নরসিংদী জেলা ডিসির অনিয়ম-দুর্নীতি

0

জিসাফো ডেস্কঃ নরসিংদী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু হেনা মোরশেদ জামানের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি মাত্র ৭০ লাখ টাকায় শ্রেণি পরিবর্তন করে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে ডিসির মাকে বেগম রোকেয়া পদক পাইয়ে দেওয়ার ঘটনাও অনুসন্ধান করবে দুদক।

নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলেনায়তনে বুধবার ভূমি, গ্যাস, পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও হাসপাতালের সেবা নিয়ে দুদকের গণশুনানি চলাকালে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ওই সব অভিযোগ অনুসন্ধানের ঘোষণা দেন দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ।

এ ছাড়া গণশুনানিতে ডিসির বিরুদ্ধে উল্লেখ করা নানা অনিয়ম দুর্নীতি যাচাই করা হবে বলেও জানান কমিশনার।

এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ ধরেননি। এক পর্যায়ে ফোন বন্ধ করে দেন।

জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামানের উপস্থিত না থাকায় গণশুনানি সঞ্চলনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশসাক (রাজস্ব) জসিমউদ্দিন হায়দার। এ সময় ভূমি, গ্যাস, পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও হাসপাতালের সেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। কেউ কেউ তথ্য প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগও গণশুনানিতে উপস্থাপন করেন।

এ সময় অভিযোগকারীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে জেলা সদরের অস্তিত্বহীন ক্যান্ডেল লাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নামে কম মূল্যে জমি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মাজাহার পারভেজ বলেন, ‘জেলা প্রশাসক প্রভাব খাটিয়ে সদর এলাকায় শ্রেণি পরিবর্তন করে ৮৫ শতাংশ জমি ওই স্কুলের নামে দিচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ইটাভাটা শ্রেণির ওই জমিকে ভিটেবাড়ি শ্রেণি উল্লেখ করে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

জাতীয়ভাবে বেগম রোকেয়া পদক পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে নরসিংদী জেলার কোনো কৃতি নারীর নাম প্রস্তাব না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চট্টগ্রাম এলাকার বাসিন্দা তার মা দিল আফরোজের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রধান এ দুটি অভিযোগসহ আরো অন্যান্য অভিযোগ উপস্থিত নরসিংদীবাসিরা তুলে ধরেন।

গণশুনানিতে সঞ্চালকের একপাশে বসে ভুক্তভোগীরা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। অন্যপাশে ভূমি, গ্যাস, পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও জেলা হাসপাতালের প্রতিনিধিরা অভিযোগের জবাব দেন।

গণশুনানিতে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বরাদ্দ দেওয়া ও রোকেয়া পদক প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তারা যেই হোক না কেন তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়; অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। ভুক্তভোগীদের সব অভিযোগই যাচাইকালে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।’

দুদক কমিশনার আরো বলেন, ‘দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেবা নিতে গেলে কোনো কর্মকর্তা খারাপ আচরণ করলে বা দেখা না করলে দুদক অফিসকে জানাবেন। সেবা না দিলে নরসিংদী এলাকায় সরকারি চাকুরি করা যাবে না। চাকুরি করতে হলে সেবা দিতে হবে। সেবা দিতে না পারলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করব। দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবে। অন্যায়কারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’