমান সজিবের বাবা শফিকুর রহমান, সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহেনা বানুসহ অন্য স্বজন হারা ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সেলিমা রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান, বারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।