নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তা একটি দৃষ্টান্ত হবে

0

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বিগত হুদা কমিশনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে তা অনেকদিন মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হবে।

প্রশ্ন : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আয়োজনে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা রাখা উচিত, যাতে দেশের মানুষ এ কমিশনকে বিশেষভাবে মনে রাখবে?

এম সাখাওয়াত হোসেন : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আগামীতে গবেষকরা তুলনামূলক সমীক্ষা করে যদি বিশ্লেষণ করেন, তাহলে তারা গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। আমি এ প্রসঙ্গে আলোচনার আগে আমাদের সময়ের (হুদা কমিশনের) কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে চাই। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। সেই নির্বাচন আর বর্তমান নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দলীয় প্রতীকে বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নারায়ণগঞ্জে এ ধরনের নির্বাচন এই প্রথম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী ছিল; দলীয় সমর্থনপুষ্ট নয়, এমন প্রার্থীও ছিল; এবং দু’জন প্রার্থী ছিল যাকে প্রচলিত ভাষায় কেউ কেউ ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী বলে থাকেন। প্রথমদিকে মনে হয়েছিল ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। একপর্যায়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী স্বেচ্ছায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা হয়েছিল মূলত দ্বিমুখী। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যেও বড় দুই দলের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী ছিল। আশা করি, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ২০১১ সালের মতোই নারায়ণগঞ্জে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের আয়োজন করবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে তা অনেকদিন মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হবে। যুগান্তর : ঢাকার অত্যন্ত কাছের এ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় বিভিন্ন পেশার মানুষের বসবাস। এখানে রয়েছে অনেক পুরনো একটি বন্দর। এ বন্দরকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য হয়ে থাকে। এ ছাড়া এ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকাটি নদী দ্বারা বিভক্ত। এসব বিষয় নির্বাচনের ওপর কি কোনো প্রভাব ফেলবে?

সাখাওয়াত হোসেন : কোনো এলাকার যে কোনো বৈশিষ্ট্যের কারণে ওই এলাকার নির্বাচনের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশংকা থেকেই যায়। কাজেই উল্লিখিত বিষয়গুলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ওপর কোনো না কোনো প্রভাব ফেলতে পারে। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে প্রচুর বহিরাগত শ্রমিক। কর্ম উপলক্ষে অনেক মানুষ প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজধানীতে যাতায়াত করেন। এ ধরনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এ এলাকায় প্রায় চার লাখ ভোটারের বসবাস। এসবের বাইরে সার্বিকভাবে এ এলাকার আইনশৃংখলার বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা দরকার। এ এলাকার যেসব মানুষ নানা রকম অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কেউ কেউ বিভিন্নভাবে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে, যা নির্বাচনের ওপরও প্রভাব পড়ার আশংকা থাকে। এসব কারণে ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনটা ছিল আমাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। এর আগে হুদা কমিশনের আমলে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সবই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এ প্রেক্ষাপটে কমিশনের শেষ পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কেমন হয় তা দেখার জন্য সবার বিশেষ কৌতূহল ছিল।

প্রশ্ন : ২০১১ সালের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট কি এক রকম?

সাখাওয়াত হোসেন : না, তা নয়। এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে।

প্রশ্ন : ২০১১ সালের নির্বাচনে কোন মেয়রের প্রতি কোন দলের সমর্থন রয়েছে এ বিষয়ে অস্পষ্টতা ছিল। এবার তা নেই। এটা নির্বাচন কমিশনের কাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

সাখাওয়াত হোসেন : কোন মেয়রের প্রতি কোন দলের সমর্থন রয়েছে এটা স্পষ্ট হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এবারের নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় সহজ হয়ে গেছে। অন্যভাবে বিবেচনা করলে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কিছু বিষয়ে সমস্যা রয়ে গেছে। সরকারদলীয় প্রার্থীকে সিটি কর্পোরেশন এলাকার সরকারদলীয় সব নেতাকর্মীর সমর্থনের বিষয়ে গত কিছুদিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। এসব আলোচনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী একপর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে স্বেচ্ছায় সরে যান। এবার বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ওই রকম কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। কাজেই এসব বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আগাম কোনো কিছু বলাও সম্ভব নয়।

প্রশ্ন : সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিল প্রার্থীদের নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয় না। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

সাখাওয়াত হোসেন : সাধারণভাবে কোনো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সবার দৃষ্টি মেয়র প্রার্থীর দিকে থাকে। কোনো কোনো কাউন্সিলর বা তাদের কোনো সমর্থকের কারণে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টির আশংকা তৈরি হয়। এ বিষয়ক যে কোনো সমস্যার সমাধানে নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রশ্ন : সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে মিডিয়া কী ভূমিকা পালন করতে পারে?

সাখাওয়াত হোসেন : সারা পৃথিবীতে মিডিয়া নির্বাচন কমিশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে থাকে। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির আশংকা রয়েছে এমন যে কোনো বিষয়ে মিডিয়ায় যখন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, নির্বাচন কমিশন সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব জনবল দিয়ে তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে থাকে। কোনো কোনো সময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় মিডিয়ার প্রতিবেদনকে বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচন কমিশনকে অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে সময় ক্ষেপণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনাররা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক পরিস্থিতি তাদের কাছে স্পষ্ট হবে। সরাসরি পর্যবেক্ষণে না গেলে একই সমস্যা ভিন্নরূপে দেখা দেয়ার আশংকা তৈরি হয়।

প্রশ্ন : প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাচ্ছে কিনা তা কীভাবে নিশ্চিত করতে হবে?

সাখাওয়াত হোসেন : স্থানীয় প্রশাসনে পক্ষপাতদুষ্ট কেউ আছে কিনা, তা যাচাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও আমি বলব নির্বাচন কমিশনাররা সরাসরি পর্যবেক্ষণে না গেলে সমস্যা জটিল থেকে জটিল আকার ধারণ করতে পারে। ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনাররা বারবার সরেজমিন পর্যবেক্ষণে গিয়েছেন। ওই নির্বাচনের সময় হুদা কমিশনের একজন সদস্য হিসেবে আমিও কয়েকবার সরেজমিন পর্যবেক্ষণে গিয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যাতে কোনো রকম সমস্যা না হয় তার জন্য হুদা কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। ফলে ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। ওই অভিজ্ঞতার আলোকে বলব, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পর- যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রশ্ন : বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর যেসব সুযোগ রয়েছে, সেসব সুযোগ গ্রহণে কোনো বাধা আছে কি?

সাখাওয়াত হোসেন : সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা নেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো বাধা নেই। যেমন- ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় কিছু জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল।

প্রশ্ন : ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় ইভিএম বা ইলেকট্রুনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নিয়ে অনেক ইতিবাচক আলোচনাও লক্ষ্য করা গেছে। ইভিএম ব্যবহারে বাড়তি কী সুবিধা পাওয়া যায়?

সাখাওয়াত হোসেন : ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় কয়েকটি ওয়ার্ডে ইভিএম বা ইলেকট্রুনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল। যেসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ইভিএম ছিল না সেখানে সিসিটিবি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। এতে নির্বাচনের সময় ঢাকায় অবস্থান করেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আমাদের পক্ষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হুদা কমিশনের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। ইভিএম ব্যবহারের বাড়তি সুবিধা হল এতে অতি দ্রুত ভোট গণনার কাজ শেষ করা যায়। জাল ভোট দেয়া কঠিনতর হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। উপমহাদেশের প্রতিটি দেশে ইভিএমের ব্যবহার শুরু হয়েছে। ভারত ছাড়াও নেপাল ও পাকিস্তানে পরীক্ষামূলক এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। আমাদের সময় (হুদা কমিশন) নারায়ণগঞ্জে সীমিত পরিসরে এর ব্যবহার হলেও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে এ প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করে সফলতা অর্জন করা গেছে। ভোট প্রদান শেষ হওয়ার পর এক ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনার ডালা বিস্তার করতে পারেনি। ইভিএম ব্যবহারে যেহেতু ব্যালট পেপারের প্রয়োজন হয় না তাই পেপার ছিনতাই করে সিল মারার কোনো উপায় থাকে না। তাই এ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হলে ফলাফল কারচুপির কোনো সুযোগ থাকে না। ইভিএমে ভোট বাতিল হওয়ার বা গণনা থেকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভারতে এ প্রযুক্তির আরও উন্নতি হয়েছে এবং ভেরিফিকেশনের জন্য ভোটার অডিট পেপার ট্রেইল সংযুক্ত করা হয়েছে। আমাদের দেশে ব্যবহৃত ইভিএম দেশেই তৈরি করা হয়েছিল। আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশনকে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ধর্তব্যে নিতে হবে।

প্রশ্ন : নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে নানা রকম আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশন গঠনে কোন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া দরকার?

সাখাওয়াত হোসেন : নির্বাচন কমিশনকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা দরকার যাতে পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হয়। পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিশেষ কোনো বিতর্ক শুরু হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা থেকে যায়।

প্রশ্ন : নির্বাচন কমিশনার পদে যাদের নিয়োগ প্রদান করা হবে, তাদের যোগ্যতার বিষয়ে নানা রকম আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনারদের কী রকম যোগ্যতা থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

সাখাওয়াত হোসেন : নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ ধরনের প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। সৎ, নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি কর্মজীবনে যাদের প্রশাসনিক কাজের বিশেষ দক্ষতা আছে, তারা নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবেন, এমনটাই আশা করা যায়। নির্বাচন কমিশনারদের বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবেলার কাজটি সহজ হয়।

প্রশ্ন : ভারতের নির্বাচন কমিশনের এত সুনাম কেন?

সাখাওয়াত হোসেন : ভারতের নির্বাচন কমিশনে বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেয়া হয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, ভারতে নির্বাচন কমিশনার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে প্রায় একই যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়। এতে কোনো একজন নির্বাচন কমিশনারকে পরবর্তীকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলে তার পক্ষে নিখুঁতভাবে কাজ করতে অনেক সুবিধা হয়। ভারতে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মকাল নির্ধারিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্ধারিত কর্মকাল শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনারদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকতা রক্ষার কাজটি সহজ হয়।

আমাদের নির্বাচন কমিশনে একসঙ্গে পাঁচজন কমিশনার নিয়োগ না করে এখন তিনজন কমিশনার এবং তিন বছর পর অপর দু’জন কমিশনারকে নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর তিনজন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হলে অপর দু’জন কমিশনার বিভিন্ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।