বিএনপি’র নব-নির্বাচিত কমিটির নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা

0
জিসাফো ডেস্কঃ নব নির্বাচিত কমিটির নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া।সোমবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসন নবগঠিত স্থায়ী কমিটি, উপদেষ্টা কাউন্সিল ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।পরে তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
গত ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের পর গত ৬ আগস্ট ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ৫০২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটির নাম ঘোষণা হয়।বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির নতুন কমিটির মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। দেশনেত্রী যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচিত করেছেন, সেই কমিটিকে নিয়ে গতকাল তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করতে এসেছেন। এখান থেকে নতুন কমিটি শপথ নিয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।
২১ আগস্টের ঘটনাবলীর সঙ্গে আপনারা জড়িত বলে প্রধানমন্ত্রী দোষারোপ করেছেন- এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, বরাবরই আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যারা এক সময়ে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছে, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছে, তারা আজকে সম্পূর্ণভাবে একনায়কতন্ত্র এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে চলেছে। তারা এখানে কোনো হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার করেনি। সুষ্ঠু বিচার করেনি দেখেই আজকে বিভিন্ন হত্যাকান্ড বেড়ে গেছে। যে ক্রসফায়ার ও গান ব্যাটেলে কথা বলে কোনো বিচার ছাড়াই মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ঠিক একইভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আমাদের দলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে জড়ানো করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২১ আগস্টের যে হত্যাকান্ডের মামলা, সেই মামলার তিনটি চার্জশিটেও তারেক রহমানের নাম দেয়া হয়নি। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তারেক রহমানের নাম যুক্ত করেছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমরা চাই, এই মামলায় সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। : বিএনপির এই নেতা বলেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের স্ট্যান্ড পরিষ্কার। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণœœ করে সুন্দরবনকে বিনষ্ট করে, পরিবেশকে দূষিত করে, রামপালে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের যে কথা চলছে, আমরা এর বিরোধিতা করি। আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ আমাদের দরকার। তবে সেটা অবশ্যই আমার সুন্দরবনে বাদ দিয়ে করতে হবে, সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আব্দুল মান্নান, ডা. এ জেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফুর রহমান খান আজাদ, আমানউল্লাহ আমান, আ ন হ আখতার হোসেইন, জয়নুল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, অধ্যাপিকা তাজমেরী এস এ ইসলাম, কাজী আসাদ, হাবিবুর রহমান হাবিব, নাজমুল হক নান্নু, আফরোজা খান রীতা, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শ্যামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরী আরা সাফা, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, আব্দুল আউয়াল খান,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক(ঢাকা বিভাগ) শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেলিমুজ্জামন সেলিম, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেয়াজ, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক  কাদের গনি চৌধুরী, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সহ- তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এস এম গালিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ শোকরানা, শফিউজ্জামান খোকন, লাভলী রহমান, হাসান মামুন, ওবায়দুর রহমান চন্দন, তাবিথ আউয়াল, ডা. মাজহারুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম পটু, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, মামুনুর রশিদ মামুন, আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, নিপুন রায় চৌধুরী, এছাড়াও বিএনপি নেতা হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, রেহেনা আক্তার রানু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরবসহ নবগঠিত কমিটির কেন্দ্রীয় সকল সদস্য বৃন্দ, ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দলসহ অঙ্গ সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে উপস্থিত হন।
জিয়াউর রহমানের মাজারে নেতাকর্মীদের ঢল,বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ নতুন কমিটি দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে আসবেন জেনে দুপুরের পর থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী সমবেত হয়। তারা জিয়াউর রহমানের স্মরণে নানা শ্লোগান দেয়। ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে আগত নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত জানান তারা। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আগমনের আগেই মাজার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাজার প্রাঙ্গণের দেয়ালে বিশাল আকারের জাতীয় পতাকা ও বিএনপির পতাকা টানানো হয়। গত এক বছরের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া মাজার প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছালে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর মুহুর্মুহু করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। কর্মীদের ভিড় ডিঙিয়ে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যেতে নিরাপত্তা কর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। নতুন কমিটির শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে জিয়াউর রহমানের মাজারস্থল নেতাকর্মীদের সে­াগানে মুখর হয়ে ওঠে। দুপুরের পর থেকে আগত নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করে নতুন আবহ সৃষ্টি করে পুরো মাজার প্রাঙ্গণে। বেগম খালেদা জিয়া ও দলের নতুন নির্বাহী কমিটির নেতাদের একসঙ্গে আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা খন্ড খন্ড মিছিল করছেন অনুসারীরা। এদিকে নতুন কমিটির পর এটাই বিএনপির বড় শোডাউন।