দয়া করে আপনি বাংলাদেশকে কাশ্মীর বানাবেন নাঃরুহুল কবির রিজভী

0

জিসাফো ডেস্কঃ চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন কিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বিপাকে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ভারত মনে করছে শেখ হাসিনার ওপর চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত তার পরীক্ষিত বন্ধুর এ ধরণের বিচ্যুতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাই ভারত এখন শেখ হাসিনার ওপর থেকে চীনের প্রভাব কাটাতেই প্রতিরক্ষা চুক্তি করার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও চারদিকে খেলতে গিয়ে এধরণের হোঁচট খাবেন, তা আগে ভাবেন নি তিনি।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির বলেন, ‘ভারত নিজ স্বার্থের অনুকূল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায়। এটা প্রধানমন্ত্রী আগে অনুমান করতে পারেননি। যে ভারত বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার উৎস তারা যদি বেঁকে বসেন তাহলে বাংলাদেশ সরকারের জন্য তা মহাউদ্বেগ ও মহা দুঃশ্চিন্তার বিষয়। বিশ্বস্ত বন্ধুকে অখুশী করে কোনও কাজ করা যায় না। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করতে ‘সুপার হিউম্যান স্পিডে’ এগিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র কিনে দু’দেশের যৌথ সামরিক মহড়া হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে দু’দেশের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে ইত্যাদি চুক্তির অন্তর্ভূক্ত থাকবে বলে আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানতে পেরেছি। এই বিষয়গুলো নিয়ে চুক্তি সই হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিলীন হয়ে যাবে, বাংলাদেশ স্বাধীনতা হারাবে। এটার পরিণতি হবে ভয়ানক।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘দয়া করে আপনি বাংলাদেশকে কাশ্মীর বানাবেন না। নিজের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নসাধকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যকে ভারতের জিম্মায় তুলে দেবেন না। এমনি নানাধরণের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের লোকসান হচ্ছে। এখন বাংলাদেশে বেসরকারি চাকরিখাতে ভারত আধিপত্য বিস্তার করছে। আর বাংলাদেশের লাখ কোটি শিক্ষিত বেকার পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের রক্তাক্ত আগ্রাসনের কোনও কমতি নেই। বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও এখন ভারতীয়করণ করা হচ্ছে। কৌশলে বাংলাদেশের টেলিভিশনে ভারতীয় গণমাধ্যমের সীমাহীন প্রচার-প্রসার তুঙ্গে থাকায় আমাদের হাজার বছরের ভাষা-সংস্কৃতি এখন আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের শিকার। সুতরাং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে বাংলাদেশকে উপনিবেশ বানানোর এক সুদূরপ্রসারি অশুভ পরিকল্পনার অংশ।’

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কুসিক এলাকার বর্ধিত ৯টি ওয়ার্ডে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা খুবই বেপরোয়া। সেখানকার সাধারণ ভোটারসহ বিএনপি সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্ধিত এই ৯টি ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রসহ মোট ৪৩টি ভোটকেন্দ্রকে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানকার সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ নির্বাচনি এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি, গ্রেফতার ও তল্লাশীর নামে হয়রানি অব্যাহত আছে।’

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যাপক অনিয়ম ও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুষ্পষ্ট অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেখানকার নির্বাচনি পরিবেশ এবং সিইসি’র বক্তব্যের মধ্যে কোনও মিল নেই। তবুও আমরা আশা করবো কুসিক নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, আব্দুল আওয়াল খান, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।