নতুন ছক অনুযায়ী অগ্রসর হবে বিএনপি

0

জিসাফো ডেস্কঃ

বিএনপির নীতি-নির্ধারকদের ভাবনায় ফেলেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাদের হিসেব-নিকেশের খাতায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। যে সময়টাতেই (ডিসেম্বর-মার্চ) বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সৃষ্ট জনমতের মাত্রা আনতে মাঠ চষে বেড়ানোসহ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ছক এঁকেছে; ঠিক সে সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দলটির নীতি-নির্ধারকরা মনে করেন আন্দোলন ঠেকাতেই এই নির্বাচন। বিরোধী নেতা-কর্মীদের ব্যস্ত রাখার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত। আলাপকালে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, বিশ্বপরিমন্ডলে সমালোচিত এবং নৈতিকভাবে পরাজিত সরকারের কৌশল মোকাবেলায় বিএনপিও নতুন পরিকল্পনার দিকে এগুচ্ছে। এর জন্য একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন দেশে ফিরলেই তার চূড়ান্ত রূপদান করবেন। তার আগে দলের বর্ধিতসভা করবেন। জোটের বৈঠক করবেন শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া।

গত ১৩ অক্টোবরে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধন আইন একযোগে অনুমোদন করা হয়। এই আইনে বলা হয়, দেশের ৩২৩টি পৌরসভা, ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৮৮টি উপজেলা, ১১টি সিটি কর্পোরেশন এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচন না হলে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকবে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা ও মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি যখন প্রশ্নবিদ্ধ, সকল দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচনের দাবি যখন সকল মহলের-তখন সে দাবিকে পাশ কাটিয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজনের পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য মহা-দুরভিসন্ধিমূলক। বিগত সময় দেখা গেছে, রাজনীতিবিদরা জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে শীত মৌসুমে। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে মার্চ-এই চার মাস। সরকারবিরোধীরা তৃণমূলে যান, জেলা সফর করেন। জনমত গঠনের সভা-সমাবেশ করেন। ক্ষমতাসীনরাও তাদের স্বপক্ষে জনপ্রিয়তার সনদ সংগ্রহ করেন। পুরো সময়টুকুই আন্দোলন-কর্মসূচিতে রাজপথ সরকগরম থাকে। হিসেবটি বিএনপির বেলাতেও তাই। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকার বিভিন্ন মামলা, গ্রেফতার ও সাজাসহ নেতাদের হয়রানি-সম্মানহানি করেছিল। সে যাঁতাকলে অন্য রাজনৈতিক দলের মতো বিএনপির স্থায়ী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিপথগামী নেতাদের দিয়ে দলকে ক্ষতি করা সম্ভব হয়। কেন্দ্র নড়বড়ে হলেও সোচ্চার ও শক্তিশালী হয় বিএনপির তৃণমূল। জেলা, থানা/উপজেলা, পৌরসভা/ইউনিয়নসহ গ্রাম পর্যায়ে সংগঠন ইস্পাত কঠিন হয়ে উঠে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এখনো শতভাগ ঠিক হয়নি। তবে তৃণমূল সরকারের দমন-পীড়নেও আগের চেয়ে এখন আরো সোচ্চার। গ্রামাঞ্চলের সংগঠনও মজবুত। সেই তৃণমূলকে তছনছ করার পরিকল্পিত কৌশলই স্থানীয় সরকার নির্বাচন বলে মনে করে বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মী। তারা বিচক্ষণতার সাথে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। নির্বাচনের দিকেই।

এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে হার-জিত যাই হোক- উভয়ই বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীদের ব্যাপক বিজয় হবে। একই সঙ্গে সরকারের জনপ্রিয়তা নেই তাও প্রমাণিত হবে। অন্যদিকে কারচুপি হলে আবারও সরকারের গতচিত্র সামনে চলে আসবে এবং সরকারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধ। তাদের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দ্বিতীয় বছরপূর্তিকে ঘিরে যাতে বিএনপি কোন কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনের মধ্যে বিরোধী নেতা-কর্মীদের ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়া হয়েছে। সরকারের এসব কৌশল আমলে নিয়েই বিএনপি নতুন ছকে হাঁটবে।

বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন- একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতেই সরকার এ ধরনের কৌশলী হয়েছে। দলীয় প্রতীক ব্যবহার করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। কারণ তারা জনবিচ্ছিন্ন। বিচার বিভাগসহ সকল স্তম্ভকে ভাঙচুরের পর দীর্ঘদিনের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকেও তছনছ করে গণতন্ত্রে শেষ পেরেকটি মারতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে তার আগেই দেশবাসী নতুন কিছু দেখতে পারে বলেও আশাব্যক্ত করেন সাবেক এই আইনপ্রণেতা আব্দুল হাই।