নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শিশুর পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা

0

জিসাফো ডেস্কঃ গেল বছর খুলনার শিশু রাকিবের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনা আলোড়িত করেছিল সারাদেশকে। এ ঘটনায় ২ জনের ফাঁসির আদেশও দিয়েছেন আদালত। বছর কাটতে না কাটতেই এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ফের। এবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার যাত্রামুড়া এলাকার একটি তুলা কারখানায় সহকর্মীরা সাগর বর্মন (১০) নামের এক শিশুর পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়েছে। এতে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে সাগর।

রোববার (২৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার যাত্রামোড়া এলাকার জোবায়দা টেক্সটাইল তুলা কারখানায় এ ঘটনা ঘটেছে।

সাগরের বাবা রতন বর্মন একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। তিনি জানান, সুতার ফ্যাক্টরিতে পরিষ্কার করার জন্য এক ধরনের অটোমেশিন থাকে। সাগরের সহকর্মীরা তার সঙ্গে ‘দুষ্টামিচ্ছলে’ এই মেশিন দিয়েই পায়ুপথে হাওয়া দেন। এতে তার পেট ফুলে গেলে তারা তাকে ছেড়ে দেন। সাগর অসুস্থ হয়ে গেলে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে রতন বর্মন খবর পান।

এরপর সাগরকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বেলা ৩টার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। ঢামেকে আনার পর সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাগরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেডিকেল অফিসার আমজাদ হোসেন জানান, পায়ুপথে বাতাস প্রবশে করানোর কারণে শিশুটির শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক হয়েই সে মারা যায়।

সাগরের বাবা রতন বর্মন বলেন, ‘সংসারের অভাব অনটনের কারণে ওই একই ফ্যাক্টরিতে সাগর, আমি আর সাগরের মা (লাবন্য রাণী) কাজ করতাম। সাগর ৩,১০০ টাকা বেতন পাইতো। সাত মাস আগে জয়েন করছে। আজকে আমার ছেলেটারে এরকম করে কেড়ে নিল?’ তিন ভাইয়ের সবার ছোট। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কালিয়াজিরা থানার রাজিবপুর গ্রামে বলে জানান রতন বর্মন।

লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখনো অভিযুক্ত সহকর্মীর নাম জানা যায়নি। কোনো মামলাও হয়নি।

জোবায়দা টেক্সটাইল মিলের শ্রমিকদের বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানভীর বলেন, ‘ঘটনাটির বিষয়ে ওই কারখানায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।’

প্রসঙ্গত, গেলবছর ৩ আগস্ট বিকেলে খুলনা নগরীর টুটপাড়া এলাকায় শরীফ মটরসে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে শিশু রাকিবের পায়ূপথে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শরীফ ও মিন্টু মিয়াকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে শরীফের মা বিউটি বেগমকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শিশু রাকিব হাওলাদারকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে গ্যারেজ মালিক শরীফ (৩৫) ও সহযোগী মিন্টু মিয়া (৪০) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর আসামি শরীফের মা বিউটি বেগমকে (৫৫) খালাস দেয়া হয়েছে।