দ্বিতীয় পর্ব : বিএনপির ভিশন ২০৩০ সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং মতামত

0

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অখন্ডতা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে।

গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের ভিত্তি ও বিন্যাস প্রতিষ্ঠা করা হবে।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে। জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে।

মতামত:

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রক্ষাকবচের ভিত্তিগুলা হলো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, জনগণের মুল্যবোধকে গুরুত্ব এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ( সেনা, নৌ এবং বিমান) । এই তিনটি ব্যবস্থা এক সাথে কাজ করলে দেশের উন্নয়নযাত্রায় বিরাট এবং সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি বহু ঘাত – প্রতিঘাত, লড়াই সংগ্রাম এবং ইতিহাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবন্ধকতার সহিত নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শক্তিশালী সামরিক বাহিনী দেশ এবং জাতির জন্য একটি মুল্যবান সম্পদ। এই সম্পদকে দেশ এবং জাতির কল্যানে কাজে লাগাতে হলে স্বল্প এবং দীঘকালীন পরিকল্পনা নিতে হবে। আজ থেকে ৫ বছর বা ১০ বা ২০ বছর পর দেশের সামরিক বাহিনীর অবস্থান কোথায় নিয়ে যেতে যান। ধাপে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর উন্নয়ন এবং এর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থান দক্ষিন এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝিতে এই দুই অঞ্চলে মধ্যে রাষ্ট্র হওয়ার কারনে বাংলাদেশের ভূ – রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশী যেকোন বিদেশী রাষ্ট্র এই অঞ্চলে তার প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়াতে উদগ্রীব থাকবে। সেই কারনে এই প্রাধান্য কে চেক এবং খর্ব করার জন্য শক্তিশালী সামরিক বাহিনী একান্ত কাম্য। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমার বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলিয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুমকি এবং অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে বহুবার আজ অবধি এই চেষ্টা অব্যাহত আছে। বিশেষ করে বলতে হয় মিয়ানমার এবং ভারতের গোয়েন্দা এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে রেখেছে যা বাংলাদেশ তথা পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করেছে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে একমাত্র সামরিক ব্যবস্থাদির কারনে। যতদিন যাবে অবস্থা আরো কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং হবে।

বাংলাদেশের তিন পাশে উত্তর, পূর্ব এবং পশ্চিমে ভারতের সাথে সীমান্তে বলতে গেলে ভারত বাংলাদেশকে ঘিরে রেখেছে। বাংলাদেশ – ভারত সীমান্ত বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ এলাকার মধ্যে অন্যতম। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাকান্ড, চোরাচালান, মাদক দ্রব্যের অবাধ বিচরণ সহ অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে অহরহ। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থান একান্তই জরুরী। এই একবিংশ শতাব্দীতে প্রত্যেক স্বাধীন দেশের সামরিক বাহিনীর উন্নয়ন ছাড়া অন্যকোন বিকল্প নেই। বহিঃশত্রু যেনো দেশের স্বাধীন এবং স্বার্বভোমত্বকে আঘাত করতে না পাড়ে তাই সামরিক বাহিনীতে তা একান্ত জরুরী। বাংলাদেশ কে ভাবতে হবে তার নিকট তিন প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, চীন পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং মিয়ানমার পারমাণবিক শক্তি অর্জন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব ফ্যাক্টগুলা আমাদের জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়ায় সেই জন্যে নিজেদের দক্ষ্যতা, অভিজ্ঞতা বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখা একান্ত প্রয়োজন যে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক থাকলে বাইরের কেউ আমাদের দেশের প্রতি বাকাচোখে তাকাবে না, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষিত
থাকলে সামাজিক, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসবে। এই কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরন করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা একান্ত জরুরী –

সেনাবাহিনীর উন্নয়নে পদক্ষেপ :

১। সেনাবাহিনীকে আধুনিক অস্ত্রসস্ত্র ট্যাংক, সেল্ফ প্রপেল্ড গান ( SPG), আর্টিলারি গান, মেশিনগান, সাব মেশিনগান। এছাড়া দেশীয় উৎপাদিত গ্রেনেড, বুলেট সহ অন্যান্য অস্ত্রের দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা সেনাবাহিনীর চাহিদা মেটাতে পাড়ে।

২। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীর পরিধি বাড়ানো যাতে করে ক্যাডেটদের তাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি না থাকে, বিভিন্ন একাডেমিক বিষয় যেমন ইতিহাস, ভূগোল, বিভিন্ন সামরিক যুদ্ধের ইতিহাস এবং কি কৌশলসমূহ ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলা ভালোভাবে আয়োত্ত করা এবং যুদ্ধের নতুন এবং আধুনিক কৌশলগুলোকে রপ্ত করা। মিলিটারি একাডেমীর বাজেট, জনবল সহ আরো আনুষঙ্গিক বিষয় সমূহ গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা এবং বিষয়সমূহ আধুনিকতর করার জোড় চেষ্টা করা।

৩। কমিশন প্রাপ্ত এবং নন কমিশন প্রাপ্তদের বিভিন্ন কোর্স ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। কমিশন প্রাপ্ত এবং সেনাবাহিনীর উর্ধতন সামরিক অফিসারবৃন্দদের জন্য দেশে এবং বিদেশে আর্মি স্টাফ কলেজে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। এছাড়া উচ্চতর সেনা অফিসারদের জন্য বিভিন্ন আন্তঃজার্তিক নিরাপত্তা সম্মেলনে নিয়মিত পাঠানো এবং বাংলাদেশে আন্তঃজার্তিক নিরাপত্তা সম্মেলনের আয়োজন করা। যারা নন কমিশন্ড অফিসার তাদেরকেও সুশিক্ষায় এবং যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৪। সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন স্থানে পদায়ন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা।

৫। সেনাসদস্যদের নিয়ম শৃঙ্গলা কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

৬। সেনা অফিসাররা তাদের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন Extra Curriculum Activities এর উপর বিশেষ জোড় দেওয়া। একজন সেনাকর্মকর্তার ভিতরে একজন গায়ক, লেখক সহ বিভিন্ন প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সেসব প্রতিভা বের করে আনা হবে তাদের প্রতিভা বিকাশনের যথার্থ ব্যবস্থা সাধন করা। বিভিন্ন খেলাধুলা আয়োজন করা সেনাবাহিনী বিভিন্ন রেজিমেন্ট, ডিভিশন এমনকি আন্তঃ বাহিনীর মধ্যে প্রতিযোগীতা আয়োজন করা।

৭। সেনাবাহিনী কে দেশপ্রেম এবং নিজেদের গৌরব্বোজ্জল ইতিহাস সবসময় স্মরণ করা।

নৌ বাহিনী শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়া :

১। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক সাবমেরিন, ফ্রিগেট, পেট্রোল বোট, টরপিডোর ব্যবস্থা করা। সমুদ্রের নিরাপত্তার জন্য সাবমেরিন ফ্লিট তৈরি করা।

২। নৌ অফিসারদের জন্য উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৩। নৌ বাহিনীর জন্য আলাদা বিশেষ নৌ প্রশিক্ষণ একাডেমী প্রতিষ্ঠিত করা।

৪। গভীর সাগরে নাবিকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৫। আন্তঃজার্তিক সমুদ্র আইন সম্পর্কে নৌবাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে অবহিত করা।

বিমান বাহিনী শক্তিশালীকরণ প্রক্রিয়া :

১। বিমান বাহিনীর জন্য আধুনিক জঙ্গী, ফাইটার যুদ্ধ বিমান ব্যবস্থা করা, অত্যাধুনিক রাডারকেন্দ্র, আধুনিক মিশাইল ডিফেন্স সিস্টেম, অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান, মিশাইল, হেলিকপ্টার, আধুনিক প্রশিক্ষণ বিমানের ব্যবস্থা করা।

২। বিমান বাহিনীর জন্য আলাদা ফ্লাইং স্কুল, একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা।

৩। বিমান বাহিনীর পাইলটদের জন্য বিদেশে অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৪। বিমান বাহিনীর অফিসার এবং এনসিও কর্মকর্তাদের জীবনমানের ব্যবস্থা উন্নতিকরণে করতে যথার্থ পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

 

লেখা

আমিনুর রহমান(Aminur Rahman)