নারায়নগঞ্জে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রলীগ খুন

0

কেএম সবুজঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে রুবেল (২৩) নামে এক ছাত্রলীগ নেতা খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত রুবেল উপজেলার মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের নগর এলাকায় এলাকায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ৯টার দিকে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের নগর এলাকায় স্থানীয় মৃত আজমত আলীর ছেলে ও উপজেলার মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ রুবেলকে (২৩) তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পার্শ্ববর্তী মঙ্গলখালী এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে সুরুজ মিয়া, আজমউদ্দিনের ছেলে নয়ন ও বাদল মিয়ার ছেলে কাজলসহ ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে খুজতে থাকে। এ সময় তারা রুবেলের বাড়ীতে গিয়ে তার বড় ভাই উপজেলা ওলামালীগের যুগ্মসম্পাদক মোমেনকে পেয়ে এলোপাথারী পেটাতে শুরু করে। মোমেনের চিৎকারে রুবেল তার ভাইকে বাচাঁতে দৌড়ে আসেন।
হামলাকারীরা মোমেনকে ছেড়ে রুবেলকে এলোপাথারী কুপিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে তারা রুবেলের তলপেটে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম অবস্থায় ফেলে সেখান থেকে চলে যায়। মুমূর্ষ অবস্থায় আহত রুবেলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হামলাকারী নয়নের বাড়ীঘর আগুন জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নিহতের বড় ভাই মোমেন জানান, হত্যকারীরা আওয়ামীলীগের স্থানীয় এমপির পক্ষে রাজনীতি করেন। অপরদিকে সে ও তার ভাই এমপির প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বলয়ে রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। তারা সবসময়ই আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতো। এমনকি তারা আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাদাঁ দাবিও করেছিল। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি মোমেনের।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, যতটুকু শুনেছি আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে নিহতের বড় ভাইয়ের সাথে হামলাকারীদের ঝগড়া হয়। সেটাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তদন্তের মাধ্যেমেই হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে কারন যা ঘটে থাকুক, হত্যাকারীরা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।