নিউ ইয়র্ক টাইমস>> বাংলাদেশে হতাশা ও প্রত্যাখ্যানের নীতি

0

জিসাফো ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ এখনও হতাশায়, শোকাচ্ছন্ন। ওই হামলায় ৫ বা তারও বেশি জিহাদি যুবক একটি রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে। তারা কমপক্ষে ২০ জনকে নির্যাতন করে হত্যা করে। নিহতদের বেশির ভাগই বিদেশী। গত বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার জন্য যখন হাজার হাজার মানুষ একটি ময়দানে সমবেত হয়েছেন বা হচ্ছেন তখন তার কাছেই বোমা হামলা হয়েছে। এ হামলায় নিহত হন পুলিশের দু’জন কর্মকর্তা ও একজন বেসামরিক ব্যক্তি।

ইসলামিক স্টেট বিশ্বব্যাপী তার বিস্তার ঘটাচ্ছে। সন্ত্রাসী হুমকি বৃদ্ধি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে এসব হামলা। ১লা জুলাই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। তারপরের মঙ্গলবার তারা আরও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ভিডিও বার্তায়। কিন্তু সরকার এখনও এই ধারণাকে পুঁজি করে বসে আছে যে, এ হামলার জন্য দায়ী স্থানীয় জিহাদি গ্রুপ।

গত তিন বছরে বাংলাদেশে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে কমপক্ষে ৪০ জনকে। বেশ কিছু হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা।

কিছুদিন আগে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল। তারা বলেছিল, ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশে তাদের কর্মকা- বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সতর্কতা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব হামলা হলো তার সরকারের ক্ষতি করার জন্য রাজনৈতিক বিরোধীদের ষড়যন্ত্র। বিরোধীদের বিনাশ করে দেয়ার বিষয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের প্রচলিত সহনশীলতার রীতি গভীরভাবে মেরুকরণ হয়েছে। গত মাসে ব্যাপক গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশের ফলে ১১ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোন সন্দেহ নেই যে, স্থানীয় বিষাক্ত রাজনীতি দেশের ভিতরে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে পরিপুষ্ট করেছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট অথবা আল কায়েদার যদি কোন যোগসূত্র থাকে তাহলে তা হবে গভীর উদ্বেগের বিষয়। যেমনটা দেশের অভিজাত শ্রেণী পর্যন্ত উগ্রপন্থা ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রমাণ মিলছে। শুক্রবারের হামলাকারীরা ধনী পরিবারের সন্তান। তার একজন প্রধানমন্ত্রীর দল আওয়ামী লীগের সাবেক একজন নেতার ছেলে।

কে এই উগ্রপন্থা ছড়িয়ে দিচ্ছে, কে হামলাকারীদের অস্ত্র দিয়েছে তা জরুরি ভিত্তিতে খুঁজে বের করা উচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের। যখন হামলা চলে তখনকার প্রস্তুতির ঘাটতি ও ধীর গতির বিষয়টি অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বাংলাদেশকে যদি সহিংস বিশৃংখল অবস্থা থেকে ফিরে আসতে হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সহনশীলতা, রাজনীতিতে বহুত্ববাদ ফিরিয়ে আনতে হবে। পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে ‘জাস্ট সোসাইটি’।

(৭ই জুলাই নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ‘শক অ্যান্ড ডিনায়াল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্পাদকীয়’র অনুবাদ।

সামান্য সংক্ষেপিত)